১৭ নভেম্বর ২০১৯

জাবিতে ভিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত

মহাসড়কের পাশে অবস্থান
-

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পঞ্চম দিনেও ভিসির দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টায় আন্দোলনকারীরা কলা ও মানবিকী অনুষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে জাবির শহীদ মিনার, অমর একুশে ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে মহাসড়কের পাশে অবস্থান করেন। এ সময় তারা গত শুক্রবার ভিসির দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র সংবলিত আঁকা ৬০ গজ দীর্ঘ ‘পটচিত্র’ নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে মহাসড়কের পাশে অবস্থান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আন্দোলনকারীরা দুর্নীতিবিরোধী সেøাগান দিয়ে আবার নতুন কলা ভবনে আসেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি দমনের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। গতকাল আমরা শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব ডক্টর আলীম খানের কাছে ভিসির দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছি। সেখানে ছয় পাতার অভিযোগপত্র ও সত্তরটি নথিপত্র জমা দিয়েছি। আশা করি সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবেন।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তদন্তের বিষয়ে উপমন্ত্রীর আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। তবে উপমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাবি থেকে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত আসতে চার দিন লাগে নাকি? এখানে দুরভিসন্ধিও থাকতে পারে!’ আমরা বলতে চাই, আন্দোলনকারীদের (আমাদের) প্রতিনিধিদল যখন গত ৩ তারিখে প্রথমবার শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনির সাথে আলোচনায় বসেছিল, তখন ৮ তারিখের মধ্যে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত দেয়ার কথা ছিল। আমরা তা ৮ তারিখের মধ্যেই জমা দিয়েছি।’ হয়তো এ বিষয়টি উপমন্ত্রী জানতেন না।’ এ ছাড়াও সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার প্রকল্পের টাকা ছাড়েনি। তাই বলে দুর্নীতি হতে পারে না, আমরা এটা বিশ্বাস করি না। টাকা না ছাড়লেও ঠিকাদারদের চাপ দিয়ে টাকা নেয়া যায়।’
শিক্ষা উপমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাব দিলেন জাবির আন্দোলনকারীরা : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিরুদ্ধে শিক্ষা উপমন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়াও তাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন কলা ভবনের এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আন্দোলন ও মন্ত্রীর বক্তব্যে সম্পর্কে স্পষ্ট করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শহিদুল ইসলাম পাপ্পু লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ৩ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আন্দোলনের শিক্ষক প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়। সেখানে মন্ত্রী ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও তথ্য তার কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এ দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী আমাদের বিরুদ্ধে কালক্ষেপণের যে অভিযোগ তুলেছে, আমরা মনে করি শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় এই সময় বেঁধে দেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষা উপমন্ত্রী অবগত ছিলেন না।
শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, শিক্ষামন্ত্রী বরাবর যে তথ্য উপাত্ত আমরা উপস্থাপন করেছি, সেটি তিনি পড়ে দেখেননি। শিক্ষা উপমন্ত্রী পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হলে তিনি এমন বক্তব্য দিতেন না। অন্য দিকে আন্দোলনে ছাত্রলীগের এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে ‘গণ অভ্যুত্থান’ উল্লেখ করে করে তিনি ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহান চেতনাকে কলঙ্কিত করার দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। এ ছাড়াও ভিসি নিজেই সৃষ্টি করা এই অচলবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ভ্যাকেন্ট ঘোষণা করেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী আমাদের দিকে অনেকগুলো প্রশ্ন ছুড়েছেন। প্রথমেই তিনি প্রকল্পের অর্থ ছাড় না হওয়ার কথা বলেন। দুর্নীতি কেবল অর্থ ছাড়ের মাধ্যমেই ঘটতে পারে তা নয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই গত ২৬ মে ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ভিসি বরাবর ছাত্রলীগ কর্তৃক টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইয়ের লিখিত অভিযোগ করে।
সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ই-টেন্ডার পদ্ধতির নিয়ম থাকলেও তিনি ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন, যা দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়। বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা বিচার চাই। কিন্তু সেই অভিযোগের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে তিনি নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন।
এদিকে দুর্নীতির টাকা পাওয়ার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়া দুই ছাত্রলীগ নেতার জবানে এই ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এমনকি তারা নির্দিষ্ট তারিখে ভিসি তার স্বামী, ছেলের কল রেকর্ড ঘেটে দেখলে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন। এমনকি এ ব্যাপারে ঢাকা ট্রিবিউনে তিনি স্বীকারোক্তি দেন যে তিনি শুনেছেন কোনো একটি কোম্পানি ছাত্রলীগকে দুই কোটি দেয়ার কথা থাকলেও এক কোটি টাকা দিতে চাচ্ছে।
আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগাপ্রজেক্ট কেন্দ্রিক কোনো রকম দুর্নীতির আভাস পেলেই একজন ভিসির উচিত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তিনি তা না করে উলটো টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়ার দায়িত্ব নেন বলে জানা যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় মেগাপ্রজেক্ট কেন্দ্রিক দুর্নীতির সাথে ভিসি ও তার পরিবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যদিও শিক্ষা উপমন্ত্রী তদন্তের ব্যাপারে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তবে তার বক্তব্যে টাকা ছাড় না হওয়ায় দুর্নীতি হয়নি, এমন যে দাবি করেছেন, তা আসলে তদন্তের আগেই তদন্তের ফলাফল বলে দেয়ার নামান্তর। আমরা তাই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি। এ দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী গত ৭ নভেম্বর ভিসির বাসভবনের সামনে হওয়া প্রতিবাদী কনসার্টের অর্থ জোগান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা তাকে জানাতে চাই, ওই কনসার্টে আমরা কোনো ধরনের সাউন্ড সিস্টেম পর্যন্ত ব্যবহার করিনি। শিল্পীরা মাত্র একটি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে গান গেয়েছেন এবং আন্দলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে তারা কোনো পারিশ্রমিকও নেননি। তাই কনসার্ট কেন্দ্রিক ব্যাপক অর্থ খরচের প্রশ্ন আসে না। আমরা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকেই গণচাঁদা উত্তোলনের মাধ্যমেই প্রতিটি কর্মসূচি সফল করে এসেছি।
আমরা আশা করেছিলাম দেশের গ্রহণযোগ্য ও প্রথম সারির গণমাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ ফলাও করে প্রচার করার পর সরকার উদ্যোগী হয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম যে,শিক্ষা উপমন্ত্রী তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাহ্য করে গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রদান করেন। এর ফলে আন্দোলনে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। এবং তার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে পুরো দেশবাসীর নজরে এসেছে এবং সরকার তদন্তের উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়েছে।
আমরা বলতে চাই, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ চাইনি বরং উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্নীতির তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এবং সরকারের নির্লিপ্ততা বর্তমান পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। আমরা কোনো ধরনের অরাজতকতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শৈল্পিকভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছি বরং ভিসির নির্দেশে ছাত্রলীগের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। আমরা আশা করে ছিলাম উপমন্ত্রী ছাত্রলীগের ভয়াবহ আক্রমণের নিন্দা জানাবেন; কিন্তু তিনি উলটো আমাদেরকেই অরাজকতা সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করেছেন। তার এই বক্তব্যে আমরা মর্মাহত। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের সময় ভিসিকে ছুটিতে রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করার কথা বলা হয়। এ দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’এর কারণে রোববার ও সোমবার আন্দোলনে বিরতি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারপর মঙ্গলবার থেকে আবার নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে বলে জানানো হয়।


আরো সংবাদ

দুই কেজি মুরগির দামে ১ কেজি পেঁয়াজ ভারতে আবারো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনছে বিজেপি মাঠ সংস্কার উদ্বোধনে হাজী সেলিম অনুসারীদের হট্টগোল! চারুকলায় উৎসবে নবান্নকে বরণ ‘সুস্থ জীবনযাপনে মহানবীর জীবন অনুসরণের বিকল্প নেই’ খেলার মাঠগুলোকে বিশ্বমানের করা হচ্ছে : সাঈদ খোকন কেরানীগঞ্জেই হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গার এমপি পদ ও পরিবহনের শীর্ষ পদ থেকে বহিষ্কার দাবি ঐক্যলীগের নতুন বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে : জি এম কাদের রাস্তা প্রশস্ত করার খবরে মুগদাবাসীর উদ্বেগ তাঁতি দলের আলোচনা সভা পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারই জড়িত : গয়েশ্বর

সকল