২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাবির গেস্টরুমে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর ছাত্রলীগের নির্যাতন

-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন চালিয়েছে শাখা ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতারা। মারধরের একপর্যায়ে আবাসিক শিক্ষক গেস্টরুমে উপস্থিত হলেও তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। নির্যাতনের পর আহত শিক্ষার্থীদের হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে। পরে শিক্ষার্থীদের অবস্থা গুরুতর দেখে রাতেই তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার চার শিক্ষার্থী হলেন, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুকিমুল হক চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সানোয়ার হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২য় বর্ষের মিনহাজ উদ্দিন এবং আরবি বিভাগের ২য় বর্ষের আফসার উদ্দিন।
নির্যাতনে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে ছিলেনÑ হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, কামাল উদ্দিন রানা, সুরাপ মিয়া সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহসভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসী অনন্ত, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মাহফুজুর রহমান ইমন, শাহীন আলম প্রমুখ। এরা সবাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশ^বিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।
হল শাখা ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মারধর করে তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতাকর্মীরা রাত ১১টায় সন্দেহবশত দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে শিবির করে কি না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে আসে। পরে শিবিরের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগে তাকে মানসিক চাপ দিতে থাকে। স্বীকার না করায় তাকে মারধর করতে থাকে। এ সময় তার মোবাইলে আরো তিন বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ তালিকায় নাম থাকায় সন্দেহবশত তাদেরও ডেকে গেস্টরুমে আনা হয়।
এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের সহসভাপতি সাইফুল্লাহ আব্বাসীসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতারা এসে হাতুড়ি, রড, লোহার পাইপ, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, পায়ের পরিহিত জুতা এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। মারধরে গুরুতর আহত হন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা মতে, রাত ১১টায় জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের নিয়মিত গেস্টরুম চলছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মুকিমুল হক চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে গেস্টরুমে ডাকা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগ এবং হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদের অধিকাংশই ছিলেন হলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এ সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের দিয়ে মুকিমকে প্রথমে মানসিক চাপ দেয়। এতে স্বীকার না করায় তাকে লাঠি, স্ট্যাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে হলের ছাদে নিয়ে হাতুড়ি, তার ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। মারধরে সবচেয়ে বেপরোয়া ছিলেন আমির হামজা ও শাহিন। তারা মুকিমের হাত-পা এক করে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটায়।
পরে তার ফোনের চ্যাটলিস্ট দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। মারধর সহ্য করতে না পেরে তারা উভয়েই মেঝেতে বসে পড়েন। পরে মারের মাত্রা বেড়ে গেলে শুয়ে পড়েন মেঝেতে। এর একটু পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত তাদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন করতে থাকেন ছাত্রলীগ নেতারা।
পরে রাত ২টার পর তাদেরকে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাদের অবস্থা দেখে পুলিশ তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
ছাত্রলীগের নেতারা দাবি করে তাদের কাছ থেকে শিবির সংশ্লিষ্ট বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তার কোনো নাম অথবা প্রমাণ দিতে পারেননি তারা। শিবির সন্দেহে তাদেরকে গেস্টরুমে ডাকা হলেও তাদের কাছে শিবিরের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাদের মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের টর্চার সেলে রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করার পরে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে ছাত্রলীগ। সে ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল শোভাযাত্রা করে তারা। সে সময় ছাত্রলীগের বিশ^বিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একসাথে তালমিলিয়ে বলেছিলেন যে, ছাত্রলীগ অন্যায়ভাবে কারো গায়ে হাত তুলবে না। আর যারা এমনটা করবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা। কিন্তু এ ঘটনার খুব বেশি দিন না যেতেই ফের গেস্টরুম নির্যাতন, টর্চার সেল প্রসঙ্গ উঠে আসে ঢাবির চার শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের মাধ্যমে।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ানের মন্তব্য জানতে তাকে মোবাইলে কল দেয়া হলেও তিনি রিং ধরেননি। আর লেখক ভট্টাচার্যের সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। একাধিকবার মোবাইল করার পরেও কল রিসিভ করেননি বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম।
এ ঘটনায় জানতে চাইলে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা বিষয়টা নিয়ে অবগত। যদি ওই চার শিক্ষার্থী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হয়। তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের বৈধতা আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে হল প্রশাসন বলতে পারবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কারো গায়ে হাত তুলতে পারে না। অভিযোগ থাকলে সেটা হল প্রশাসন আছে, প্রক্টরিয়াল বডি আছে তারা দেখবেন।
এ দিকে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় দুপুরে তাদের ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বুধবার সকালে বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হলের চার শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বিকেলে ওই চার শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গার্ডিয়ানদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। ওই চার শিক্ষার্থীর সাথে ছাত্রলীগের আনীত শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এটা আরো সময় লাগবে। আমরা তদন্ত করছি। পরে জানাব।
এ দিকে গেস্টরুম নির্যাতনে প্রতিবাদে বিকেলে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্রঐক্য। বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত সন্ত্রাসবিরোধী রাজুস্মৃতি ভাস্কর্যে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। এ সময় তিনি বলেন, দলকানা প্রশাসন ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের পরেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জহুরুল হক হলে গতকাল রাতে চারজনকে ছাত্রলীগ নির্যাতন করে। তারা বেধড়ক পিটিয়েছে। যে নির্যাতন করেছে তা আমি শাহবাগ থানায় গিয়ে দেখেছি। তাদেরকে আবরারের মতো পিটিয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে, স্টাম্প দিয়ে পিটিয়েছে। হয়তো এই চারজনের মধ্যে কেউ একজনের আবরারের মতো পরিণতি হতে পারত। এ সময় প্রক্টরের বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের চেয়েও ভয়ঙ্কর ঢাবি প্রক্টর। ডাকসু ভিপি বলেন, ছাত্রলীগের নির্যাতন নিপীড়ন থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। আমি ভিপি হয়েও ডাকসু ভবনে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়? এই সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্রঐক্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। আপনারা সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন।
মারে ছাত্রলীগ পুলিশে দেয় প্রক্টর : ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের হল এবং গেস্টরুম নির্যাতনের ঘটনায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগকে এ কে অন্যের পরিপূরক বলে মনে করছেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ হলো ছাত্রলীগ নেতাদের মর্জিতেই চলে হল ও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগ মারে আর প্রশাসন কোনো যৌক্তিকতা বিচার না করেই পুলিশে সোপর্দ করে। দুপুরে শাহবাগ থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নিয়ে এমনটাই বলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুকিমুল হক চৌধুরী।
বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অবস্থান : ছাত্রলীগের নির্মমভাবে মারধরের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুকিমুল হক চৌধুরী বিচারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বুধবার শাহবাগ থানা থেকে ছাড়া পেয়ে বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান শুরু করেন তিনি। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, আমার ওপর যে নির্যাতন হয়েছে এর বিচারের দাবিতে এখানে বসেছি। কিছু বানোয়াট স্ক্রিনশট দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
প্রক্টর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন মন্তব্য অভিভাবকদের : শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নাগরিক ও অভিভাবক সমাজের অন্যতম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: তানজিমউদ্দিন খান বলেন, একটা বিষয় হচ্ছে শিক্ষার্থী তো শিক্ষার্থীই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যখন হয় তখন কি এমন কোথাও বলা আছে যে শিবির করতে পারে এমন কেউ বা সম্ভাবনা আছে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না? তা নেই। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যিনি প্রক্টর কাউকে সন্দেহবশত পিটিয়ে উনার কাছে নিয়ে আসার পর তাকে তিনি পুলিশে সোপর্দ করতে পারবেন কি না। প্রক্টর হিসেবে শিক্ষার্থীদের ওপর যে তার দায়িত্ব সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি একটা ভীষণ অনৈতিক কাজ করেছেন। আমরা শিক্ষকরা অভিভাবকদের কাছে ভীষণভাবে অপমাণিত হই। শিক্ষক হিসেবে সমাজেও আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। সমস্যা হয়ে গিয়েছে আমরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাকি রাজনৈতিক দলের নেতা সেটা আমরা পার্থক্য করতে পারছি না।


আরো সংবাদ