১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যাপক সহায়তা প্রয়োজন

জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বিবৃতি
-

রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে জাতিসঙ্ঘের ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) যৌথভাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়েছে। এতে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যাপকভিত্তিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা, জবাবদিহিতা ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে রাখাইনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর চলমান নিপীড়নে উদ্বেগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ ও আরআরআরসির যৌথ বিবৃতি : আজ বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সাথে ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সহযোগী সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের চলমান মানবিক সঙ্কটের দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দশক ধরে চলা নিপীড়ন এবং সহিংসতা, বিশেষ করে ২০১৭ সালের আগস্টের ঘটনা ভুলে যেতে পারে না। রোহিঙ্গারা এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, যাদের অনেকেই নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে আগ্রহী।
এ প্রসঙ্গে আইএসসিজির সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর নিকোল অ্যাপটিং বলেন, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনো আশ্রয়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের মতো সেবার জন্য পুরোপুরিভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় চলতি বছরের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার ৯২ কোটি ডলারের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য এবং জরুরি টেলিযোগাযোগ সেক্টর সবচেয়ে বেশি তহবিল সঙ্কটে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নত করার জন্য সুরক্ষা সেবা, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, পুষ্টি, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, আশ্রয়ণ, খাদ্যবহির্ভূত সামগ্রী, সাইট ব্যবস্থাপনা, কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ খাতে আরো তহবিল প্রয়োজন। তিনি বলেন, গত দুই বছরে সাড়াদান প্রক্রিয়ায় আশ্রয় শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। শিবিরগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণ, পয়ঃনিষ্কাশন, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের চাহিদা কমানোর মতো বিষয়গুলোতে তাদের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। শরণার্থীদের জোয়ারে ব্যাপকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আইএসসিজির সহযোগী সংগঠনগুলো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে নিয়ে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এ বছরে আবারো বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। বনায়ন কার্যক্রম ভূমিধস রোধ এবং বন্যা মোকাবেলায় সাহায্য করবে।
নিকোল অ্যাপটিং বলেন, বাংলাদেশে এ বছর মওসুমি বৃষ্টিপাত জোরালোভাবে আঘাত হানায় ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আইএসসিজির সহযোগী সংগঠনগুলো মওসুমি বৃষ্টিপাতজনিত জরুরি অবস্থার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত রয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের জীবনে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের প্রভাব মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে এ বছর তুলনামূলক কমসংখ্যক রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি মওসুম শিগগির শরৎকালীন ঘূর্ণিঝড়ের মওসুমে অগ্রসর হচ্ছে। সে কারণে দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অব্যাহত মেরামত এবং আপদকালীন মজুদ পূরণ করা কিছুটা কঠিন হবে। অবশিষ্ট দিনগুলোর জন্য আরো ৭৮ লাখ ডলার জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছে। একইভাবে তাদের স্থানীয় বাংলাদেশী প্রতিবেশীরা ঘূর্ণিঝড় এবং মওসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা, ভূমিধস, ঝড়ো হাওয়া ও জলাবদ্ধতার মোকাবেলা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র : জবাবদিহিতা ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে রাখাইন, কোচিন, শানসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন চলছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, বিঘœহীন ত্রাণ সরবরাহ ও শান্তির জন্য রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছি। নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার প্রতি আমরা সহমর্মিতা জানাচ্ছি। শক্তিশালী, নিরাপদ ও উন্নয়নগামী গণতন্ত্রের জন্য মিয়ানমারে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
বিশালসংখ্যক উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেয়ার উদারতা দেখানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থানীয় সহায়তাকারী দেশ। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ খাতে ৫৪ কোটি ডলার দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : বাংলাদেশের সাথে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করার দায়িত্ব পুরোপুরি মিয়ানমারের ওপর বর্তায়। রাখাইনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মাঠপর্যায়ের যথাযথ তথ্য সরবরাহ করে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট কাটানোর দায়িত্ব মিয়ানমারের। রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার ব্যর্থতা তাই মিয়ানমার অস্বীকার করতে পারে না।
বাংলাদেশের সাথে সই হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের উদ্বেগ নিরসনে মিয়ানমারকে দৃশ্যমান রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে হবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেউ মিয়ানমার ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ বাধা না দেয়ার নীতি অনুসরণ করে যাবে। প্রত্যাবাসনে অসহযোগিতার করার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অগ্রহণযোগ্য, যা অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে।


আরো সংবাদ

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে পোস্টার লাগালেন রিজভী মেসির ছোঁয়ায় দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সেই আনসো থানায় সেবা নিতে যাওয়া কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় : নতুন ডিএমপি কমিশনার আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দেশের চলমান দুর্নীতির মহড়া ভোটবিহীন নির্বাচনের ফসল : চরমোনাই পীর শহর ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হচ্ছে ইঞ্জিনের রিকশা চলাচল রাব্বানীর বিরুদ্ধে এবার জবি ছাত্রলীগ নেতার অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের ৮ সদস্য গ্রেফতার কাশ্মিরের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল সাভারে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা গুপ্তচর কবুতর, কাক আর ডলফিনের কথা শুনেছেন?

সকল