২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্রের মালিকেরা অস্তিত্বহীন : প্রধান বিচারপতি

-

সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্রের (গণমাধ্যমের) মালিকরা অস্তিত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট (প্রজ্ঞাপন) প্রকাশে স্থিতাবস্থা জারি করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানিতে গতকাল সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
সোমবার আপিল বিভাগে শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ বলেন, সাংবাদিকরাইতো পত্রিকা চালাচ্ছেন। সাংবাদিকরা কাজ না করলে পরের দিন খবরের কাগজ বের না হয়ে সাদা কাগজ বের হবে। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্রের (গণমাধ্যমের) মালিকরা অস্তিত্বহীন।
শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও মো: ইউসুফ আলী।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সরকার হলো এ ক্ষেত্রে আম্পায়ারের মতো। সাংবাদিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থই সরকার দেখবে। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের আগেই এটা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়েছে। এই রিট প্রি-ম্যাচিউড। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বেতন না দেয়ার লক্ষ্যেই এ মামলা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের ঠিকমতো বেতন দিতে চান না বলেই নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে স্থগিতাদেশ চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। ওয়েজ বোর্ডের গেজেট হওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সে গেজেটই তো হয়নি। তার আগেই রিট করা হয়েছে। এ সময় নোয়াবের আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ বলেন, সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্র সাদা কাগজ। তিনি বলেন, শ্রম আইনের ১২৮ ধারা অনুযায়ী যে গেজেট হওয়ার কথা, তা হয়নি। সেই গেজেট হলে আপত্তির সুযোগ আছে। এরপর আইনের ১৪৫ ধারা অনুযায়ী আরেকটি গেজেট হবে, সেটাই চূড়ান্ত। সেটাও হয়নি।
এরপর আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে গেজেট প্রকাশের বিষয় জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানাব। পরে আদালত নবম ওয়েজ বোর্ডের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে স্থিতাবস্থা জারি করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৮ আগস্ট সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত নবম ওয়েজ বোর্ডের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেন হাইকোর্ট। সাথে সাথে রুল জারি করেন আদালত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ কমিটির আহ্বায়ক, তথ্য সচিব, শ্রম সচিব ও নবম ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৭ আগস্ট সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) পক্ষে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন।
গত বছরের ৪ নভেম্বর সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদের সুপারিশ তথ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন নবম ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: নিজামুল হক। এ সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়। এর আগে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো: নিজামুল হককে প্রধান করে গত বছর ২৯ জানুয়ারি ১৩ সদস্যের নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়।


আরো সংবাদ