২০ নভেম্বর ২০১৯

বরগুনায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৫০

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্য : নয়া দিগন্ত -

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে গতকাল শনিবার দুপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। লাঠিচার্জে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পাথরঘাটায় ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত হওয়া সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বাকি বিল্লাহ জয়ের সমর্থকরা এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: এনামুল হোসাইনকে অনুপ্রবেশকারী উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে বহিষ্কার করে। এ অবস্থায় এনামুলকে স্বপদে বহালের দাবিতে শুক্রবার পাথরঘাটায় বিক্ষোভ মিছিল এবং শনিবার একই দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলে এই উত্তেজনা শুরু হয়। এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও বাধা উপেক্ষা করে এনামুল হোসাইনের নেতৃত্বে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশে শেষে বেলা ১টার দিকে পাথরঘাটা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন এনামুল। শনিবার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা পৌরশহরের রাসেল স্কয়ারে এনামুল সমর্থকদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে জয়ের সমর্থকরা বাধা দেয়। এনামুল সমর্থকদের গাড়িতে হামলা ও মাইক খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মানববন্ধন ভণ্ডুল হয়ে গেলে এনামুল সমর্থকরা পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজে জড়ো হয়। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শহরে প্রবেশ করলে ফের রাসেল স্কয়ারে জয় সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে তারা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত হওয়া সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন বলেন, আমার সমর্থনে ছাত্রলীগ কর্মীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার সময় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এনামুল দাবি করেন, জয় সমর্থকদের কয়েক দফা হামলায় তার সমর্থকদের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে এনামুল বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ হলে আমি নিজেই পদ থেকে অব্যাহতি নিতাম। কিন্তু আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমি চাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত হোক। আমি দোষী সাব্যস্ত হলে দায় মেনে সরে দাঁড়াব।
অন্য দিকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাকী বিল্লাহ জয় ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, তার সমর্থনে মিছিলকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও এনামুল সমর্থকরা হামলা করেছে।
তবে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: হাফিজুর রহমান সোহাগ বলেন, এনামুল ও তার নেতাকর্মীরা যেটি করছেন, তা সংগঠনবিরোধী। তিনি তার পদ ফেরত পাওয়ার জন্য কেন্দ্রে আপিল করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা না করে মিছিল মিটিং করে পাথরঘাটায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

 


আরো সংবাদ