০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সংশোধিত পিপিপি আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হ বাসস -

বিভিন্ন দেশের সাথে জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে প্রকল্প নেয়ার বিধান এবং বছরে ছয়টির পরিবর্তে বোর্ড অব গভর্নরসের একটি সভা অনুষ্ঠানের প্রস্তাব রেখে ‘বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (সংশোধন) আইন, ২০১৯’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়াও চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা বিধান যুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং অবকাঠামো গড়ে তুলতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মধ্য দিয়ে বেসরকারি খাতের সাথে অংশীদারিত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫’ তথা ‘পিপিপি আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পিপিপি আইনের বাস্তবায়নপর্যায়ে অভিজ্ঞতার আলোকে আইনে কিছু সংশোধন আবশ্যক হওয়ায় এটি সংশোধন করা হচ্ছে। পিপিপি আইন, ২০১৫-এ জি-টু-জি প্রকল্পের বিষয়ে কোনো বিধান ছিল না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পিপিপি আইন, ২০১৫ প্রবর্তিত হওয়ার পর সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে পিপিপি প্রকল্প (জি-টু-জি পিপিপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ইতোমধ্যে ‘পলিসি ফর ইমপ্লিমেন্টিং পিপিপি প্রজেক্টস থ্রু গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) পার্টনারশিপ, ২০১৭-এর আওতায় জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও দুবাইয়ের সাথে সমঝোতা বা সহযোগিতাস্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশও এই প্রক্রিয়ায় প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের জি-টু-জি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে বিদ্যমান আইনে তিনটি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ার বলেন, পিপিপি আইন, ২০১৫-এর ৮(২) ধারায় বলা ছিল বছরে পিপিপি পরিচালনা পর্ষদের ছয়টি বৈঠক হতে হবে। তবে সংশোধিত আইন অনুযায়ী এখন থেকে বছরে একটি বৈঠক করলেই হবে। কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে ছয়টি বৈঠক হয়ে ওঠে না, তাই একটিই করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী পিপিপি পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী বোর্ড গঠন করতে হবে। এই নির্বাহী বোর্ডের গঠন, দায়িত্ব ও সভা অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিষয়গুলোও সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পিপিপি আইন, ২০১৫-এর আওতায় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান আছে। এই আইনের ১১ ধারায় বলা আছে, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়োগকৃত কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। তবে সংশোধিত আইনে এটায় পরিবর্তন এসেছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সব কর্মীর জন্য বিধানাবলি নির্ধারণ করবে এবং তাই সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। সংশোধনীর ৬ ধারায় এটা বলা হয়েছে। পিপিপি আইনে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলিতে পিপিপি সম্পর্কিত নীতিমালা/প্রবিধি/নির্দেশনা/গাইডলাইন প্রণয়ন, অনুমোদন, গেজেটে প্রকাশ ও জারিকরণের বিষয় উল্লেখ আছে। নতুন আইনে নীতিমালা/প্রবিধি/নির্দেশনা ও গাইডলাইনের সাথে ‘কার্যপ্রণালী’ শব্দটি সংযুক্ত করা হচ্ছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পিপিপি আইনে চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ যেসব ক্ষেত্রে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সহায়তা ও মতামত গ্রহণ করবে। পিপিপি প্রকল্প গ্রহণ থেকে শুরু করে চুক্তি স্বাক্ষর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ ও চুক্তি সংশোধনের ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয় উল্লেখ আছে।
মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক : মন্ত্রিসভা চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদ নেতা মঈন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় বলে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক প্রয়াস জরুরি : প্রধানমন্ত্রী
বাসস জানায়, উন্নয়নের জন্য শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাটা জরুরি আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই ডায়ালগের আয়োজন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে, পরস্পরের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা বা ‘জিরো-সাম গেম’ বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের ‘নীল অর্থনীতি’ বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আরো মনে করি, সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে ‘নীল অর্থনীতির’ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।’
প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি এবং বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পদাঙ্কÑ ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মেনে চলছে, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার প্রদর্শিত এই পথে আমরা আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সামির স্মরণ এবং বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা ও পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একক দেশের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোতে যোগ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য। দূষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সব সমস্যা সমাধানে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় দ্বিপক্ষীয় ও বহু পক্ষীয় সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদার করার জন্য আমি সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই।’
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেমনিভাবে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর ‘কমন এনিমি’ হিসেবে দারিদ্র্যকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু। কাজেই আমাদের সব কাজের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের দারিদ্র্য দূর করে তাদের সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করা।’
জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে এর প্রভাবে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকার প্রধান বলেন, ‘এর ফলে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদী ভাঙনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সাথে নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হয়।’ এ প্রসঙ্গে তিনি অতি সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রসঙ্গ টেনে দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অর্জনেরও উদাহরণ দেন।
ভৌগোলিক কারণে ভারত মহাসাগরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই স্থান দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে, যা এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর জ্বালানি ও রসদের জোগান দেয়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের কনটেইনার শিপমেন্টের অর্ধেক এবং সমুদ্রবাহিত তেলবাণিজ্যের শতকরা ৮০ ভাগ অতিক্রান্ত হয় ভারত মহাসাগর দিয়ে। বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের শতকরা ১৬ দশমিক ৮ ভাগ ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের শতকরা ২৭ দশমিক ৯ ভাগ এই মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন সাগরগুলোতে অবস্থিত।’
‘এই অঞ্চলে সারা বিশে^র শতকরা ২৮ ভাগ মৎস্য আহরিত হয়,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং কৌশলগত কারণে ভারত মহাসাগর বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি বিবেচনায় বর্তমান শতক ‘এশিয়ার শতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধির স্বার্থে শান্তি-সৌহার্দ্য বজায় রাখা আবশ্যক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশ তার সমগ্র ভূখে যে পরিমাণ সম্পদ উৎপাদন করে, তার প্রায় সমপরিমাণ সম্পদ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্য থেকে আহরণ করা সম্ভব।’ তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত মহাসাগরকে ঘিরে মোট ৪০টি উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান। সেখানে বাস করে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আছে ছয়টি দেশ। আরো কয়েকটি দেশ যেমন : নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যদিও বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত নয়, তবুও তাদের অর্থনীতিতে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।  

 


আরো সংবাদ