২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত ১১

অন্যান্য স্থানে আরো ১০ জনের প্রাণহানী
-

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেবাহী একটি মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বর-কনেও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হন ওই মাইক্রোবাসের আরো পাঁচ যাত্রী। এ ছাড়া গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন আরো ১০ জন।
সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া সংবাদদাতা জানায়, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলপে ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর কনেসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- বর কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন শেখ, কনে উল্লাপাড়া উপজেলার মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন, মাইক্রোবাসের চালক স্বাধীন, বর-কনের সাথী শরীফ, মুসা, টুটুল, খোকন, বায়জিদ, মমতাজ, আহাদ আলী ও ভাষা। এদের মধ্যে মমতাজ শিশুকন্যা। আহাদের পিতার নাম সুরজ আলী ও ভাষার পিতার নাম মহিরউদ্দিন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রাম থেকে একটি মাইক্রোবাস বরযাত্রী নিয়ে উল্লাপাড়ার চর ঘাটিনা গ্রামে গিয়েছিল। বিয়ে শেষ করে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মাইক্রো বাসটি উল্লাপাড়া-ঢাকা রেলপথের সলপ অরক্ষিত রেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সাথে আটকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ে। এ সময় ট্রেনের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বর কনেসহ মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হয়। দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের উদ্ধার করে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান কওশিক আহমেদ ও সলপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে চলে যায়।
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে দু’টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক পিকআপের তিন আরোহীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার বলদিয়া গ্রামের মোস্তফা খানের ছেলে পিকআপচালক হাসান খান (১৯), ওই পিকআপের হেলপার একই গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে নাঈম মাঝি (১৮) ও লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্দা থানার দৈখাওয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছেলে সামিঊল মিয়া (১৬)। অপর ঘটনায় নিহত হন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনা বাউপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম কাজল (৪৫)। নজরুল ইসলাম স্থানীয় কোনাবাড়ি এলাকাস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রæপের পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
জিএমপির সদর থানার এসআই ইমতিয়াজুর রহমান ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গত সোমবার সকালে ডিমের কেস বহনকারী একটি পিকআপ শ্রীপুর যাচ্ছিল। পিকআপটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মাস্টারবাড়ি এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় পিকআপটি মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক হাসান খানসহ হেলপার নাঈম মাঝি ও সামিঊল মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে এবং গাড়ি দু’টি জব্দ করে।
এ দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কড্ডা এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় কাশিমপুরগামী পুলিশের একটি প্রিজনভ্যানের ধাক্কায় নজরুল ইসলাম কাজল গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় তিনি নলজানীর গ্রেটওয়াল সিটির বাসা থেকে কোনাবাড়ি এলাকায় তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাতে তিনি মারা যান।
মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, যশোরের মণিরামপুরে বাবার নতুন কেনা মোটরসাইকেল কেড়ে নিলো মেয়ে তাসপিয়ার (৫) জীবন। এ ঘটনায় চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার গালদা খড়েঞ্চী গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তাসপিয়া গালদা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদের মেয়ে। ঘটনার সময় চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম মোটরসাইকেলে ছোট বোন তাসপিয়াকে (৫) নিয়ে ঘুরতে বের হন। এ সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পিচের উপর আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই বোন তাসপিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত সাইফুলকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ সিধলা এলাকায় লড়ির চাপায় পিষ্ট হয়ে সাহেরা খাতুন (৫০) নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। গত রোববার সকালে রাস্তা পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফকিরহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাটের মূলঘর নামক স্থানে গতকাল ভোর সাড়ে ৩টার দিকে মংলা থেকে আসা টাওয়া করার মালামাল বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ট্রাকের ড্রাইভার নিহত হন। নিহত ট্রাক ড্রাইভারের নাম কামাল শেখ (৩৫)। তার বাসা খুলনার মিস্ত্রিপাড়ার নুরনগর এলাকায় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার শামীম হাসানকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইল শহরের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত রোববার রাতে সখীপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আল আজাদ (৫৫) নিহত হয়েছেন।
এলেঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা জানান, আলাউদ্দিন আশেকপুর বাইপাস এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আলাউদ্দিন আল আজাদ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন সানবাড়ি গ্রামের মৃত সোহরাব আলী মিয়ার ছেলে।
বাস চাপায় নারী নিহত : একই দিন বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফৈ এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় নিলুফার জাহান (৩৭) নামে এক নারী বাসচাপায় নিহত হন। তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গৌড়াই নাজিরপাড়া এলাকার মৃত সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী।
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মো: জুলহাস (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলার জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুলহাসের বাড়ি গজারিয়ার হোসেন্দি বাজার এলাকায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: কবির হোসেন খান জানান, সারারাত পাথর শ্রমিকের কাজ শেষে সকালে বাড়ি ফিরছিলেন জুলহাস। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হতে গেলে ঢাকামুখী একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানের চালক পালিয়ে গেলেও হেলপার রাসেলকে (২৫) আটক করা হয়। রাসেল ফরিদপুর জেলার রনকাই গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তিনি আরো জানান, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।


আরো সংবাদ