১১ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতের সাথে চুক্তি প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির চিঠি

-

ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।
পরে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, দলের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর মহাসচিবের স্বাক্ষর করা চিঠিটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে দিয়ে এসেছি। চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন। এক পৃষ্ঠার চিঠিতে বিএনপি বলেছে, বাংলাদশের সংবিধানের ১৪৫ (ক) ধারা অনুযায়ী বিদেশের সাথে সম্পাদিত সব চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার কথা উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে। কিন্তু ভারতের সাথে যেসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হলো তার কোনোটি জনসমক্ষে কিংবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ, এ সব চুক্তি খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। এ সব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে অবহিত থাকা জনগণের মৌলিক অধিকার, যে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা স্পষ্টতই সংবিধানের লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) ভারতের সাথে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সব চুক্তির পূর্ণ বিবরণী অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসমক্ষে প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট নানবিধ প্রশ্ন ও সন্দেহ দূর করার আহবান জানাচ্ছি।
গত ৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুবিধা, বঙ্গোপসাগরে রাডার স্থাপনসহ সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এসব চুক্তি ও সমঝোতা দেশের স্বার্থ পরিপন্থী বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে ওইসব চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই চিঠি দিলেন।


আরো সংবাদ

সকল