২৬ জানুয়ারি ২০২০

রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগে সমন্বয় ও সুসম্পর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : পিআইডি -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগÑ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে অবশ্যই যথাযথ সমন্বয় ও সুসম্পর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ে বিশ্বাস করি রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য। এই বিভাগগুলো তাদের নিজেদের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ন্যায়বিচার, শান্তি এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই বিভাগগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় জরুরি।
শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার’ শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন ২০১৯ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি অবস্থান আশা করি যেখানে রাষ্ট্রের এই তিনটি বিভাগ একে অপরের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না। এতে ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখা ও সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিঘœ ঘটবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছেন এবং এটি পরিবর্তনের কর্তৃত্ব কেবল তারই। তিনি (রাষ্ট্রপতি) ‘রুলস অব বিজনেস’ও তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) এবং ৫৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারবে না। তবে কখনও কখনও রাষ্ট্রপতির জুরিডিকশনের অধীন ইস্যুতে অর্ডার দিতে দেখছি।’ প্রধানমন্ত্রী আশা করেন যে, বিচারকরা তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগানোর পাশপাশি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবেন। শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব অনুযায়ী অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ জোরদারে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো: গোলাম সারোয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো: আলী আকবর এবং মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ হোসনে আরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সারা দেশের নি¤œ আদালতের বিচারকগণ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
শেখ হাসিনা বিদেশী ভাষায় বেশির ভাগ মামলার বাদি-বিবাদির স্বল্প জ্ঞানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় মামলার রায় দেয়ার জন্য বিচারপতিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইংরেজিতে স্বল্প জ্ঞানের কারণে বেশির ভাগ বাদি-বিবাদিকে মামলার রায় বুঝার জন্য তাদের আইনজীবীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগ নেই এবং বহু ক্ষেত্রে এজন্য তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতএব ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় বিচারের রায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন এবং সেই সময়ের মধ্যে তিনি সংবিধান প্রণয়নসহ দেশের সব মৌলিক উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, ওই সংবিধানে দেশের জনগণের ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশের সব ধরনের উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেমে যায়।
ইনডেমনিটি আইন বাতিলের রায় দিয়ে জাতির পিতার হত্যার বিচারের পথ সুগম করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে সামরিক স্বৈরশাসকদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলে অভিহিত করার কারণে বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’
ফেনী মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত হত্যার মতো কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করার জন্য ই-জুডিশিয়ারি ব্যবস্থার প্রবর্তন জরুরি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধীদের পরিবহনের ঝুঁকি কমাতে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে কুখ্যাত অপরাধীদের বিচার হতে পারে।
বিচার বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মহিলা বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সর্বপ্রথম সর্বোচ্চ আদালতে একজন মহিলা বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছিল। বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রয়োজনীয় আদালত কক্ষের সঙ্কট কমাতে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১২৮ জেলায় জেলা জজ আদালত ভবন সম্প্রসারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করবেন
আজ বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মো: মুরাদ হাসান ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
স্বাগত বক্তৃব্য রাখবেন তথ্য সচিব আব্দুল মালেক। এর আগে নভেম্বরে ২০১৭ ও ২০১৮ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ২৭ ও ২৮টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বাংলাদেশী চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।


আরো সংবাদ

কিশোরগঞ্জে ভিক্ষুকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার পরকীয়ার জেরে ২ সন্তানের জননীকে নিয়ে পালালো যুবলীগ সভাপতি নকলের দায়ে ইবির ২২ শিক্ষার্থীর শাস্তি এনআরসির প্রভাব বাংলাদেশে না পড়ার ব্যাপারে ভারত নিশ্চয়তা দিয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকা-ব্রিটেন যেভাবে উৎখাত করেছিল ইরানের মোসাদ্দেক সরকারকে তাবিথ আউয়ালের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট সাধারণ জনগণের উন্নতি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত : প্রধানমন্ত্রী ধানের শীষের জয় নিশ্চিত, এই ভয়ে তারা হামলা শুরু করেছে : তাবিথ বিদেশ থেকে আসার সময় যেসব জিনিস আনতে পারবেন ঘটনা দু’টির মিল-অমিল

সকল