২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর করের আওতায় পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীরা

-

এবার করের আওতায় এলেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা। ৫ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগ হলেই তাদের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এমনই একটি প্রজ্ঞাপন পরিপালনের জন্য এক সার্কুলারের মাধ্যমে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারটি গতকালই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেবল পেনশনের টাকায় পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। অন্য কেউ এটি কিনতে পারেন না। এত দিন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর আরোপ ছিল না। তবে এবার কোনো পেনশনভোগী ৫ লাখ টাকার ওপর সঞ্চয়পত্র কিনলেই তাকে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। আর ৫ লাখ টাকার নিচে হলে তার ওপর অর্জিত মুনাফা থেকে কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না।
এ দিকে জাতীয় বাজেটে অন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎসে করের হার আংশিক কমানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করা হয়েছিল। এখন তা কিছু ক্ষেত্রে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। বাকি ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন কর হার গত ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়মে অন্য সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে তার ওপর অর্জিত মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। আর ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হলে তার ওপর অর্জিত মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ কর পরিশোধ করতে হবে। জানা গেছে, এর আওতায় রয়েছে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্র। বাজেটে এসব সঞ্চয়পত্রের সব ধরনের বিনিয়োগের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল।
এ দিকে প্রবাসীদের জন্য চালু ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড ও অনিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের বিপরীতে বিনিয়োগকারীকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আগে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে এ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর আগের মতো এখনো কোনো কর দিতে হবে না। বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে এ খাতের বিনিয়োগের মুনাফা করমুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ক্ষমতাবলে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনটি পরিপালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে গতকাল এ বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। গতকালই তা পরিপালনের জন্য সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর থেকে এটি সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ