২৩ জানুয়ারি ২০২০

আ’লীগের সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না

-

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলের সদ্য সম্মেলন হয়ে যাওয়া সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে ক্লিন ইমেজের ত্যাগী নেতাদের বাছাই করা এবং সহযোগী সংগঠনের বাদ পড়া নেতাদের মূল দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনার কারণেই কমিটি গঠনে সময় নেয়া হচ্ছে। সে জন্য নতুন বছরের আগে আপাতত সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চারটি সহযোগী সংগঠনের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে গত ৬ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সম্মেলনে শুধু সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে সংগঠনগুলোকে সাত দিন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠনেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।
সংগঠনগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মদ, জুয়া, টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনো কাণ্ডে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে সহযোগী সংগঠনগুলো। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার খবরে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইমেজ সঙ্কটে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অব্যাহতি দিয়ে সম্মেলনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে হাইব্রিড ও বিতর্কিত কোনো নেতাকর্মী যাতে পদে আসতে না পারে সে ব্যাপারেও কড়া সতর্কবার্তা দেন শেখ হাসিনা। সে জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটির সম্ভাব্য নেতাদের ব্যাপারে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। ফলে কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে।
সূত্রগুলো আরো জানায়, আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন হবে। ফলে সহযোগী সংগঠনের অনেক সিনিয়র ও বাদ পড়া নেতাকেই মূল দলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তাই আগেই সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয়া হলেও ব্যস্ততার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারছেন না। ফলে কমিটি ঘোষণায় খানিকটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ঘনিয়ে আসায় আপাতত কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমরা নানা বিষয় মাথায় রেখে পরিচ্ছন্ন একটি কমিটি উপহার দিতে চাই। বিতর্কিত কাউকে নেতা বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে খসড়া কমিটি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবো। এরপর উনি দেখেশুনে ছেড়ে দিলে দ্রুত সময়ে কমিটি ঘোষণা করে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়ে গেছে, তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনও সামনে। এর জন্যও আমরা কিছু সময় নিতে চাই। দেখা গেল আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগে কাউকে নেতা বানালাম তিনি আবার আওয়ামী লীগেও পদ পেয়ে গেলেন। এটা এক ধরনের জটিলতা তৈরি করবে। তাই একটু সময় নিচ্ছি।’
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হাসান খান নিখিল বলেন, ‘আমরা যুবলীগের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। সে জন্য কেন্দ্রীয় যুবলীগে আগ্রহী নেতাদের বায়োডাটা খুব সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করছি, যাতে বিতর্কিত কেউ ঢুকে পড়তে না পারে। আমরা শিগগিরই নেতাদের একটি শর্টলিস্ট তৈরি করে তা নেত্রীর কাছে জমা দেবো। আর নেত্রী তার চূড়ান্ত সম্মতি দিলে প্রকাশ করা হবে।’ তবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে কমিটি দেয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম বলে জানান তিনি।
কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, ‘চলমান শুদ্ধি অভিযানের কথা মাথায় রেখেই আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ১১১ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি করেছি। নেত্রী ওই খসড়া কমিটি দেখে চূড়ান্তভাবে সম্মতি দিলে অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রেসে দিয়ে দেবো।’
কমিটি গঠনে সাত দিন সময়সীমা বেঁধে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘এত বড় সহযোগী সংগঠনগুলোতে সম্মেলনের সাত দিনের মধ্যেই কমিটি দেয়াটা একটু কঠিন। নতুন কমিটিতে কারা থাকবে এবং কারা থাকবে না তা যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগে। কমিটিতে আগ্রহীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে কি না সেটাও খোঁজখবর নিতে হয়। সে জন্য কমিটি গঠনে বিলম্ব হতেই পারে। আসলে সাত দিন বলতে শিগগিরই কমিটি দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তাই আশা করি সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা অতি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দিতে সক্ষম হবেন।


আরো সংবাদ