২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

এই সরকার জুয়াড়ি সরকার, দেশটা নিয়েই জুয়া খেলছে : ফখরুল

-

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার সব কিছুতে ব্যর্থ হয়ে এখন জুয়ার আশ্রয় নিয়েছে। জুয়া খেলে যদি কোনো রকমে টেকা যায়। কিন্তু এভাবে টেকা যাবে না। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের দেশ, গণতন্ত্রকামী মানুষের দেশ, স্বাধীনতা যুদ্ধ করে অর্জিত দেশ।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়। সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, নেওয়াজ হালিমা আরলি, খান শামসুন্নাহার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
গত কয়েক দিনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন ক্লাবে চলা জুয়ার আসরে অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েক দিন ধরে খবরের কাগজে দেখছেন আপনারাÑ কী অবস্থা? মনে হচ্ছে দেশটা জুয়াড়িদের দেশ হয়ে গেছে। এই সরকারকে আমি যদি বলিÑ এটা জুয়াড়িদের সরকার, এই সরকার দেশটা নিয়েই জুয়া খেলছে। তাহলে আমার কোনো অপরাধ হতে পারে বলেন? সম্পূর্ণভাবে এখন গ্যাম্বলারদের মধ্যে পড়ে গেছে, গ্যাম্বলিংয়ে চলে গেছে।
এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণ অতীতে যেভাবে রায় দিয়েছেন, সেভাবেই আপনাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন এবং আপনাদের বাধ্য করবেন জনগণের সরকার গঠন করার জন্য, পার্লামেন্ট গঠন করার জন্য এবং নির্বাচন করার জন্য।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চিন্তা করতে পারেন! ছাত্রনেতা, ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে বলেছেন যে, আপনার ৪০০-৫০০ কোটি টাকার যে প্রজেক্ট আছে এজন্য আমাকেই দিতে হবে ৮৬ কোটি টাকা। সেটাকে বলছে ফেয়ার শেয়ার। সেটা নাকি তার ভাগ।
খবরের কাগজে এসেছে, জি কে শামীম নাকি ৫০০ কোটি টাকার কাজ করছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং এটা সম্পূর্ণ সে পায়, সরকারের নির্দেশেই পায়। আজকে প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগের ছোট নেতা, বড় নেতা, পাতি নেতা, তাদের দাপটে বাংলাদেশে আর কেউ থাকতে পারছে না। সরকারি কর্মচারীরা চুপচুপ চলে যান মানসম্মান, ইজ্জত নিয়ে। যা হুকুম করে তাই করতে হয়Ñ চাঁদা দাও, নইলে যাও; টেন্ডার দাও, নইলে যাও। এই হচ্ছে অবস্থা।
মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনীতি নাকি মডেল হয়ে গেছে, সাঙ্ঘাতিক রোলিং অর্থনীতি। এমন মডেল হয়েছে যে, মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যাংকে গেলে টাকা নাই। আপনি দুই লাখ টাকার চেক নিয়ে যান, বলবেÑ ভাই, আজকে দেয়া যাবে না, কালকে আসুন। ১০ লাখ তো প্রশ্নই উঠে না। আর কী করছেন? যারা ঋণখেলাপি, তাদের ঋণ মাফ করে দিচ্ছেন। কারণ আপনাদের বড় বড় নেতা-মন্ত্রী-অ্যাডভাইজার হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, পত্রিকায় আছে, এই যে ক্যাসিনো, এই ক্যাসিনোতে চাকরি করে কারা? বিদেশীরা, তারা টাকা পাচার করে। গত এক বছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কানাডাতে বেগমপাড়াতে বাড়ি কিনে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম কিনে, লন্ডনের সব চেয়ে পশ এলাকা আছে, সেখানে বাড়ি কেনা হয়। আমরা সব খবরই রাখি। কে কত টাকা পাচার করছেন, কে কতটি বাড়ি কিনছেন, কে কতগুলো ব্যবসা করছেন, সুইস ব্যাংকে কার কত টাকা জমা হচ্ছে- এ দেশের মানুষ সমস্ত খবরই রাখেন।


আরো সংবাদ