২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিলে রোহিঙ্গা সঙ্কট কেটে যাবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

-

যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিলে রোহিঙ্গা সঙ্কট সহজেই কেটে যাবে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন বলেছেন, পশ্চিমা দেশটি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে, আবার মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যও চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান নিক।
ঢাকা লেডিস ক্লাবে গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তা সঙ্কট মেটানোর জন্য যথেষ্ট না। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে এখনো জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে, তাদের সাথে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সাথেও কাজ করছে পশ্চিমা এ দেশটি। অথচ যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিলে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা আমাদের অগ্রাধিকার ইস্যু। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন সম্মেলনে বিভিন্ন ফোরামে আমরা এ ইস্যুতে কথা বলব। নিউ ইয়র্কে সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের সাথে একটি বৈঠকের বিষয়ে আলাপ চলছে। তবে শুধু শুধু বসে লাভ নেই। আমরা অনেক বসেছি, কাজ হয়নি। আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা চাই। তিনি বলেন, সমস্যাটি জিইয়ে রাখলে চীন, ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোয় স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই : আসামের নাগরিক তালিকা বা এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকা এসেছিলেন। তখন তার সাথে আমার এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তাদেরকে কখনোই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি।
রোহিঙ্গাদের আগে ফেরান, ঘরবাড়ি তারাই বানাবে : মিয়ানমারে আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর জন্য সময় ক্ষেপণ না করার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আগে ফিরিয়ে নিতে হবে, সেখানে গিয়ে তারাই ঘরবাড়ি বানিয়ে নেবে। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারে, সে পরিবেশ মিয়ানমারকে তৈরি করতে হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ ভবনে গতকাল বুধবার এক সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে এসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক জোনাথন হেড। এতে বলা হয়েছে, রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পুলিশ ব্যারাকসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রত্যাবাসনের জন্য যে দু’টি ট্রানজিট ও রিলোকেশন ক্যাম্প মিয়ানমার সরকার বানিয়েছে, সেগুলো তৈরি করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য কিছু বাড়িঘর মিয়ানমার সরকার তৈরি করেছে। সেগুলো দেখাতে আমাদের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশী কূটনীতিকদের নিয়ে যাবে তারা। আমরা বলছি, রোহিঙ্গাদের জন্য ঘরবাড়ি বানানোর দরকার নেই, আগে তাদের ফিরিয়ে নিন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বহু মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। যখন ভারত থেকে আসি, আমরা চিন্তা করিনি আমাদের ঘরবাড়ি আছে কি না। পাকিস্তানি আর্মি আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছিল, আমরা এসে ঘরবাড়ি তৈরি করেছি। রোহিঙ্গারাও যখন আমাদের এখানে এলো, তারাও কিন্তু ঘরবাড়ির কথা চিন্তা করেনি। পালিয়ে আসছে। যখন তাদের যাওয়া শুরু হবে, গিয়ে সেখানে ঘরবাড়ি তৈরি করে নেবে। না গেলে কিভাবে হবে?
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


আরো সংবাদ