১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিআইডব্লিউটিসি আইন ও এসএমই নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বিদায়ী সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত হ বাসস -

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আইন-২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ আইনে করপোরেশনের অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। একই সাথে এসএমই নীতিমালা-২০১৯ এর খসড়ায় এবং প্রতি বছর ৪ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় বস্ত্র দিবস পালনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ অনুমোদনের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
নতুন আইনের পরিবর্তনগুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি নৌপরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এর অনুমোদিত মূলধন আগে ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের বিষয়ে বলা হয়েছে- সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে যে অর্থ জোগান দেয়া হবে সেটাই পরিশোধিত মূলধন। এখন সেটা বাড়তে বাড়তে ৪৫ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আইনটি এত দিন ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশবলে চলছিল। তবে ’৭৬ ও ’৭৯ সনে দু’বার সংশোধন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত আইনটি অনেক পুরনো। পাকিস্তান আমল থেকে ইস্ট পাকিস্তান ল হিসেবে শুরু হয়ে এই পর্যন্ত আছে। আইনটি সামরিক আমলের হওয়ায় এ জন্য আপডেট করে বাংলায় করার সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেই হিসেবে নতুন আইনটি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই করপোরেশন পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও চারজন পরিচালক থাকবেন। এর মধ্যে একজন থাকবেন খণ্ডকালীন পরিচালক, যিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার অধিকারী কর্মকর্তা হবেন। এই করপোরেশনের সভায় সভাপতিত্ব করবেন চেয়ারম্যান। তিনি অনুপস্থিত থাকলে তার মনোনীত পরিচালক সভাপতিত্ব করবেন। যদি তিনিও না থাকেন তাহলে সভায় উপস্থিত অন্যদের সম্মতিক্রমে একজন সভাপতিত্ব করবেন। তিনি বলেন, এই করপোরেশনে তিনজনের কোরাম হবে। তিনজন হলেই করপোরেশনের মিটিং করা যাবে। বছরে কতবার সভা হবে তা নির্ধারণ করবেন চেয়ারম্যান। করপোরেশন বছরে একবার প্রতিবেদন দেবে যা দিতে হবে আলোচিত বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে। করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও পরিচালক সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এসএমই নীতিমালা-২০১৯ খসড়ার অনুমোদন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের সুবিধা বাড়াতে এসএমই নীতিমালা-২০১৯ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। শিল্পনীতির আলোকে এই নীতিমালা করা হয়েছে। এসএমই খাতে সারা দেশে ৭৮ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এসএমইর অবদান ২৫ শতাংশ। তিনি বলেন, ছয়টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এই নীতিমালা করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, অর্থ প্রাপ্তির সুবিধা, প্রযুক্তিবিষয়ক সহায়তা, বাজারসুবিধা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সুবিধা, বিজনেস সাপোর্ট এবং তথ্যসুবিধা পাবেন এসএমই উদ্যোক্তারা।
শফিউল আলম বলেন, এসএমইর বাইরে মাইক্রো এবং কুটির শিল্পও যুক্ত করা হয়েছে। মাইক্রো, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মিলে এসএমই। মোটামুটি সারা পৃথিবীতেই এভাবেই এসএমই গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, ছয়টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নীতিমালা করা হচ্ছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, ব্যবসায় সহযোগিতা এবং তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি। এ ছাড়া নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (স্ট্যার্টআপ) করার ক্ষেত্রে সহায়তা করা, অনলাইন বা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্ট্যার্টআপ প্রক্রিয়া সহজ করার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নীতিমালায় ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং ও আইটি-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসএমইদের সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
শফিউল আলম বলেন, নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সুবিধা দেয়া হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ, ঋণ ও সক্ষমতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এসএমই ফাউন্ডেশন প্রত্যেক বছর একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ সদস্যের কমিটি এবং সচিবের নেতৃত্বে ২৯ সদস্যের কমিটি থাকবে। এই কমিটি নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সর্বনি¤œ ৫০ হাজার এবং সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা ঋণ পান।
৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস : মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রতি বছর ৪ ডিসেম্বর দেশে জাতীয় বস্ত্র দিবস পালিত হবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দিবসটি ‘খ’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মাস মার্চে পাট দিবস পালিত হয়। আর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে পালিত হবে বস্ত্র দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ের সাথে বস্ত্র ও পাটের একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। এ কারণে এই দুই মাসে দিবস দু’টি পালন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ