১৭ নভেম্বর ২০১৯

চলে যাচ্ছে ফরাসি ওষুধ কোম্পানি সানোফি

বিদেশী বিনিয়োগে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে
-

অবশেষে বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি সানোফি। বাংলাদেশ যখন বড় বড় বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসার চেষ্টা করছে তখন ফরাসি বহুজাতিক এই ওষুধ কোম্পানির এ দেশ থেকে ‘পাততারি’ গোছানো বাইরের বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বিকেলে সানোফির পক্ষ থেকে পাঠানো এ সম্পর্কিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমগ্র বিশ্বজুড়ে নিজেদের ব্যবসার পোর্টফোলিও পুনর্গঠন করতে, উদ্ভাবনের ধারা বজায় রাখতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে সানোফি প্রতিনিয়ত তার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে থাকে। আমরা মনে করি বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সানোফি তার সেরা অবস্থানে নেই। এই অবস্থার পরিবর্তনে সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা শেয়ার মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশের বাজারে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহ বজায় রাখবে সানোফি।’
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে সানোফির বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বের হচ্ছে। কিন্তু এগুলোকে সানোফির পক্ষ থেকে অনেকটা গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকালই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সানোফি বলেছে, তারা সত্যিই বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে। এখানে তারা আর ওষুধ উৎপাদন করবে না।
সম্ভাব্য ক্রেতার বিষয়ে সানোফি পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সানোফি এমন একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের সন্ধানে রয়েছে যেটি নৈতিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সানোফির পণ্য প্রচারে প্রতিষ্ঠানটির সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারা দীর্ঘ সময়ের জন্য সমুন্নত রাখার পাশাপাশি রোগী এবং একই সাথে সানোফি বাংলাদেশের কর্মীদের কল্যাণে কাজ করে যাবে। ’
বলা হয়েছে এই কোম্পানিটি ‘৬০ বছরেরও বেশি সময় জুড়ে বাংলাদেশে কাজ করে আসছে। রোগীদের চিকিৎসায় সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বাধুনিক ও সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সানোফি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের সব চিকিৎসক ও রোগীদের আশ্বস্ত করে আমরা বলতে চাইÑ বাংলাদেশে সানোফি ব্র্যান্ডের পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সানোফি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি সানোফি বাংলাদেশ লিমিটেডে থাকা নিজেদের শেয়ার মালিকানা হস্তান্তর করে সে ক্ষেত্রেও কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সামষ্টিকভাবে চাকরি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করবে সানোফি এবং মালিকানা হস্তান্তরের সময় থেকে পরবর্তী ১২ মাস পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করবে সানোফি। যদি মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি পাকাপাকিভাবে চূড়ান্ত হয় তবেই এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
পরিশেষে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সানোফি সব পক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কাজ করে থাকে। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রোগী ও কর্মীদের স্বার্থসুরক্ষায় এবং সবার কল্যাণ নিশ্চিত করায় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে সানোফি।’
জানা গেছে, মালিকানা হস্তান্তরের কাজটি এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পন্ন করবে সানোফি। ১৯৫৮ সালে টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিতে বর্তমানে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছে। সানোফিতে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ‘বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ৪৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সানোফি এ দেশে লাভজনক কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত ছিল। গত বছর কোম্পানি বার্ষিক মুনাফা করেছে ৪২ কোটি ১২ লাখ টাকা। মুনাফার প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশে ওষুধ বাজারের কোম্পানিটির হিস্যা ২ শতাংশেরও নিচে।

 


আরো সংবাদ