১৬ জুলাই ২০১৮

ইংলিশদের স্বপ্নভঙ্গ ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ইংল্যান্ড ১-২ ক্রোয়েশিয়া
পেরিসিকের ব্যাকহেডে মানজুকিচের প্লেসিং শটে জয়সূচক গোল করে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া : এএফপি -

ইতিহাস বলছে, ইংল্যান্ডের সাথে আগের সাতবারের দেখায় চারবারই হেরেছে ক্রোয়েশিয়া। তারা জিতেছে দু’টি, একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। ক্রোয়েশিয়ার দুই জয়ের সবশেষটি আজ তাদের জন্য ছিল অনুপ্রেরণার। ২০০৭ সালের নভেম্বরে লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে ২০০৮ ইউরোতে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড। চলতি বিশ্বকাপে আবারো ইংল্যান্ডকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিলো ক্রোয়েটরা। অভিজ্ঞ ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ১০৯ মিনিটে মানজুকিচের প্লেসিং শটে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করল ক্রোয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্ম। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। ১৫ জুলাই শিরোপা লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
তারকা ভরপুর ও গতিময় আক্রমণে সজ্জিত হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে নজর ছিল অধিনায়ক এবং প্রাণভোমরা লুকা মদ্রিচের ওপর। শরণার্থী শিশু থেকে ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দলের অধিনায়ক হওয়া লুকা মদ্রিচের ফুটবলে উত্থান হার মানিয়েছে সিনেমার কাহিনীকেও। ফুটবল মাঠে আক্রমণ করা বা আক্রমণে বল জোগান দেয়া উভয় েেত্রই ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়ক মদ্রিচ খুব একটা পিছিয়ে নেই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মদ্রিচের। বিশ্বকাপে একেবারে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাঠে তার গতি, স্কিল, পাসিং একুরেসি সবকিছু খুবই প্রশংসনীয়। পেনাল্টি বা ফ্রি-কিকেও রয়েছে চোখ ধাঁধানো দতা। মদ্রিচের সাথে র‌্যাকিটিচ, মানজুকিচ নামগুলো প্রতিপক্ষের ত্রাস হিসেবে কাজ করেছে।
ট্রিপায়ারের গোলে ম্যাচের ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ল্যভেদ করতে পারেনি মদ্রিচরা। দেলে আলিকে ডি বক্সের বাইরে ফাউল করায় ২০ গজ দূর থেকে পঞ্চম মিনিটে ফ্রি-কিক পায় ইংল্যান্ড। কিরিন ট্রিপিয়ারের ডানপায়ের বাঁকানো শটে কিছু করার ছিল না ক্রোয়েশিয়ার গোলরক সুবাসিকের। জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করে শুরুতেই লায়ন্সদের থউল্লাসে ভাসান ট্রিপিয়ার (১-০)। গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ সৃষ্টি করেছিল ক্রোয়েশিয়া। ১৪ মিনিটে মাগুইরির হেড বার পোস্ট ঘেঁষে বাইরে না গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করত ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জটলা থেকে হ্যারিকেন দুই দফায়ও বল জালে পাঠাতে পারেননি। ৭, ১২, ১৮, ২৫, ৩৩ ও ৩৫ মিনিটে সমতায় আসার দারুণ সুযোগ নষ্ট করে ক্রোয়েটরা। তন্মধ্যে ৩৫ মিনিটে লিংগার্ডের বল বারে না লাগলে এবং ৩১ মিনিটে রেবিকের পরপর দু’টি শট ডিফেন্ডার ওয়াকার ও কিপার পিকফোর্ড না ফিরলে ফলাফল হতে পারত ভিন্ন। এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে আরো বেশি পরিণত মদ্রিচ বাহিনী। আক্রমণের পর আক্রমণে নাভিশ্বাস হয়ে উঠে ইংল্যান্ড। তবে পাল্টা আক্রমণে যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠে ইংলিশরা তখন একটু রক্ষণাত্মক ভূমিকায়ই যায় ক্রোয়েটরা। অবশ্য গোলমুখে সহজ সুযোগ পেয়েছিল কেনÑ স্টারলিংরা। যেটি কাজে লাগাতে পারেনি ফরোয়ার্ডরা। ৬৫ মিনিটে ডি সীমানা থেকে মদ্রিচের আচমকা শট রুখে দেয় ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওয়াকার। ৬৮ মিনিটে ভুল করেন না পেরিসিক। ভারসালাজকো বলটি তুলে দেন ডি সিমানায়। সেখানে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে বেরিয়ে পেরিসিক পায়ের টোকায় বল পাঠান জালে (১-১)। পরের ১০ মিনিট শুধুই ক্রোয়েশিয়ার। রেবিক-পেরিসিক-মদ্রিচ এক ধরনের ছেলেখেলাই খেলে ইংলিশদের নিয়ে। শুধু ভাগ্য সহায় হয়নি বিধায় দু’টি গোল বঞ্চিত হয় ক্রোয়েটরা। ৭৭ মিনিটে লিংগার্ডের একটি প্লেসিং শট ধরতে পারেনি হ্যারিকেন। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পুরো ধরে খেলেছে মদ্রিচরা। কিন্তু গোল করতে না পারলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের প্রধমার্ধেও ছিল সমতায়। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের একই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ১০৯ মিনিটে পেরিসিকের ব্যাক হেডে পেনাল্টি সীমানায় বল পেয়ে বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে বোকা বানান ইংলিশ কিপার পিক ফোর্ডকে (১-২)। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠার আনন্দে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।


আরো সংবাদ