১৯ আগস্ট ২০১৯

‘৬ না ৫ রান’ নিয়ে তুমুল বিতর্ক বিশ্বকাপ শিরোপা বঞ্চিত করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে!

-

চাইলেও বিতর্কমুক্ত থাকতে পারছে না আইসিসি! গত বিশ্বকাপেও তাদের কিছু সিদ্ধান্তে ঝড় বয়ে যায়। সেটা ছিল ম্যাচের পরের ঘটনা। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে তুলে দেয়ার কথা, আইসিসির যিনি চেয়ারম্যান তার। বিগত সময়ে তাই হয়ে আসছে। সেটা না হয়ে ওই আসরে আইসিসির চেয়ারম্যানকে (আ হ ম মোস্তফা কামাল) যেতেই দেয়া হয়নি মাঠে! অনেক সমালোচনা হয় ফাইনাল শেষে। এবারো ফাইনাল শেষে উত্তপ্ত ক্রিকেট বিশ্ব আরেক ঘটনায়। সেটা অবশ্য খেলার মধ্যের এক ঘটনা। আম্পায়ার কর্তৃক ভুল সিদ্ধান্তে নিউজিল্যান্ড বঞ্চিত। অথচ আইসিসির নিয়ম মানা হলে নির্ধারিত সময়েই জিতে যায় নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারের আর প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু কিভাবে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ও দক্ষিণ আফ্রিকান মারাইজ ইরাজমাসের নির্বোধের মতো দেয়া এক সিদ্ধান্তে ইংল্যান্ড টাই করতে সক্ষম হয় নির্ধারিত সময়ের ম্যাচে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ১৪ করলে টাই। ট্রেন্ট বোল্ট ওই ওভারের প্রথম দুই বলে কোনো রান দেননি। চাপটা আরো বেড়ে যায় ইংল্যান্ডের ওপর। তৃতীয় বল ঝুঁকি নিয়ে শট খেলে ছক্কা হাঁকান বেন স্টোকস। চতুর্থ বলে ঘটে নাটকীয় ওই ঘটনা। স্টোকস আবার হাঁকান। কিন্তুএবার বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করেন মার্টিন গাপটিল। স্টোকস ও আদিল রশিদ এক রান নিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ঘটে ওই বিতর্কিত ঘটনা। রান শেষ করতে যেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্টোকস। ফিল্ডিং করা বল লাগে স্টোকসের ব্যাটে। এবং বল পার হয়ে যায় সীমানা। এখন কত রান হবে এখানে? দুই আম্পায়ার মিলে কিছুক্ষণ আলোচনা করে দেন ৬ রান। দুই রান দৌড়ে নেয়ার সাথে বাউন্ডারি পার হওয়া চার। কিন্তু আইসিসির নিয়ম কিন্তু এমনটা না। বল ফিল্ডিংয়ের পর ওভার থ্রো বা কোনোভাবে যদি এক্সট্রা রান আসে (যা ব্যাটসম্যান দৌড়ে নেননি) তাহলে ওই রান যোগ হবে দৌড়ে রান নেয়ার সাথে। যেহেতু দ্বিতীয় রান নিতে যাওয়ার আগেই থ্রো হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় রানটা আইসিসির নিয়মে আর হয়ই না। ফলে আইসিসির নিয়মে ওই বলে রান হয় ৫। ৬ তো মোটেই না। কিন্তু আম্পয়াররা কিছুটা হিসাব-নিকাশ করে দিয়ে দিলেন ৬!
নিউজিল্যান্ড নিছক ভদ্র ক্রিকেটার, তাই এটা নিয়ে হইচই করেনি। ভারত বা অন্য দেশ হলে খেলাই বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু কখনো কখনো ভদ্রতা প্রত্যাশিত মার্কে যেতে প্রতিকূলতার সৃষ্টি করে। নিউজিল্যান্ডের বেলায়ও ঘটল তা। শেষ দুই বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন তিন রানের। বোল্ট ও রশিদ মিলে এক রান নেয়ার পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট পঞ্চম বলে। শেষ বলে প্রয়োজন ২ রান। এবারো এক রান নিয়ে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মার্ক উড হয়ে যান রান আউট। ফলে ম্যাচ হয়ে যায় টাই। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আম্পায়ার যদি ওই বাড়তি একটি রান না দিতেন ইংল্যান্ডকে তাহলে ইংল্যান্ডের স্কোর যেয়ে থামত ২৪০-এ। তার মানে ১ রানে জিতে যেত নিউজিল্যান্ড। হয়ে যেত তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কিন্তু ওই ‘এক’ রানের জন্যই খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। এবং সেখানেও টাই হওয়ার ফলে ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোর নিয়মে ইংল্যান্ড জিতে যায় বিশ্বকাপ।
এ বিষয়টি নিয়ে গতকাল সামাজিক গণমাধ্যমে ঝড় বয়ে যায়। আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়াররা কি সজ্ঞানে ওই রান দিয়েছিলেন না আইসিসির ফরমায়েশে ওটা করেন? এ ব্যাপারে আইসিসির সাবেক এলিট প্যানেলের আম্পায়ার সায়মন টাফেল তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দ্য এজ ও সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে তিনি বলেন ওই কথা। ২০১৫ সালে আইসিসির আম্পায়ার ম্যানেজারের পদ থেকে পদত্যাগ করা এ অস্ট্রেলিয়ান বলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের ওই ঘটনা আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্ত। এমসিসির আইনবিষয়ক সাব কমিটিতে কাজ করা রত সাবেক এ আম্পয়ার বলেন, ‘ইংল্যান্ড ওই সময় ৫ রান পায়। মোটেও ৬ রান নয়। এটা আম্পায়ারদের পরিষ্কার ভুল সিদ্ধান্ত।’ এ ব্যাপারে তিনি আইসিসির ওভার থ্রো থেকে রান আসা সংক্রান্ত নিয়ম ১৯.৮টাও মনে করিয়ে দেন। কিন্তু ভুল তো ভুলই। তা ইচ্ছাকৃত হতে পারে অনিচ্ছাকৃতও। টাফেল আরো বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো কনফিউজ থাকলে ফিল্ড আম্পাররা অব্যশই টিভি আম্পয়ারের সহায়তা নিতে পারতেন। টিভি আম্পায়ার রিপ্লে থেকে আইসিসির নিয়মানুসারে যেটা সেটাই সাজেশন দিতেন নিশ্চয়ই। কিন্তু সে সহায়তাও চওয়া হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই উচিত না। যে ম্যাচের রেজাল্টের জন্য ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের সাথে আম্পায়ারদেরও ভূমিকা রাখতে হলো।’ আম্পায়ারদের এ ভুল নিয়ে আইসিসি সব সময় নিশ্চুপ। কোনো শাস্তি হলে সেটা গোপনই থাকে। কারণ আম্পায়ারদের ওপর যদি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পায় এ জন্যই। তাতে নিউজিল্যান্ডের শিরোপা তো আর ফেরত আসবে না। ওটা ইংল্যান্ডের হয়ে গেছে, ইংল্যান্ডেরই থাকবে এটাই বাস্তব।

 


আরো সংবাদ