১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

২০২৩ সালের মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার পাবে

মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার অন্তর্ভুক্ত করে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে সরকারের খরচ হবে সাত হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। তবে শুরুতে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলোতে এই সুবিধা দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ নীতির খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্কুল মিল প্রকল্প পরিচালিত হবে। তবে এখন একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০৪টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল মিল কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর আওতায় চলে আসবে।
সচিব বলেন, মিড ডে মিল অনেক জায়গায় পাইলট বেসিসে চালু হয়েছে। এগুলোকে কিভাবে সমন্বিতভাবে সারা দেশে ছড়ানো যায় তার জন্য এই নীতিমালা। এটি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সেল বা ইউনিট কাজ করবে। কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণে প্রয়োজনবোধে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
শফিউল আলম বলেন, স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যক্রমের ধরন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গাইডলাইন সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি চাহিদার ক্যালরির ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে; যা প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৩-১২ বছরের ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, অর্ধদিবস স্কুলের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন অনুপুষ্টিকণার চাহিদা ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা। এ ছাড়া জাতীয় খাদ্যগ্রহণ নির্দেশিকা অনুযায়ী দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির ১০-১৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এবং ১৫-৩০ শতাংশ চর্বি থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে। ন্যূনতম খাদ্য তালিকার বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ১০টি খাদ্যগোষ্ঠীর মধ্যে ন্যূনতম চারটি খাদ্যগোষ্ঠী নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
সচিব বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল মিল উপদেষ্টা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সরকার মনোনীত উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এই কমিটি কর্মপরিধি, কার্যকারিতা, অর্থায়ন ও মূল্যায়নে কাজ করবে। সরকার মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে এই কমিটির সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদে নিয়োগ দেবে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল মিল কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী উপপরিচালক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সম্পৃক্ত থাকবেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের অংশ হিসাবে কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত থাকবেন।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে তিন উপজেলার স্কুলে রান্না করা খাবার এবং ১০৪টি উপজেলায় বিস্কুট খাওয়ানো হচ্ছে। ১০৪টির মধ্যে ৯৩টি উপজেলায় সরকার ও ১১টি উপজেলায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা দেখেছি যে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে।
প্রতিবন্ধীদের স্কুলের জন্য খসড়া নীতিমালা অনুমোদন : প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনসংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা, ২০১৯’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী (এনডিডি) ব্যতীত প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত/বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা, ২০১৯’ এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়। এই নীতিমালা চূড়ান্ত হলে মূল ধারার স্কুলের সাথে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল চালাতে হবে। যেখানে সেখানে মানহীন স্কুল প্রতিষ্ঠারোধ করার জন্যই এই নীতিমালা তৈরি করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষেয় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য এসব নীতিমালা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দেখবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আর কারিকুলাম প্রণয়ন ও তা পরিচালনার বিষয়গুলো দেখবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
চাঁদপুর হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আরো একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। চ্যান্সেলর থাকবেন রাষ্ট্রপতি, সিন্ডেকেটের গঠন সম্পর্কে বলা আছে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, সরকার কর্তৃক মনোনীত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন প্রতিনিধি এবং চ্যান্সেলর কর্তৃক মনোনীত তিনজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ থাকবেন। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল যেভাবে হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়েও সেভাবে হবে। কোন জায়গায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে, তা জানাতে না পারলেও চাঁদপুর জেলায় এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে তিনি জানান।


আরো সংবাদ