১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
জাবি ভিসি অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

২১ তারিখের মধ্যে হল খুলে দেয়ার দাবি

জাবিতে ভিসির অপসারণ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি পালন হ নয়া দিগন্ত -

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ ও হল খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মিছিলটি নতুন কলা ভবনসংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পুরনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলননের সংগঠক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এখানে যে আন্দোলন হচ্ছে তা বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার আন্দোলন। প্রশাসন ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলে, আবারো সবাই আন্দোলনে আসবে। সরকারের উচিত তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু ও সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির কাছে ভিসির দুর্নীতির অভিযোগ দেয়া হয়েছে তার তদন্ত শুরু করতে হবে। তদন্ত চলাকালীন ভিসিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাতে হবে। তদন্তে ভিসি নির্দোষ প্রমাণিত হলে তিনি নিজ পদে বহাল থাকবেন। তিনি আরো বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভিসির বিরুদ্ধে তদন্তে সহায়তার করার সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এখনো জাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসি থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিরাপদ করে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে, হল ভ্যাকেন্ড করে দিয়েছে। ৫ নভেম্বরের জরুরি সিন্ডিকেটে সাতজনের মধ্য দু’জন সিন্ডিকেট সদস্য হল ভ্যাকেন্ডের বিরোধিতা করলেও হল ভ্যাকেন্ড করা হয়। সেই সদস্যরা বলছে, ভ্যাকেন্ডের মতো পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়নি। প্রশাসনের সন্ত্রাসী হামলা, মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করার পথকে অস্বীকার করে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ দিকে আন্দোলনের সার্বিক বিষয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় আন্দোলনের সংগঠক আরিফুল ইসলাম অনিক লিখিত বক্তব্যে একুশ তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। এ দিকে সংবাদ সম্মেলনে তারা অনতিবিলম্বে ভিসির অপসারণ দাবি করেন এবং গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য ভিসির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এ সময়ে ভিসি কর্তৃক যেকোনো প্রশাসনিক কাজ ও সিলেকশন বোর্ড করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
দুর্নীতিবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে জিডি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের দুই সংগঠক নজির আমিন চৌধুরী জয় ও মাহাথির মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় জিডি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভিসি ফারজানা ইসলামের সাথে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলে আশুলিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়।
গতকাল বুধবার বিকেলে জাবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকতা সুদীপ্ত শাহিন ভিসি ফারজানা ইসলামের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়, ‘নজির আমিন চৌধুরী জয় ও মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে আরো পাঁচজন কথিত আন্দোলনকারী অফিস চলাকালীন সময় ভিসির কক্ষে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে তাকে (ভিসিকে) অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ অফিস থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলেন। অফিস থেকে চলে না গেলে ভিসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি প্রদান করে; যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এমতাবস্থায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ভিসি ম্যামের অনুমতি নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেছি এবং আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে তিনি (ভিসি) যেন অফিস না করেন যে জন্য তাকে অনুরোধ করেছি। এ সময় আমাদের একজন ভিসিকে বলছিল, গত ৫ নভেম্বর আমাদের ওপর যে অন্যায় হামরা হয়েছে, তাতে অনেকে আহত হয়েছে। তখন ভিসি বললেন, ‘তোমরা যে আমাকে খোঁচা দিয়েছো এ জন্য হামলা হয়েছে। ভিসি ম্যামের সাথে কোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার করার প্রশ্নই আসে না। আমরা আজকে (বুধবার) অফিস না করার জন্য ভিসিকে অনুরোধ করেই ভিসি অফিস ত্যাগ করি। কিন্তু ভিসি ফারজানা ইসলাম অতীতের মতো আমাদের নামে মিথ্যাচার করে যে সাধারণ ডায়েরি করেছেন, তাতে প্রমাণিত হয় তিনি একজন মামলাবাজ। এ মিথ্যা জিডির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এই ভিসি আমাদের জন্য অনিরাপদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অনিরাপদ।


আরো সংবাদ