১১ ডিসেম্বর ২০১৯

চীনবান্ধব রাজপাকসের জয় শ্রীলঙ্কায়

-

শ্রীলঙ্কায় গত শনিবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বিরোধী জোটের প্রার্থী গোটাবায়া রাজাপাকসে (৭০)। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ভাই। গতকাল রোববার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সাজিথ প্রেমাদাসাকে পরাজিত করেছেন। সাজিথ পরাজয় স্বীকার করে গোটাবায়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আজ দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন গোটাবায়া। শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসে পরিবারকে চীনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে ভাবা হয়। এ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় গোটাবায়াকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আশা করব আমরা এক সাথে কাজ করতে পারব। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহিন্দা দেশাপ্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ করে গোটাবায়াকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এক কোটি ৫৯ লাখ ৯ হাজার ভোটারের মধ্যে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮৩.৭২ শতাংশ। এর মধ্যে গোটাবায়া রাজাপাকসে পেয়েছেন ৬৯ লাখ ২৪ হাজার ২৫০ ভোট যা প্রদত্ত ভোটের ৫২.২৫ শতাংশ। অন্য দিকে সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছেন ৫৫ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৯ বোট যা প্রদত্ত ভোটের ৪১. ৯৯ শতাংশ। প্রাথমিক ফলাফলের পর এক টুইটবার্তায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন গোটাবায়া রাজাপাকসে। এতে তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার সব অধিবাসী এই জয়ের অংশীদার।’
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিংহলী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় গোটাবায়া এবং তামিল জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় সাজিথ প্রেমাদাসা বেশি ভোট পেয়েছেন। গোতাবায়া রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দেশটিতে ৩৭ বছর ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধে তামিল গেরিলাদের পরাজিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তবে দুর্নীতি ও বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের অনেকটা সময়জুড়ে ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের মধ্যে দ্বন্দ্বই ছিল এ সঙ্কটের মূল কারণ। এর মধ্যেই ঘটে যায় দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা। গত এপ্রিলে ইস্টার সানডের দিনে একযোগে কয়েকটি গির্জা ও হোটেলে চালানো হামলায় নিহত হন ২৫০ এর বেশি মানুষ। এই নির্বাচনের প্রচারে সেটাকেই হাতিয়ার করেছিলেন গোটাবায়া রাজাপাকসে। শাসক দলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগকে বারবার তুলে ধরেছিলেন গোতাবায়া। তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় দেশে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনেকের মতে, সেটাতেই তার বিজয়ের অর্ধেক পথ পরিষ্কার হয়ে হয়ে গিয়েছিল।
২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি শ্রীলঙ্কার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আগামী বছরের শুরুতেই পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। মনে করা হচ্ছে, সেই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নামবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি জিতে গেলে পুরো দেশটির শাসনব্যবস্থাই চলে যাবে তাদের পরিবারের হাতে।

 


আরো সংবাদ