১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
হজের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা

-

আগামীকাল ১০ জিলহজ সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা, কোরবানির ঈদ। ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিমের আ: ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এ ঈদ। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনে নিজের প্রিয় বস্তুকে কোরবানি দেয়ার প্রস্তুতির শিক্ষাই এ ঈদের শিক্ষা।
ঈদুল আজহার সাথে সম্পর্ক রয়েছে পবিত্র হজের। গতকাল শনিবার পবিত্র নগরী মক্কার অদূরে আরাফার ময়দানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান হজ পালন করেছেন।
গত শুক্রবার পবিত্র হজের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন খতিব শাইখ ড. মুহাম্মদ ইবনে হাসান। খুতবায় তিনি সঠিক ইসলামের পথে মুসলিমদের ফিরে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেছেন।
১৯৮১ সাল থেকে আরাফার ময়দানের খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইমাম শাইখ আবদুল আজিজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে গেছেন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা দেন শাইখ আবদুর রহমান আস-সুদাইস। ২০১৮ সালে আরাফার ময়দানে হজের খুতবা দেন বিচারপতি শাইখ হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান।
এবারের হজের খুতবায় হারামাইন শরিফাইনের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আহ্বান জানিয়ে খতিব সৌদি রাজপরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজসহ রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেছেন।
এবারের হজের খুতবায় মুসলমানদের আমল পরিশুদ্ধ করার প্রতি বিশেষ জোর দেয়া হয়। পারস্পরিক আচরণ, লেনদেন পরিশুদ্ধ করার তাগিদ দেয়া হয়। আমলের ত্রুটির কারণে মুসলিমরা দুর্যোগের শিকার হবে এমন সতর্কতাও দেয়া হয়।
কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন উদ্ধৃতি উল্লেখ করে মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মতো জীবন গঠনের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়। পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনকে জীবনের পাথেয় বানাতে বলেন খতিব।
সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খুতবায় বলা হয়, সৃষ্টির প্রতি দয়ার্দ্র হলে আল্লাহ তার প্রতি দয়াশীল হবেন। এতে ধৈর্য ধারণের ফজিলত বর্ণনা করে বলা হয়, এক মুমিন আরেক মুমিনের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে আল্লাহর রহমত অর্জিত হবে। খুতবায় মুসলমানদের জাকাত আদায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে বলা হয়। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হতেও আহ্বান জানানো হয়।
খুতবার শেষ দিকে হজের আহকাম জানিয়ে দেন খতিব। মুসলমানদের ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করেন।
খুতবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। খুতবার পরপরই মসজিদে নামিরায় এক আজানে জোহর ও আসরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন। সূর্যাস্তের পর তারা মাগরিবের নামাজ না পড়ে রওনা করেন মুজদালিফার উদ্দেশে। সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে রাত যাপন করেন।
আজ ফজরের পর হাজিরা রওনা করবেন মিনার উদ্দেশে। সেখানে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন। শয়তানকে পাথর মারবেন। এছাড়া বায়তুল্লায় গিয়ে তওয়াফ করবেন।
মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে ঈদুল আজহা অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম আ: ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইলের আ: সাথে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম আ: স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে সাথে সাথে পুত্র ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি করার নির্দেশ আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিমের আ: সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামী শরিয়তে। সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করার আনন্দ থেকেই পালিত হয় ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এ ঈদ উদযাপিত হয়।
ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের সূরা কাউসারে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়–ন এবং কোরবানি করুন।’ সূরা হজে বলা হয়েছে, ‘কোরবানি করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নিদর্শন।’ কোরবানির মূল উদ্দেশ্যই তাকওয়া বা খোদাভীতি। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘এগুলোর গোশত আমার কাছে পৌঁছায় না। কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’ রাসূল সা: বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ অন্যত্র বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি দিলো না সে যেন আমার ঈদগাহে না যায়।’
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, পৃথিবীতে মানব জাতির সূচনা থেকেই কোরবানির প্রচলন রয়েছে। হজরত আদম আ:-এর দু’পুত্র হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কোরবানি দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে কুরআনে এসেছে, ‘আপনি তাদেরকে আদমের দু’পুত্রের বাস্তব অবস্থা পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়ে কিছু কোরবানি করেছিল। তখন তাদের একজনের কোরবানি গৃহীত হয়েছিল এবং অপরজনেরটি গৃহীত হয়নি।’ (সূরা মায়েদা-২৭)।
তবে ইসলামে যে কোরবানির বিধান তা হজরত ইব্রাহিমের আ: সাথে সম্পর্কিত। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে সে ঘটনা ঘটেছিল। ৮৫ বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে সন্তান দান করেন। আবার আল্লাহর পক্ষ থেকে সে সন্তানকেই কোরবানি করার নির্দেশ এলো স্বপ্নযোগে। পরীক্ষায় বাপ-বেটা দু’জনেই উত্তীর্ণ হলেন। একজন নিজ পুত্রকে কোরবানি করার জন্য, আরেকজন নিজে কোরবানি হওয়ার জন্য মাথা নুয়ে দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেন।
আল্লাহর সন্তুষ্টিই কোরবানির মূল উদ্দেশ্য। তার পথে প্রয়োজনে জীবন ও সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গের জন্য তৈরি হওয়ার শিক্ষাই এর মধ্যে নিহিত। এ জন্যই পশু জবাইয়ের সময় বলা হয়- ‘ইন্নাস সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহ্ইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি আমার জীবন, আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক।’
গরু, মহিষ, উট, ভেড়া. ছাগল, দুম্বা প্রাণী থেকে যেকোনো একটি দিয়ে কোরবানি দেয়া যায়। ৯ জিলহজ হাজীদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন ফজরের নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির ‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর ওয়াল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ পড়া জরুরি। কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগ করে একভাগ আত্মীয়স্বজন, আরেক ভাগ গরিবদের প্রদান করে বাকি একভাগ নিজেরা খাওয়া সুন্নত। ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানি ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের যেকোনো দিন করা যায়।


আরো সংবাদ

জার্মানিতে গুপ্তচরবৃত্তি : ভারতীয় দম্পতির শাস্তি ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত দাম কমলেও পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তি কমেনি ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইন বৈষম্যমূলক : জাতিসঙ্ঘ শ্রমিকদের বেতন ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা নির্ধারনসহ ৪ দফা দাবি গাজীপুরে ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত : লেবারপার্টি সোনারগাঁওয়ে বিজয় র্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আইসিজের শুনানিতে বাংলাদেশের সন্তোষ রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা ৫ মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি বেনাপোল চেকপোস্টে আইটি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশী-ব্রিটিশদের প্রতি আহ্বান হাইকমিশনারের

সকল