১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

কাশ্মির : পাকিস্তানকে চীনের ও ভারতকে রাশিয়ার সমর্থন

-

কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। অন্য দিকে রাশিয়া সমর্থন করেছে ভারতকে। রাশিয়া বলেছে, ভারত যা করেছে তা তাদের সংবিধানের কাঠামোর অধীনে করেছে। শুক্রবার এই দুটি দেশ তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। চীন বলেছে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন বিরোধপূর্ণ এই সমস্যা অবশ্যই যথাযথ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হতে হবে। তা হতে হবে জাতিসঙ্ঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ির সাথে আড়াই ঘণ্টার বেশি কথা বলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। এ সময় ওয়াং য়ি বলেছেন, ভারতের সাথে কাশ্মির নিয়ে যে বিরোধ তাতে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে বেইজিং।
কাশ্মির ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। তারই অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করেন শাহ মাহমুদ কুরেশি। গত সপ্তাহে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই একতরফাভাবে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার। এর ফলে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ কারফিউ জারি করে কাশ্মিরের মানুষজনকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। সেখানে কী ঘটছে তা দেখতে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারছে না। ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মির। এতে সবচেয়ে কড়া নিন্দা জানায় পাকিস্তান। এরই মধ্যে তারা ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার অজয় বিসারিয়াকে বহিষ্কার করেছে। স্থগিত করেছে ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন শাহ মাহমুদ কুরেশি। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কাশ্মিরে সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য সত্যিকারেই উদ্বিগ্ন বেইজিং। এ ইস্যুতে একতরফাভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক আমল থেকেই কাশ্মির একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। জাতিসঙ্ঘ সনদ, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে এ সমস্যার একটি যথাযথ ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত। চীন বিশ্বাস করে, একতরফা সিদ্ধান্তে এই পরিস্থিতি আরো জটিল হবে, যা হতে দেয়া উচিত হবে না।
কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপ ঘোষণার পর এটাই প্রথম সুস্পষ্ট ঘোষণা চীনের। এর আগে বেইজিং শুধু ভারতের সাথে লাদাখ অঞ্চলে তাদের বিরোধের বিষয় উল্লেখ করেছিল। স্বল্প সময়ের নোটিশে এভাবে সাক্ষাৎ করার জন্য চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কুরেশি। তিনি কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পর্যবেক্ষণ, অবস্থান এবং তাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চীনকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে পাকিস্তানের বন্ধু চীন। এই দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব অটুট। কুরেশি আশা করেন কাশ্মির ইস্যুতে ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেবে চীন।
ওদিকে রাশিয়া সমর্থন দিয়েছে ভারতকে। তবে তারা সতর্ক করেছে জম্মু ও কাশ্মিরের মর্যাদা পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত দিল্লি নিয়েছে তার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিকপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটুক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে- এমনটা প্রত্যাশা করে না মস্কো। এ ছাড়া তারা বলেছে, কাশ্মির ইস্যুতে ভারত যা করেছে তা তাদের সংবিধানের আওতায় করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আশা করি ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণার অধীনে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এই মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলা উচিত।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে, মস্কো মনে করে কাশ্মির নিয়ে ভারতের নতুন সিদ্ধান্ত দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব হবে। দুই দেশই দেখবে কাশ্মিরবাসীর যেন কোনো সমস্যা না হয়। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে, ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে দূত পাঠিয়ে কাশ্মির নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকেও ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানানো হয়েছে।


আরো সংবাদ