২৩ আগস্ট ২০১৯

অপহরণের মামলা নিচ্ছে না থানা কিশোরগঞ্জে ইউপি মেম্বারকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়

-

কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ইটনা উপজেলার এক ইউপি সদস্যকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গেটের কাছ থেকে শত শত মানুষের সামনে অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে মারপিট করে তার স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ইউপি সদস্যের এক আত্মীয় অপহরণকারীদের কাছে বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠালে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
অপহরণের শিকার ওই ব্যক্তির নাম মো: জসিম উদ্দিন (৩৩)। তিনি ইটনা উপজেলার ৮ নম্বর জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। তিনি একটি মামলার কাজে বুধবার কিশোরগঞ্জ আদালতে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় অপহরণকারী দলের এক সদস্যকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক ও তার কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা উদ্ধার করা হলেও গত দুই দিনেও পুলিশ অপহরণের মামলা নেয়নি।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় একটি অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অপহরণের শিকার ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জসিম জানান, একটি মামলার কাজে বাড়ি থেকে বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরে এসে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অটোরিকশা করে কিশোরগঞ্জ আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। অটোরিকশাটি আদালতের অদূরে হাসপাতালের গেটের সামনে আসা মাত্রই অস্ত্র হাতে ১০-১২ জনের একটি দুর্বৃত্ত দল তার অটোরিকশাটিকে ঘিরে ফেলে। অস্ত্রধারীরা আগে থেকেই টার্গেটে রাখা জসিম উদ্দিনকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে অন্য একটি অটোরিকশাতে তোলে। এ সময় জসিম অপহরণকারীদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করলে শত শত লোক এসে সড়কে ভিড় জমান। তবে অপহরণকারীদের হাতে অস্ত্র থাকায় কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
এ সুযোগে জসিম উদ্দিনকে নিয়ে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে চোখ বেঁধে সদর এলাকার মাইজখাপন ইউনিয়নের নীলগঞ্জ এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনের কাছে থাকা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ওপ্পো ব্র্যান্ডের এনড্রয়েড একটি মোবাইল সেট অপহরণকারীরা নিয়ে নেয়। পরে ওই ফোন থেকেই বাড়িতে ফোন করে টাকা মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা চাইতে বলা হয় জসিমকে। অপহৃতের পরিবারের লোকজন মুক্তিপণের এ টাকা দিতে দেরি করায় তারা জসিমকে মারধর করে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বর ০১৯২৭৮৭০৫৬৭-এ জসিম উদ্দিনের এক ব্যবসায়ী বন্ধুর মাধ্যমে তার পরিবারের লোকজন ২০ হাজার টাকা পাঠালে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জসিমকে মুক্তি দেয়া হয়।
জসিম জানান, মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়ে বুধবার রাতে অপহরণ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় তিনি মামলা করতে গেলে থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমদাদুল হক সজল (৩২) নামে অপহরণকারী দলের এক সদস্যকে শহরের গাইটাল এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে মুক্তিপণের ২০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। সজল কিশোরগঞ্জ সার্ভেয়ার সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মো: হাবিবুর রহমানের ছেলে। সজল আটক হওয়ার পর হাবিবুর রহমান ছেলেকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য শহরের প্রভাবশালী কয়েক নেতাকে নিয়ে বার বার থানায় আসছেন।
জসিমউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘প্রভাবশালীদের চাপে পুলিশ ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে না দেখে সাধারণ চুরির মামলা নিতে চাচ্ছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এসেছি। দেশের আইন অনুযায়ী আমি ন্যায়বিচার চাচ্ছি। পুলিশ অপহরণকারী দলের একজনকে আটক করেছে, অপহরণের সব আলামত পেয়েছে। অপহরণকারীরা আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। তারপরও পুলিশ ঘটনাটিক চুরি হিসেবে দেখছে। পুলিশ বলছে, টাকা উদ্ধারের বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা যাবে না। মামলা নিতে হলে চুরির মামলা নেয়া যাবে।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মামলা নিতে হলে তো সাক্ষ্য-প্রমাণ লাগবে। তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না।’ তার অভিযোগের ভিত্তিতে আপনারা তো বিকাশে নেয়া মুক্তিপণের ২০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন? Ñএমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘টাকা কেন নেয়া হয়েছে, কী কারণে নেয়া হয়েছে, এ বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’


আরো সংবাদ