২৩ আগস্ট ২০১৯

নোফেল স্পোর্টিংয়ের অবনমন

-

বসুন্ধরা কিংসের সাথেই প্রিমিয়ারে উঠেছিল নোফেল স্পোর্টিং। প্রিমিয়ারে এসেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। অথচ সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র নোফেল ( নোয়াখালী-ফেনী-লক্ষীপুর) স্পোর্টিং ক্লাবের।

অভিষেকের বছরই প্রিমিয়ার থেকে আবার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে নেমে গেল তারা। আগেই অবনমন নিশ্চিত করা বিজেএমসির সাথে তাদেরকে আগামী বছর খেলতে হবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল)।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেই সর্বনাশ করে নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে হোম ভেন্যু নেয়া এই দলটি। বিজেএমসিরও হোম ভেনু ছিল নোয়াখালী। টিকে থাকার শেষ আশা জিইয়ে রাখতে এদিন জয় দরকার ছিল নোফেলের। কামাল বাবুর দলের এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ারে টিকে গেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে যখন হতাশা ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে নোফেলের কোচ- খেলোয়াড়রা তখন উল্লাসে মেতে উঠে রহমতগঞ্জের কর্মকর্তারা। তারা মাঠে বসেই দেখছিল নোফেল - শেখ জামালের ম্যাচ। ২৪ খেলা শেষে নোফেলের পয়েন্ট ২০। ১২তম স্থান তাদের। অন্যদিকে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬ষ্ঠ হয়ে লিগ শেষ করলো শেখ জামাল।

এদিন জহেদ পারভেজের দুই ফ্রি-কিকেই গোল পায় শেখ জামাল। ১৫ মিনিটে তার এই সেট পিসে গাম্বিয়ান এমিল সাম্বোর হেড চলে যায় নোফেলের জালে। ৫১ মিনিটে জাহেদ পারভেজের আরেকটি ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ নোফেলের গোলরক্ষক সাইফুল। সেই বল বক্সের বাইরে এলে তাতে ডান পায়ের শট নিয়ে শেখ জামালকে ২-০তে এগিয়ে নেন সাম্বো।

অবশ্য ৫৬ মিনিটে আশরাফুলের অসাধারন এক গোলে লড়াইয়ে ফেরে নোফেল। তার ক্রস গোলরক্ষক সামিউল ইসলাম মাসুমের নাগালের উপর দিয়ে জালে জড়ায়। ৮৫ মিনিটে আশরাফুলের ফ্রি-কিক গোলরক্ষক মাসুম প্রতিহত করতে না পারায় সামনে দাঁড়ানো গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা আনুষ্ঠানিকতা সারেন। ইনজুরি টাইমে গাম্বিয়ান ইবোউ কান্তের হেড ক্রস বারে প্রতিহত হলে জয় বঞ্চিত শেখ জামাল।

কামাল বাবুর কোচিং ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো দলের অবনমন হলো। অবশ্য তিনি নিজেকে নোফেলের হেড কোচ বলে উল্লেখ না করে বলেন, হেড কোচতো পরিতোষ। আমি সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছি। আমরা যে ২০ পয়েন্ট পেয়েছি তা একেবারেই নিখাদ। কোনো পয়েন্ট ক্রয় করেনি। কাউকে পয়েন্ট ছাড়িওনি; কিন্তু আপনারা দেখেছেন অন্য কয়েক দল কী রকম নগ্নভাবে ম্যাচ খেলেছে; কিন্তু বাফুফে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই ম্যাচে দেখুন কিভাবে রেফারি আমাদের ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করেছে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমরা পুরো সিজনে এক বিদেশী কম নিয়ে খেলেছি। কোনো কোনো ম্যাচেতো একজন বিদেশীকে খেলাতে পারিনি কার্ড ও ইনজুরি সমস্যায়। এটাই পার্থক্য পড়ে দেয়। এরপরও প্রিমিয়ারে অভিষেক হওয়া আমাদের আশি ভাগ নতুন খেলোয়াড় চমৎকার খেলেছে।

অবশ্য নোফেল নেমে গেছে এটা মানতে রাজী নন ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া শাহীন। তার মতে, আমরা পাঁচ-ছয় ক্লাব আবেদন করেছি জোড় সংখ্যার ১৪ দল নিয়ে লিগ করতে। পেশাদার লিগ কমিটি আশ্বাস দিয়েছে পরে তা বিবেচনার। সুতরাং কিভাবে বলবেন নোফেল নেমে গেছে?


আরো সংবাদ