২২ নভেম্বর ২০১৯
দুস্থ সাংবাদিকদের অনুদান প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী

জাবি ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে ব্যবস্থা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে

আবরারের মৃত্যু বরদাশত করা যায় না
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হ বাসস -

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আর অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ভাতা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইদানীং হঠাৎ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা কথায় ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। আমার স্পষ্ট কথা, যারা ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে, তাদেরকে কিন্তু এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং তথ্য দিতে হবে। আর যদি কেউ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, যারা অভিযোগ নিয়ে এসেছে, যারা বক্তৃতা দিচ্ছেÑ সেসব ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়Ñ যে অভিযোগকারী তাকে কিন্তু সাজা পেতে হবে। এটা আইনে আছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো। এটা স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এত টাকা, ওত টাকা নিয়েছে, মুখে বললে তো আর হবে না। তারা সুনির্দিষ্টভাবে জানে বলেই তো অভিযোগ করছে। সুনির্দিষ্টভাবে যখন জানে, তখন প্রমাণ দেবে না কেন? সেটার প্রমাণ যদি দিতে না পারে, তা হলে যে মিথ্যা অভিযোগ করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নানা বিশৃঙ্খলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ না করে কেবল দুর্নীতি দুর্নীতি বলে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দেবে না, বিশ্ববিদ্যালয় চলতে দেবে না, তাদের আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙচুরÑ এটা তো এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজ যারা ছাত্র তারা কাল থাকবে না। তা হলে ভাঙচুর কেন? যাদের জন্য কাজ, তারাই যদি ভাঙে তা হলে আমরা কাজ করব কিভাবে? এগুলো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এসবের পেছনে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আছে। উন্নয়ন অনেকের কাছে পছন্দ হচ্ছে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এসব ভালো লাগছে না।’
এ সময় বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ছাত্রের ঘটনা যখনই শুনি তখনই আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। আসামি গ্রেফতার হয়েছে। মামলা হয়েছে। এখন তা হলে আন্দোলন কিসের? আমার সেখানেই প্রশ্ন। দিনের পর দিন ক্লাস করতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তা হলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে কেন? এ ধরনের কাজ যারা করবে সাথে সাথে তাদের ইউনিভার্সিটি থেকে এক্সপেল করে দেয়া উচিত।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্র-শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবে? আর তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রতিটি পাবলিক ভার্সিটি কত টাকা খরচ করে পড়ার জন্য? খরচ তো সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করি। এটি হলে তো নিজেদের অর্থ জোগান দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে টাকা দেই। বাজেটে আমরা টাকা দেবো কিন্তু সরকার সেখানে কিছু করতে পারবে না। দিনের পর দিন ক্লাস বন্ধ করে থাকবে। এটি তো হয় না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের পর থেকে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আজকে এতগুলো টিভি চ্যানেল, আগে একটিমাত্র টিভি চ্যানেল ছিল। এতগুলো চ্যানেলের ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪৪টি চ্যানেল অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি চ্যানেল এরই মধ্যে চলছে। সেখানে কত কর্মসংস্থান, কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আবার সেখানে মধ্য রাতে টকশো চলে। সেখানে অনেক কথা বলার পরও তারা বলে আমার কথা বলার অধিকার নেই। আমরা তথ্য অধিকার আইন করে তথ্য কমিশন গঠন করেছি। সেখানে যে কেউ যেকোনো তথ্য পেতে পারে। এ সুযোগ কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যত বেশি সুযোগ দেয় তত বেশি সমালোচনার শিকার হয়। আগে কথাও বলতে পারত না, সমালোচনা করতেও পারত না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ আর্থসামাজিকভাবে উন্নতি করেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে, সব দিক থেকে দেশের উন্নতি হয়েছে, তা হলে অভিযোগটা কী? আমরা তো কাজ করে যাচ্ছি। আমরা মেট্রোরেলের কাজ করছি, এখানে স্টেশন হতে পারবে না, ওখানে হতে পারবে না। যাদের সুবিধার জন্য তারাই সেখানে আন্দোলন করে স্টেশন হতে দেবে না। আধুনিক প্রযুক্তিতে কাজ করতে হলে তো কতগুলো নিয়ম মানতেই হবে। তাদের অসুবিধাটা কোথায়? তারা ট্রেন থেকে নেমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে চলে যাবে। আর তারাই যদি বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তা হলে ডেভেলপমেন্টটা হবে কিভাবে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ তে উঠে গেছে। স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল দেশে আমরা অগ্রযাত্রা শুরু করেছি। অনেকের কাছে এটা হয়তো পছন্দ হবে না। কারণ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে বাংলাদেশকে পেছনে টেনে রাখতে সক্ষম হয়েছিল তারা। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আর তা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেখানেই বোধহয় তাদের মনে কষ্ট।’
রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তাদের একটা দায়িত্ব থাকে। রেসিডেন্সিয়ালে একটা ঘটনা ঘটল। আয়োজকরা এটাকে এতটা নেগলেক্ট করেছে! বাচ্চাটা মারা গেছে, এর পরও ঘটনাটা চাপা দিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। ধানমন্ডিতে এত হাসপাতাল, তবুও মহাখালীতে নিয়ে গেল। প্রথম আলো এ ধরনের একটা ঘটনা কিভাবে ঘটায়? তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই? ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের নিরাপত্তা না দেখা এটাও তো গর্হিত অপরাধ। এটা তো বরদাশত করা যায় না।’


আরো সংবাদ