০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন

-

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই পলাতক আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ গ্রেফতার করছে কী করছে না সেই মর্মে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গতকাল চকবাজার থানার আদালতে জিআরো এসআই মাজাহারুল ঢাকার অতিরিক্ত সিএমএম কায়সারুল ইসলামের আদালতে চার্জশিটটি উপস্থাপন করেন। এ সময় কারাগারে থাকা ২১ এবং আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত হাজিরা গ্রহণ চার্জশিটটি পর্যালোচনা করেন। চার আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত। গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো: ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনার ৩৭ দিন পর ঢাকার সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় চার্জশিট জমা দেন। পলাতক আসামিরা হলো : মুজতবা রাফিদ, মোরশেদ অমর্ত্য, মাহমুদুল জিসান ও এহতেশামুল রাব্বি।
যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হলো তারা হলো : মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিই বিভাগ, ১৪তম ব্যাচ), মো: অনিক সরকার, (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), মো: মেহেদী হাসান রবিন (সিই বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৬তম ব্যাচ), মো: মনিরুজ্জামান মনির (পানি সম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো: মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), মো: মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো: মোজাহিদুল রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), খোন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো: জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো: আকাশ (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মো: শামীম বিল্লা (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), মো: শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো: তানীম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো: মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো: মোয়াজ (সিএসই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) ও মুনতাসির আল জেমি (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ)। ইস্তাক আহমেদ মুন্না, মিজানুর রহমান মিজান, এস মাহবুদ সেতু, সামছুল আরেফিন রাফাত, মোস্তাফা রাফিত এবং অমিত শাহ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, উল্লিখিত ঘটনায় ১১ জন সরাসরি জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্দেশদাতা ও লাশ নিচে নামিয়ে আনায় জড়িত ছিল আরো ১৪ জন। এ কারণে ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলোÑ মেহেদী হাসান রাসেল, মো: অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো: মেহেদী হাসান রবিন, মো: মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো: মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো: মনিরুজ্জামান মনির, মো: আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো: মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা ও এ এস এম নাজমুস সাদাত।
এজাহারবহির্ভূত পাঁচজন হলো : ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো: মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু।
এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তারা হলেন : নাজমুস সাদাত, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মনিরুজ্জামান মনির।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে ওই হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদি হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।


আরো সংবাদ