২০ নভেম্বর ২০১৯

জামিন পেলেন বিএনপি নেতা মেজর হাফিজ

-

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জামিন পেয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন খারিজ করে গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মেজর হাফিজের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানিতে বলেন, উনি অসুস্থ। ইমেইল তিনি করেননি। তার বিরুদ্ধে এজাহারে কোনো অভিযোগ নেই। তাকে জামিন দেয়া হোক।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আজাদ রহমান ও হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ শুনানি করেন।
শুনানিতে হিরণ বলেন, ফেসবুকে তথ্য চালাচালি করেছেন হাফিজ।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তখন বলেন, মামলার কোথাও ফেসবুকের কথা বলা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারলে আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেব। পরে বিচারক রিমান্ড আবেদন নাকচ করে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই নূরে আলম গতকাল সকালে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ানকে শনিবার সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ইসহাক মিয়ান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পল্লবী থানায় র্যাবের দায়ের করা মামলায় শনিবারই এ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। মেজর হাফিজকে শনিবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পরপরই গ্রেফতার করে র্যাব। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজউদ্দিন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন।
ই-মেইলে এই দুইজন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক কথাবার্তা আদান-প্রদান করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ২ মে বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটের দিকে কর্নেল (অব:) মুহাম্মদ ইসহাক মিয়ান (৬৩) তার মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র্যাব ও পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য পাঠান, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

 


আরো সংবাদ