১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কোরবানির পরেও বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

-

কোরবানির ঈদের পর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, যার কারণ হিসেবে ভারতে এই পণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকায় আমদানিনির্ভরতা খুব একটা নেই। তার পরও বাড়ছে দাম। গত এক মাসে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এর সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও দেশী ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে শতকরা ৫০ ভাগ।
ঢাকায় পেঁয়াজের বড় পাইকারি মোকাম শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘বর্তমানে ভারতীয় এলসির পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। সেই সাথে দেশীয় পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। পাইকারিতে দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৮ থেকে ৪০, ভারতীয়টা ৪৫ টাকায় বেচাবিক্রি চলছে গত দুই দিন ধরে।’ কোরবানির ঈদের আগে দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৮ টাকা ছিল বলে জানান তারা।
রাজধানীর কাওরানবাজারে ফরিদপুর অঞ্চলের দেশীয় ভালো মানের পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০ টাকায়। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী এলাকার মুদি দোকানগুলোতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। টিসিবির হিসাবে, এক মাস আগে দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
এ দিকে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বলে শোনা গেলেও গত এক সপ্তাহে সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ২৭০টা গাড়ি আসছে। এর মধ্যে ৬০-৭০টাই থাকছে পেঁয়াজবাহী গাড়ি। বর্তমানেও সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
শীতের সবজি, প্রচুর ইলিশ
এ দিকে শীতকাল আসতে এখনো অনেক দেরি থাকলেও এরই মধ্যে ঢাকার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতকালীন সবজি। কাঁচা-পাকা টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং শিমও পাওয়া যাচ্ছে এই গরমে। যদিও দাম সাধারণের নাগালের বাইরে, স্বাদও শীতকালের মতো নয়। তবুও এক শ্রেণীর মানুষ এসব সবজি কিনছেন ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে। সবজির দাম বাড়তি হলেও অপেক্ষাকৃত কম দামে মিলছে জাতীয় মাছ ইলিশ। সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোয়। এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশের দাম পড়ছে এক হাজার টাকার মতো। যদিও বেশির ভাগ ইলিশের পেটে ডিম থাকায় ইলিশ নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে জনমনে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ বড় দোকানেই শীতকালীন সবজি শিম পাওয়া যাচ্ছে। দাম ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারে এ শিমের দাম পড়ছে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। শিমের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। এরই মধ্যে পাকা টমেটো ও গাজরের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। এ ছাড়া উস্তে এবং বরবটির কেজিও ১০০ টাকার কাছাকাছি। ৫০ টাকা কেজির নিচে মিলছে শুধু পেঁপে। ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বরবটি। পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরলো, কচুমুখী, কচুর লতি, বেগুন, ঢেঁড়স প্রভৃতির কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একেকটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ ভালো থাকায় কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। হাসের ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। সাদা বয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় গরু-খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে খুব কমই।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে ইলিশের দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ফলে ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতাও বেড়েছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাতিল-ডালা নিয়ে বসে থাকেন মওসুমি বিক্রেতারা। ছোট আকারের এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে ছোট ইলিশের চেয়ে বড় ইলিশের প্রতিই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। বাজারভেদে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পিস, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ১০০০ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ২০০০ টাকার নিচে মিলত না।
খিলগাঁও তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেটের বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ইলিশ মাছ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সুস্বাদু বড় ইলিশ সবাই খেতে চায়। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও সব সময় তা পূরণ করা যায় না। কারণ বড় ইলিশ সারা বছর পাওয়া যায় না। আর যা পাওয়া যায় দাম অনেক বেশি থাকে। কিন্তু আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাসে বড় ইলিশের দেখা মেলে। ফলে দামও কম থাকে। তিনি বলেন, টাটকা ইলিশের স্বাদ পেতে সব শ্রেণিপেশার মানুষ এখন ইলিশের বাজারে আসছেন।


আরো সংবাদ