২৪ অক্টোবর ২০১৯

কোটি টাকার তপু

ঢাকা আবাহনী থেকে বসুন্ধরা কিংসে যাচ্ছেন তপু বর্মন -

শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দলবদল। ১ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) পর্যন্ত কোনো ক্লাব তাদের খেলোয়াড়দের রেজিষ্ট্রেশন করায়নি। এদেশে ফুটবলের যে সংস্কৃতি তাতে শেষ সময়ে এসে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। এবারও তাই হবে।

তবে অধিকাংশ ক্লাবই তাদের দলবদলের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছে। ফুটবলারদের অগ্রীম অর্থ দিয়েছে। এর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবটি অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে। 

এবারের দল বদল অন্য বারের মতোই। এক দিকে উড়ছে টাকা। অন্য দিকে হাহাকার। কোনো ফুটবলারের দাম উঠেছে কোটি টাকা। আর কাউকে কয়েক লাখেই খেলতে হবে পুরো মৌসুম।

এবারও বড় অংকের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ রাসেল। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বসুন্ধরা কিংসের বাজেটই সবার চেয়ে এগিয়ে। এরপরেই ঢাকা আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ও শেখ রাসেল। এবার শেখ জামালও ভালো মোটামুটি ভালো দল গড়ার চেষ্টা করছে। এদের বাইরে বাকি দলগুলোর অবস্থা তেমন নয়। তাদের মোটামুটি মানের দল গড়তেই নাভিঃশ্বাস উঠে যাওয়ার অবস্থা।

গত বছর কোষ্টারিকা থেকে বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলার এনে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। এবারও তারা ড্যানিয়েল কলিনড্রেসকে রেখে দিচ্ছে। সাথে আরো উন্নত মানের বিদেশি আনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে গতবারের অধিকাংশদেরই রেখে দিচ্ছে তারা।

সাথে ঢাকা আবাহনীর ডিফেন্ডার তপু বর্মন ও মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদকে নিচ্ছে। এছাড়া আরামবাগের মিডফিল্ডার রবিউল হাসান, শেখ রাসেলের বিপলু আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ ও ইয়াসিনকে নিচ্ছে ক্লাবটি।

এর মধ্যে তপু বর্মন পাচ্ছেন কোটি টাকা। তিনিই এবারের দলবদলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার। যদিও বসুন্ধরা কিংসের সাধারণ সম্পাদক মিজহাজুল ইসলাম মিনহাজ এতো টাকা দিয়ে তপুকে কেনার কথা অস্বীকার করেন। তপু ছাড়াও অন্য যারা আসছে মৌসুমে খেলবেন তাদের সবারই পারিশ্রমিকও অর্ধকোটি টাকার কাছাকাছি। গত বারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা যে এবারো একাধিক শিরোপা ঘরে তুলতে চায় সেটি তাদের প্রস্তুতিই বলে দিচ্ছে

গত বছর মাতামাতি ছিল ইমন মাহমুদ বাবুকে নিয়ে। তাকে সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। যদিও সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন চৌধুরীর দেয়া তথ্য মতে, ইমন নয় গতবছর সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছিলেন সাইফের জামাল ভূইয়া। তিনি বলেন, জামালকে আমরা ৭৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এই কর্মকর্তার ধারণা এবারও যদি লিগের সময় বাড়ে তাহলে এই সিজনেও জামালই সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হবেন। কারণ সাইফ স্পোর্টিং ফুটবলারদের সাথে মাসিক বেতনের চুক্তি করে। তাই লিগের সময়সীমা বাড়লেই লাভ ফুটবলারদের।

আবাহনী ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, তারা এবার বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধরীকে নিচ্ছে। সাবেক সেনাবাহিনীর এই ফুটবলার এবার আবাহনীর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় হতে যাচ্ছে। এছাড়া তারা শেখ রাসেলের মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে নিয়েছে। যদিও তার বিষয়ে বাফুফেতে লিখিত দিয়েছে শেখ রাসেল। তাদের বক্তব্য সোহেল রানা অগ্রিম নিয়েছে শেখ রাসেল ক্লাব থেকে।

উল্লেখ্য গতবছর সড়ক দূর্ঘটনায় স্ত্রী ও ছেলেকে হারান সোহেল রানা।

আবাহনীর জাতীয় দলের মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও ডিফেন্ডার রায়হান হাসানের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে শেখ রাসেল। এবারের দল বদলে বড় ক্ষতি হয়েছে শেখ রাসেলের। তাদের বেশ কয়েকজন ফুটবলার চলে গেছে। এবার তারা মোহামেডানের তকলিস, সাইফ স্পোর্টিংয়ের বাবলুকে দলে টেনেছে।

সাইফ স্পোর্টিং জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূইয়া সহ গতবারের অধিকাংশক ফুটবলারকে রেখে দিচ্ছে। তাদের কয়েক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যাও কম নয়। তবে এবার দল থেকে এবার চলে গেছেন ডিফেন্ডার বাবলু এবং নাসিরুল ইসলাম নাসির।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব দলে টেনেছে সাইফ স্পোর্টিংয়ের গোলরক্ষক জিয়া, শেখ রাসেলের মামুন খানকে। উঠতি ডিফেন্ডার মনসুর আমিনও এবার এই দলে খেলবেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা থেকে গতবারের আইভোরিকোস্টের ফরোয়ার্ড বাল্লো ফামোসা এবং জাপানী মিডফিল্ডার কাতোকে নিয়েছে তারা।

এই দলগুলোর বাইরে বাকি ক্লাবগুলো ভুগছে অর্থ সংকেট। মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, তারা তেমন পারিশ্রমিক দিতে পারছে না ফুটবলারদের। নতুন কমিটি হওয়া মোহামেডান অপেক্ষায় আছে ক্লাব না পাওয়া ফুটবলারদের দিয়ে দল গড়তে। ক্যাসিনো ক্যালেঙ্কারিতে আরামবাগের অবস্থা নাজুক। তারা বসুন্ধরা কিংস থেকে ফিরিয়ে এনেছিল জাতীয় দলের স্ট্রাইকার মাহাবুবুর রহমান সুফিলকে ; কিন্তু তিনি আবার চলে গেছেন পুরনো ক্লাবে।


আরো সংবাদ