১৭ নভেম্বর ২০১৯

বুয়েটে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে গণশপথ

বুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গণশপথ অনুষ্ঠান : নয়া দিগন্ত -

আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গণশপথ নিয়েছেন। এ সময় ক্যাম্পাসে সব ধরনের অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। গতকাল বুধবার দুপুরে বুয়েটের অডিটোরিয়ামে তারা এই শপথ নেন।
গণশপথ অনুষ্ঠানে নৈতিকতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার উৎপাটিত, বুয়েটের আঙিনায় কোনো নিষ্পাপ প্রাণ যেন আর না ঝরে, আর কোনো নিরপরাধ যেন অত্যাচারের শিকার না হয় এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ দফতরের (ডিএসডব্লিউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো: আবদুল বাসিত, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষকরা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে শপথ পাঠ করেন। বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ছাত্রী রাফিয়া রিজওয়ানা শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ পাঠের আগে আবরার ফাহাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শপথ গ্রহণকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সকল প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করব।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী শপথগ্রহণকালে আরো বলেন, এই বিশ্ববদ্যালয়ের আঙিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার থাকব। আমি আরো প্রতিজ্ঞা করছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেবো। নৈতিকতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সবাই উৎপাটিত করব।
নিষ্পাপ প্রাণ না ঝরে এমন প্রত্যয় নিয়ে তারা বলেন, এই আঙিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়, আর কোনো নিরপরাধ যেন অত্যাচারের শিকার না হয়। তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব।
গত ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় শের-ই-বাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ও হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষনেতারা। এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার ঘটনায় খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি থেকে সরে এসে আবরারের হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় না বসার মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।


আরো সংবাদ