২১ অক্টোবর ২০১৯

ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সেই গ্রেটা থুনবার্গ

গ্রেটা থুনবার্গ
গ্রেটা থুনবার্গ - ছবি : সংগৃহীত

কিশোর বয়সেই অত্যন্ত সচেতন। আর সেই সচেতনতা শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখেনি বছর ষোল সুইডিশ কিশোরী। পরিবেশ বাঁচানো, জলবায়ু পরিবর্তন রোখার বার্তা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে বিশ্বভ্রমণে। জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে নিজের মতো করে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দেয়ার পর, এখন সকলের মুখে মুখে ফিরছে একটাই নাম – গ্রেটা থুনবার্গ। কিন্তু বিশ্বখ্যাত হওয়া গ্রেটা আপাতত ভারী বিরক্ত। তার বার্তায় কান দিয়ে কেউ পরিবেশ নিয়ে সচেতন হচ্ছেন না, শুধু এটাই তার বিরক্তির কারণ নয়। গ্রেটার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি চর্চা হচ্ছে। তাতেই রেগে গেছে সে। টুইট করে সে উগরে দিয়েছে ক্ষোভ।

১৬ বছরের মেয়েটি টুইটারে লিখেছে, “নিন্দুকরা ইদানিং আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমার পিছনে লেগে পড়েছে। আমার চেহারা, আমার জামাকাপড়, আমার আচার-আচরণ এসব নিয়েই আলোচনা চলছে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ নিয়ে কোনো কথা নেই।” তার মতে, আসল বিষয়টি থেকে নজর ঘোরাতেই গ্রেটাকে নিয়ে এমন ঠাট্টা, বিদ্রূপ চলছে। তবে এসবে তার কিছু যাচ্ছে, আসছে না। ষোড়শী তার লড়াই জারি রেখেছে। শুক্রবারই সে কানাডার মন্ট্রিল শহরে কার্বন ব্যবহারে কমানোর দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে।

তবে গ্রেটা থুনবার্গের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এসব আলোচনা খুব অস্বাভাবিক নয়। পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিয়ে সে ইতিমধ্যেই বড়দের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। এমনকী নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়েও অনেকটা এগিয়ে। এই বয়সেই এমন প্রভাব, অনেককেই বিস্মিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে কটাক্ষ করেছেন। আর সুইডিশ টেলিভিশনের বসে সেই কটাক্ষ শুনতে শুনতে কিশোরী গ্রেটা শুধুই হেসেছে আর বলেছে, ‘জানতাম, উনি আমাকে নিয়ে কিছু বলবেন।’

বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রে দারুণ দারুণ সব লেখা হচ্ছে পরিবেশ সচেতন সুইডিশ কিশোরীকে নিয়ে। সেসব চোখে পড়েছে গ্রেটারও। কিন্তু তারপরও তার মনে হয়েছে, পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত তার আসল যে সচেতনতার বার্তা, তাকে পাশে সরিয়ে গ্রেটার ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষ বেশি উৎসাহী। এখনই তার মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এই ভেবে যে তার বার্তা থেকে প্রকৃত কোনও কাজ হচ্ছে না। যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে তা শুধু গ্রেটার কাছেই নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই হতাশাজনক তো বটেই, এমনকী লজ্জাজনকও।

 


আরো সংবাদ