২৩ অক্টোবর ২০১৯

আটকদের মুক্তি দাবি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মিসরে সিসির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে গুলি

-

মিসরের বন্দর নগরী সুয়েজে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এরপরও যারা সেখানে জড়ো হয় তাদের তাড়িয়ে দিতে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ও তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
বিক্ষোভের তীব্রতায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাজপথে নেমে আসা বহু বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবারের বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ৭৪ জনকে আটক করা হয়। আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে শনিবার এক বিবৃতি দেয় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারের সুরক্ষা দিতে মিসর সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট সিসির নিরাপত্তা বাহিনী আবারো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বানচালের জন্য নৃশংসতার আশ্রয় নিয়েছে। মিসরীয় কর্তৃপক্ষের এটি স্বীকার করা উচিত যে, পুরো দুনিয়া এটি দেখছে। তাদের উচিত অতীতের সব নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবসহ মিসরের সব আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচিত মানুষের মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানাতে দেশটিকে আহ্বান জানানো।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে বেশ কয়েক শহরে বিক্ষোভ করে দেশটির মানুষ। আন্দোলন সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র রাজধানীর তাহরির চত্বরে জড়ো হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এদের দমাতে ও ঠেকাতে তাহরির স্কয়ার চত্বরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। কায়রোর পাশাপাশি আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজসহ আরো কয়েকটি শহরে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা সিসিকে দেশটির অবৈধ প্রেসিডেন্ট মনে করে। সম্প্রতি সিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত শুক্রবার থেকে নীরবতা ভেঙে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিসরীয়রা। তারা স্লোগান দেন, ‘সিসি, তুই ক্ষমতা ছাড়’। এমন সময় এ বিক্ষোভ হচ্ছে, যখন জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন সিসি। সিসির নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক আহমেদ মনসুর জানান, স্বৈরশাসক সিসি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাননি। তিনি মিসর থেকে নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন ঠিকই, তবে তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য। সিসি মূলত বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আশ্রয় অনুসন্ধান করতে গিয়েছেন। মিসরীয় জনগণ দীর্ঘদিনের ভয় ও বাধা ভেঙে তার পতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার বিষয়টি তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।
এক দিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অন্য দিকে সেনাশাসক জেনারেল সিসি ও তার বলয়ের লোকজনের ব্যাপক দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত সরকারি ডাটা অনুযায়ী, মিসরে মোটাদাগে প্রতি তিনজনে একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তাদের দৈনিক আয় ১.৪০ ডলারেরও কম।
স্বেচ্ছায় নির্বাসিত মিসরীয় ব্যবসায়ী ও অভিনেতা মোহাম্মদ আলী বলেন, সাধারণ মানুষ যেখানে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত সেখানে সিসি ও তার কর্মকর্তারা জনগণের বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয় করছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেনারেল সিসি।
এখন পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মিসরীয় জনগণের মনে সিসির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ তৈরি করেছে তা যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক ইয়েহিয়া ঘানেম বলেন, মিসরে এখন যা ঘটছে তা সেখানে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের ফল। শুক্রবারের বিক্ষোভ দেশটির মানুষের আন্দোলনে গতি সঞ্চার করবে।
২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে দেশটির ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিসরে এ ধরনের বিক্ষোভ বিরল। ওই অভ্যুত্থানের পর আইন করে এ ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে জেনারেল সিসি সরকার।


আরো সংবাদ