২৩ আগস্ট ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনে কাদের দুর্নীতি দুর্নীতিই দ্বিতীয় কোনো ব্যাখ্যা নেই

-

দুদকের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখতে চাই। করাপশন ইজ করাপশন। আপনি করাপশন করবেন, অনিয়ম করবেন এটাকে করাপশন হিসেবে দেখতে হবে। এর দ্বিতীয় কোনো ব্যাখ্যা নেই। দুর্নীতিকে সরকার দুর্নীতি হিসেবেই দেখবে।
গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুদকের চেয়ারম্যান দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাস বলতে কী বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। এখন সরল বিশ্বাস বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়টি তার কাছে আমার জানতে হবে। তবে দুর্নীতি দুর্নীতিই, কারো কম, কারো বেশি।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোনো অপরাধ নয়। তবে প্রমাণ করতে হবে যে সরল বিশ্বাসেই কাজটি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, করাপশন এখন সারা দুনিয়াতে হচ্ছে। কোথাও বেশি, কোথাও কম। কোথাও দুর্নীতিকে বেশি করে দেখানো হয়। এখানে পলিটিক্যালি মোটিভেটেড বিষয় আছে যে, আমি কাউকে পছন্দ করি না, তাই তাকে ঢালাওভাবে করাপটেড বলে সাব্যস্ত করি। এটা দেশে দেশে আছে, এটা ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্সের একটি ধারা।
মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট করছে সরকারÑ বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা তো কোনো দিন উন্নয়ন করেনি। উন্নয়নের রোল মডেলের কী বুঝবেন ফখরুল সাহেবরা। ওনারাতো কালো চশমা পরেন। এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না। তিনি বলেন, তারা নির্বাচনী ইশতেহারে যে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছিল, সেটা তো এখন ডিপ ফ্রিজে ঢুকে গেছে। তাদের নিজেদের ভিশন যেখানে ডিপ ফ্রিজে, সেখানে তারা অন্যদের উন্নয়ন কিভাবে দেখবে? অপর এক প্রশ্নের জবারে মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। বিএনপি তো বরিশালে জনসভা করেছে। তাদের কোথাও বাধা দেয়া হচ্ছে না। বিএনপি এমন একটি দল, যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। তারা শুধু নালিশ আর অভিযোগ করতে পারে। কর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য মাঝে মধ্যে এমন কথা তারা বলে।
সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে আওয়ামী লীগ সচেতনতামূলক কোনো কার্যক্রম হাতে নেবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের গত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রত্যেকেই খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছেন। সত্যকে চাপা দেয়া যায় না, যা সত্য তা আমরা আলোচনা করেছি। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা স্টেপ নিতে শুরু করেছি, প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে বলে গেছেন, পানিসম্পদ, নৌপরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রীসহ যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের নিয়ে টিম করতে হবে, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দলীয় শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দিয়ে যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন তাদের শোকজ করা হবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের শোকজের জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে আগামীকাল (আজ) দলের যৌথ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।


আরো সংবাদ