২২ আগস্ট ২০১৯

বাবা মা কে একত্র করতে চান শীলা

বাবা মা কে একত্র করতে চান শীলা - সংগৃহীত

আসরের সেরা খেলোয়াড় তিনি। অনূর্ধ্ব-১৪ জেএফএ কাপের চূড়ান্ত পর্বে ৮ গোল করে এই পুরস্কার জয় করেন চ্যাম্পিয়ন রংপুরের অধিনায়ক শামীমা আক্তার শীলা। পুরস্কার হাতে তার প্রতিক্রিয়া জানতে যখন প্রশ্ন করা হলো, এই মুহুর্তে কার কথা মনে পড়েছে? এর উত্তর দেয়ার আগেই পানিতে চোখ ভিজে গেল শীলার। জানান, ‘আমার খুব ভালো লাগতো যদি আমার বাবা এবং মা আমার এই অর্জনের সময় পাশে থাকতেন। কিন্তু তারা কেউ নেই।’ তারা কি মারা গেছেন? ‘না দুই জনই বেঁছে আছেন। কিন্তু থাকেন সম্পূর্ন আলাদা। দুই ভুল বুঝাবুঝিতে বিচ্ছেদ। এখন দুই জনেরই আলাদা আলাদা বিয়ে হয়েছে।’ চোখেন পানি মুছে শীলা জানান, এখন আমার লক্ষ্য ফুটবল খেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আবার আমার আব্বা এবং আম্মাকে একত্র করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করা।’ আমার বাবা ঢাকাতেই থাকেন। চাকুরী করেন গার্মেন্টেসে।

রংপুরের পালিচরা এম এন স্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী শীলা। বড় হচ্ছেন নানীর কাছে থেকে। তাদের সাথে আছেন বড় ভাই নাঈমও। ভাই কাজ করেন ইটের ভাটায়। তার নানী তাকে ফুটবলে দিতেই চাইছিলন না। লক্ষ্য ছিল গার্মেন্টসে দেবেন। কিন্তু কোচ মিলন খান উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কামাল সাহেবের সহায়তায় রাজী করান শীলার নানীকে। এরপরই ফুটবলে আসা স্ট্রাইকার শীলার। কোচ মিলনের বক্তব্য, ‘শীলার মধ্যে সুযোগ পাওয়া মাত্রই গোল করার দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। কাট করেই দ্রুত পোস্টে শট নেয় সে।’

শীলাদের এলাকা থেকেই উঠে এসেছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না। দেশে স্বপ্নাই তার আদর্শ। আর বিদেশে লাওনেল মেসি। এখন এই উঠতি ফুটবলারের লক্ষ্য বাংলাদেশ দলে খেলা। সেই যোগ্যতা তার আছে বলে মন্তব্য কোচের। শীলা জানান, ‘স্বপ্না আপুর খেলার স্টাইল আমার খুব পছন্দ।’ পুরো আসরে শীলার গোল ১১টি। বাছাই পর্বে তিনটি। এবং চূড়ান্ত পর্বে ৮টি। এর মধ্যে হ্যাটট্রিক আছে দুটি।


ফাইনালে খেলতে দেয়া হয়নি ঠাকুরগাঁওকে
নতুন চ্যাম্পিয়ন রংপুর
ফাইনাল শুরুর আগে মাঠে ঢুকে প্রতিবাদ ঠাকুরগাঁওয়ের খেলোয়াড়দের। তাদেরকে খেলতে দিতে হবে জেএফএ কাপের ফাইনাল। পরে বাফুফের হস্তক্ষেপে কান্না জড়িত কন্ঠে মাঠ ত্যাগ করেন তারা। গত পরশুই যে তারা সেমিফাইনালে ময়মনসিংহকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। কিন্তু বাফুফের মহিলা কমিটি তাদের গতকালের ফাইনালে খেলার অধিকার কেড়ে নেয়। অপরাধ ঠাকুরগাঁও জেলা দল বাইলজ ভঙ্গ করে অবৈধ ফুটবলার খেলিয়েছে।

যা সেমিতে হারা ময়মনসিংহের অভিযোগে প্রমানিত হয়। ময়মনসিংহ অভিযোগ করে, ঠাকুরগাঁও চার জন ফুটবলারকে খেলিয়েছে যারা আগেও দুইবার খেলেছে এই জেএফএ কাপে। অথচ জেএফএ কাপের বাইলজ আছে কোনো ফুটবলার দুই বারের বেশী জেএফএ কাপে খেলতে পারবেনা। কিন্তু ঠাকুরগাঁও এই নিয়ম ভঙ্গ করে চন্দনা রায়, রঞ্জনা রায়, ঈশিতা জাহান এবং মমতাজ বেগমকে খেলিয়েছে। এদের মধ্যে ঈশিতা এবং গোলরক্ষক মমতাজ ছিলেন একাদশে। তাই নিয়মানুযায়ী বাফুফের মহিলা কমিটি সেমিফাইনালে ঠাকুরগাঁয়ের পয়েন্ট কেনে নেয় । মানে তারা পরাজিত ঘোষিত। তাদের বদলে সেমিতে হারা ময়মনসিংকেই জয়ী ঘোষনা করে কালকের ফাইনালে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। অবশ্য এই সুযোগ কজে লাগাতে পারেনি ময়মনসিংহ। কাল তাদেরকে ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে জেএফএ কাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর। আগে দুই বার এই ময়মনসিংহের কাছে ফাইনালে হেরেছিল রংপুর।

ঠাকুরগাঁওয়ে আগে দুইবার খেলা ফুটবলারকে খেলিয়েছে তা স্বীকারও করেছেন দলের ম্যানেজার তাজুল ইসলাম। তিনি এ জন্য দায়ী করেন বাফুফে প্রতিনিধি নজরুল ইসলামকে। তার মতে, ‘আমি বাফুফে প্রতিনিধিকে বলেছি মমতাজ আগের দুই বার খেলেছে জেএফএ কাপে। আমাদের অপর গোলরক্ষক আছে তাকে খেলার অনুমতি দিন। কিন্তু বাফুফে প্রতিনিধি তা আমলে না নিয়ে মমতাজকেই খেলার জন্য বাছাই করে। তিনিও জানেন এই ফুটবলার আগের দুই আসরে খেলেছেন।’ তবে নজরুল এই অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ‘আমি কিভাবে জানবো ওই ফুটবলার আরো দুইবার খেলেছে। আমাকে ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো কর্মকর্তা মমতাজের দুই বার খেলা বিষয়ে কিছুই বলেনি। আমি সব দলকেই জানিয়েছি কোনো ফুটবলার দুই বার খেলেছে এবং জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন কাউকেই খেলানো যাবে না।, নজরুল যে এই কথা সব দলকে অবহিত করেছেন তার পক্ষে স্বাক্ষীও দেন রংপুরের মেয়েরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের ম্যানেজার জানান, ‘আমাদেরও অভিযোগ ছিল ময়মনসিংহের বিপক্ষে। তাদের ১৭ নং মদিনা খাতুনের কোনো রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। রংপুর দলেও একাধিক প্লেয়ার আছে যারা তিনের অধিক এই আসরে খেলেছেন। কিন্তু বাফুফে আমাদের লিখিত অভিযোগ গ্রহনই করেনি। তাছাড়া আমরা বলেছি সে চার জনের বিপক্ষে অভিযোগ তাদের বাদ বাদ দিয়ে অন্যদের খেলার সুযোগ দেয়া হোক।’ বাফুফের নির্বাহী আহসান আহমেদ অমিত জানান, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে লিখিত অভিযোগ করতে হয়। কিন্তু ঠাকুরগাঁও তা করেনি।. ময়মনসিংহ ডিএফএ সভাপতি জানালেন, আমরা প্রমান সহ ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে লিখিত অভিযোগ করেছি বাফুফেতে। তবে আমার দলে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো খেলোয়াড় নেই।’ বাফুফের মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরন এই প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরাত্ োবাইলজের বাইরে যেতে পারি না।

কাল ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় পায় রংপুর। পেনাল্টি শ্যুট আউটে মিতু, ফাতেমা, ঝর্না, ও শামীমা আক্তার শীলা গোল করলেও মিস করেন মিসরাত। ময়মনসিংহের রোকসানা এবং সায়মন বল জালে পাঠাতে সক্ষম হন। রংপুরের কোচ রিপন খান তথ্য দেন, তার দল দেড় বছর অনুশীলনের ফল পেয়েছে। এই মুহুর্তে রংপুরের সিনিয়র ৯ ফুটবলার জাতীয় দলে আছে। বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৪ দল থেকেও আরো ফুটবলার বাংলাদেশ দলে খেলবে।


আরো সংবাদ