১০ ডিসেম্বর ২০১৯

সশস্ত্রবাহিনী দিবস পালিত

সশস্ত্রবাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাসস -

গতকাল বৃহস্পতিবার যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোয় দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্রবাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্রবাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল তাদেরকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছলে তাদেরকে স্বাগত জানান তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফ্ফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আরোঙ্গজেব চৌধুরী এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে যান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মহাপরিচালকবৃন্দ। সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্ধারিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি তাদের হাতে সম্মানী চেক এবং উপহার তুলে দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৯ জন সেনা, দু’জন নৌ এবং তিনজন বিমানবাহিনী সদস্যকে ২০১৮-২০১৯ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করেন। সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন।
সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের নিকট আত্মীয়সহ প্রায় ১০১ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীগণ সংবর্ধনায় যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব:), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের সাথে চা-চক্রে মিলিত হন। এর পরে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল নৌবাহিনী প্রধান নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এ ছাড়া বিমানবাহিনী প্রধান আজ বিমানবাহিনীর এবং সেনাবাহিনী প্রধান ২৫ নভেম্বর সেনাবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করবেন।
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলব, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষ করে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সঙ্কটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একটি মহল এটা করবে, এটা স্বাভাবিক। কাজেই সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পেঁয়াজ, লবণ এবং চালের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সাম্প্রতিক অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং সশস্ত্রবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সশস্ত্রবাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মাছ ও সবজিসহ বিভিন্ন তরিতরকারির উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং এখন জনগণের নিরাপদ খাদ্য এবং পুুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তা কখনো বৃথা যেতে পারে না।’
শেখ হাসিনা এ সময় জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের জন্য সম্ভব সব কিছু করে যাওয়ায় তার সরকারের সঙ্কল্পেরও পুনরুল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে আমরা সঙ্কল্পবদ্ধ। আমরা তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং সম্মান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং খেতাবজয়ী সশস্ত্রবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মানীর চেক এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৯ জন সেনাসদস্য, দু’জন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমানবাহিনীর সদস্যের হাতে শান্তিকালীন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন।
সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আরোঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চপদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সশস্ত্রবাহিনীর খেতাবজয়ী ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার-পরিজন এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়রা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সশস্ত্রবাহিনীর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সশ¯্রবাহিনী দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীনের পর এই দিনটি প্রতি বছর সশস্ত্রবাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ