২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নতুন আঙ্গিকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ?

দফায় দফায় সময়সূচীতে পরিবর্তন। বাফুফের আগের সভার সিদ্ধান্ত ছিল অক্টোবরের শেষ দিকে হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল।  কিন্তু একই সময়ে চট্টগ্রামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ হবে। ফলে বাফুফেকেই ছাড় দিতে হয়। নতুন সূচী অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ দিকে মাঠে গড়াবে বঙ্গবন্ধু কাপ।

বাফুফে প্রথমে চেয়েছিল সেপ্টেম্বরে তা করতে। বারবার সূচীতে পরিবর্তন আনা। সাথে যোগ হয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। ফলে বাফুফেকে বেকায়াদায় পড়তে হয়েছে অংশ নেয়া দল চূড়ান্ত করতে। এশিয়ার সেরা ৪০ দলই ব্যস্ত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। তাদের না পাওয়ারই সম্ভাবনা। দল মান সম্পন্ন দল না পাওয়া গেলে এবার ফরমেটে পরিবর্তন আসতে পারে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে। কমতে পারে দলের সংখ্যা। গ্রুপ লিগের বদলে সিঙ্গেল লিগ করে এই পর সেরা দুই দলকে নিয়ে ফাইনাল। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে তা।

কাজী সালাউদ্দিনের  সময়ে বাফুফে এই পর্যন্ত তিন বার অনুষ্ঠিত হয়েছে এই টুর্নামেন্ট। এবার হতে যাচ্ছে চতুর্থ আসর। তা ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে। এর আগে ১৯৯৬ এবং ১৯৯৯ সালে দুই বার বাফুফে আয়োজন করে টুর্নামের্ন্টটি। ২০১৫ সালে ছয় দলের অংশ গ্রহনে সম্পন্ন হয়েছিল আসর। ২০১৬ সালে বাড়ানো হয় দল। ছয়ের বদলে আট দলের প্রতিনিধিত্ব। সেবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দল এবং সিনিয়র জাতীয় দলে খেলেছিল। ২০১৮ সালে ফের ছয় দলের টুর্নামেন্ট। এবারও বাফুফের পরিকল্পনা ছয় দলের মধ্যে আসরটি সীমাবদ্ধ রাখা। যদিও আগের বাফুফে সভা শেষে সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর দেয়া তথ্য, এবার আট দল নিয়ে হবে প্রতিযোগিতাটি।

তবে যতটুকু জানা গেছে দল সংকটে এবার চার দল নিয়ে হতে পারে টুর্নামেন্ট। সেক্ষেত্রে দুই গ্রুপে আর ভাগ করা হবে না দলগুলোকে। চার দলের সিঙ্গেল লিগ শেষে পয়েন্ট তালিকার সেরা দুই দল নিয়ে ফাইনাল। যদিও বাফুফে এখনও ছয় দল নিয়ে টুর্নামেন্টটি করার পরিকল্পনা নিয়েই যোগাযোগ করছে এশিয়ার দেশ গুলোর সাথে। আসিয়ান অঞ্চলের দুই দেশ এবং সাফের দুই দেশের সাথে কথা বলা হয়েছে। যদিও এই দেশ গুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গতবছর দেশের তিন ভেনূ সিলেট, কক্সবাজার এবং বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হয়েছিল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। ২০১৬ সালে যশোর ও ঢাকায় এবং ২০১৫ সালে সিলেট ও ঢাকায় হয়েছিল আসরের খেলাগুলো। তবে এবার শুধু ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই হবে সব খেলা। তা খরচ কমানোর জন্য। দুই বা ততোধিক ভেনুতে খেলা হলে প্রোডাকশন খরচও বহুগুন বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ জাতীয় দল এখন বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ে ব্যস্ত। তাদের বাড়তি পাওনা হবে এই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। এই আসরের আগেই অবশ্যবাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের চারটি ম্যাচ খেলে ফেলবে। এই আসরে কোচ নতুন ফুটবলারদেরও পরখ করতে পারবেন। এর বাইরে ডিসেম্বরে এস এ গেমস।

যেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ দল। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকেও যদি আসন্ন বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে তাদের সাফ গেমস প্রস্তুতিটা ভালো হবে। যে সাথে দেশের দুটি দলের অংশ নেয়া হয়ে এই আসরে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ দল এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল খেলেছিল। যা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ২০১৬ এর  শিলং -গৌহাটি এস এ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক পেতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার বাংলাদেশের একটি দলই অংশ নেবে। তা আসরের ভারিক্কী অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের র‌্যাংকিং বাড়ানোর জন্য। সাথে অতো মান সম্পন্ন ফুটবলার বাংলাদেশে নেই সেই পুরনো অজুহাততো আছেই। বাফুফের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য তাই।


আরো সংবাদ