২৬ আগস্ট ২০১৯

মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশের সৌজন্য সাক্ষাৎ : স্টার মেইল -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে গতকাল বলেছেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া অবশ্যই শুরু করতে হবে। আমরা আর কতদিন এ বোঝা বহন করব? রোহিঙ্গাদের যত তাড়াতাড়ি প্রত্যাবাসন করা হবে, তা সবার জন্য হবে মঙ্গলজনক।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি-এনিক বুর্দিন গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণসহ মিয়ানমারের ভেতরে কাজ করতে হবে।
কক্সবাজারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সংখ্যা স্থানীয়দের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে।
জবাবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত তার দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সহায়তা শুরু করেছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’
তবে মারি-এনিক বুর্দিন বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারের অবস্থা রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল নয়।
রাষ্ট্রদূত জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ফ্রান্সের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণে খুবই দায়ী হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম।
তিনি বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তার সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে একটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ট্রাস্ট তহবিল গঠন করেছে।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমরা উপকূলীয় একটি সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলব।’
শেখ হাসিনা বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে সফলভাবে তার দায়িত্বের মেয়াদ সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন বাংলাদেশের জনগণ ও কর্মকর্তারা খুবই আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য মো: নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ : ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রেসসচিব বলেন, বৈঠকে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দেশের মধ্যে নৌপথের কানেকটিভিটি বাড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো: নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ