১৫ নভেম্বর ২০১৯

ভোলায় সমবেত হওয়াদের উদ্দেশ্য কী : প্রধানমন্ত্রী

-

ভোলার বোরহানউদ্দিনে মানুষকে সমবেত করার পেছনে উদ্দেশ্য কী- এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এই সব ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে তখনই একটা শ্রেণী আছে নানাভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সেই জন্য আমি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাই।
গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যুবলীগের নেতাদের সাথে বৈঠকপূর্ব সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেশকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আমরা অব্যাহত রাখব। এক্ষেত্রে যারাই অপরাধী হবে তাদের কোনো ক্ষমা নেই। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। কারণ আমরা যখন দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই স্বাভাবিকভাবেই কিছু মানুষের ভেতরে একটা লোভের সৃষ্টি হয়। যার ফলাফল আমাদের সমাজটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই এই ধরনের অন্যায়-অবিচার বরদাস্ত করা হবে না।
দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি আমাদের নবী করিম সা:-এর বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যের ক্ষতি করার জন্য যারা এই ধরনের কথা লিখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেবো। টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে, আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও আছে। এটা ধরা পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুকের আইডি হ্যাক করে সেখানে তার নাম দিয়ে কতগুলো মিথ্যাচার করা হয়েছে। যার ফেসবুক হ্যাক করেছে তাকে আবার ফোন করে ২০ হাজার টাকা তার কাছ থেকে চেয়েছে। ২০ হাজার টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সব কথা লিখবে সেটা তার জন্য ক্ষতি হবে। এই কথা বলার পরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা পুলিশ স্টেশনে গেছে, সে সেখানে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও সেখানে তাকে কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করে রেখেছে। সাথে সাথে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ফেসবুক অপারেটর যারা তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা সব তথ্য জোগাড় করতে পারব। তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে। যারা ফেসবুকে এই হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাক করে তার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তার নাম করে যে কথাগুলো লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কিভাবে নবী করিম সা: নিয়ে এই ধরনের বাজে কথা লিখে এবং আরেকজনকে জড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। সেখানকার একজন পীর সাহেব আছেন বেশ কিছু লোককে তিনি জড়ো করেন। যখন পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলো করবেন না, আমরা গ্রেফতার করেছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তখন পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের ওপর চড়াও হলে, পুলিশ নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য একটা ঘরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেয়ার পরও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেখানে একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি পর্যন্ত লাগে। সেই সময় সেখানে এসপি, ডিসি সবাই পৌঁছে যায়। পুলিশকে রক্ষা করা এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে যারা তাদের বোঝাতে গিয়েছিল তাদেরকে রক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে, ফলে বেশ অনেকজন আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু কনফার্ম বলা হয়েছে, আরেকজনের অবস্থা মুমূর্ষু।
শেখ হাসিনা বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলোÑ যে আইডি হ্যাক করে এই ধরনের ঘটনা ঘটাল আর সেটাকে কেন্দ্র করে কী উদ্দেশ্য নিয়ে তারা সমবেত হলো এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? সেটাই বড় কথা। এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যটা কী?
মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিক এমনভাবে প্রচার করবেন না যা একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদেরকে দেখান। কেনো এভাবে আরেকজনের আইডি চুরি করবে, তার কাছে চাঁদা চাইবে আর টাকা দিতে না পারলে তার নাম করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাবে আর সেটাও চালাবে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বা মহানবীর বিরুদ্ধে। বরং এই অপরাধীদেরই শনাক্ত করা দরকার এবং তাদেরকে জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার যে, এই ধরনের জঘন্য কাজ তারা করে যাচ্ছে। এ ধরনের নানা অনেক চক্রান্ত আমার বিরুদ্ধে সবসময় হয়ে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সম্মানের সাথে বাস করবে। এটাই আমাদের দেশের একটা নিয়ম এবং আমরা চাই বাংলাদেশ যেন একটা শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বই হস্তান্তর
বাসস জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর রুশ ভাষায় অনূদিত ও প্রকাশিত তিনটি বই গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বইগুলো হলোÑ শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের জন্ম, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্মৃতিকথা এবং শেখ হাসিনার সাথে অধ্যাপক ড. ভি নাওমকিনের আলাপচারিতা।
অনুবাদক ও প্রকাশক রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের ও অরিয়েন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক ড. ভি নাওমকিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে বইগুলো হস্তান্তর করেন।


আরো সংবাদ