১০ ডিসেম্বর ২০১৯

প্লে-অফে খেলতে হবে আবাহনীকে

এবারের এএফসি কাপে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছিল ঢাকা আবাহনী। তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালের হোম ম্যাচে জয় লাল-সবুজদের ফুটবলাকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য উচ্চতায়। অবশ্য আবাহনীকে এই সেমিতে হোম ম্যাচে হারানো উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তাদেরকে ফাইনালে ১-০তে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লেবাননের আল এহেদ ক্লাব।

বাংলাদেশি এই ক্লাবটি আগামীবছরের এএফসি কাপেও খেলবে। তবে আগের তিন বারের মতো সরাসরি গ্রুপ পর্বে নয়। উৎরাতে হবে প্লে-অফ পর্ব। গত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের রানার্সআপ দল তারা। তাই নিয়মানুযায়ী আকাশী নীল শিবিরকে ২০২০ সালের ফেব্রয়ারীতে প্লে-অফ কোয়ালিফায়ার্সে খেলতে হবে। এরপর প্রিলিমিনারী রাউন্ডে। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে তা। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে তাদের মোট চারটি খেলা। আবাহনী প্লে-অফে খেললেও লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে বসুন্ধরা কিংস খেলবে সরাসরি গ্রুপ পর্বে। গ্রুপ পর্বের খেলা মার্চে মাঠে গড়ায়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব প্লে-অফ কোয়ালিফায়ার্সে খেলেছিল।

অবশ্য মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টেসের কাছে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে হেরে সুযোগ হারায় প্রিলিমিনারী রাউন্ডে খেলার ২২ নভেম্বর হলো আগামী এএফসি কাপে নাম এন্ট্রি করার শেষ দিন। ইতোমধ্যে বসুন্ধরা কিংস এন্ট্রি করেছে এই আসরে। আবাহনী করবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই। পেশাদার লিগের ১২ দলের মধ্যে মাত্র ছয় দল আগ্রহ দেখায় এএফসি কাপে খেলার লাইসেন্সের জন্য। এদের মধ্যে লাইসেন্স পেয়েছে তিন ক্লাব। এরা হলো বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং। শেখ রাসেল এবং মোহামেডান তাদের সব কাগজ জমা দিতে পারেনি। আর আরামবাগ আগ্রহ দেখিয়েও কোনো কাগজই জমা দেয়নি।

২১ নভেম্বর থেকে ফুটবল দলের ক্যাম্প

এদিকে ওমানের কাছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এবছরের শেষ ম্যাচে ১-৪ গোলে হারা বাংলাদেশ দল এখন ছুটিতে। সবাই এখন নিজ ক্লাবের হয়ে দলবদলে ব্যস্ত। তবে ২১ নভেম্বর থেকে আবার জাতীয় দলের ক্যাম্প উঠবেন ফুটবলাররা। তা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ব্যানারে।

১-১০ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমান্ডু এবং পোখারাতে অনুষ্ঠিত হবে এস এ গেমস ফুটবল। গেমসের ফুটবলও শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে। এবার বাংলাদেশ দলের ফুটবলে স্বর্ন পুনরুদ্ধারের মিশন। এই লক্ষ্যে ২১ নভেম্বর থেকে ক্যাম্প শুরু হবে অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের। অবশ্য দলে সিনিয়র কোটায় খেলবেন জামাল ভূঁইয়া, ইয়াসিন খান ও নাবিব নেওয়াজ জীবন।

ওমানের সাথে খেলা সিনিয়র জাতীয় দলের মূল একাদশের ছয় ফুটবলার আছেন অনূর্ধ্ব-২৩ বছরের মধ্যে। জানান কোচ জেমি ডে। এছাড়া পুরো স্কোয়াডের ১৫/১৬ জনই এস এ গেমসে অংশ নিতে পারবেন। ২০ সদস্যদের ফুটবল দলে গোলরক্ষক থাকবেন তিনজন। পোস্টের নীচে কোচের আস্থা বসুন্ধরা কিংসের আনিসুর রহমান জিকোর উপর।

যেহেতু জাতীয় দলের ফুটবলারদেরই আধিক্য থাকবে গেমসের ফুটবল দলে তাই তাদের নেপাল যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচের তেমন সম্ভাবনা নেই বলে জানান ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। উল্লেখ্য ২০১০ সালে স্বর্ন জেতা বাংলাদেশ ফুটবল দল ২০১৬ সালে গলায় তোলে ব্রোঞ্জ পদক। তাদের প্রধম স্বর্ন জয় ১৯৯৯ সালে। তখন সিনিয়র দল খেলতো গেমস ফুটবলে।

জাহিদ, আরিফ, মামুন খান শেখ জামালে

এবার দল পেতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার জাহিদ হোসেনের। গতবছর তিনি ছিলেন আরামবাগে। শেষ পর্যন্ত এই মিডফিল্ডারকে নিয়েছে লে: শেখ জামাল ধানমিন্ড ক্লাব। জাহিদসহ জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ডিফেন্ডার আরিফুল ইসলাম, রেজাউল করিম রেজা, কেস্ট কুমার বোস, শাকিল আহমেদ, মনসুর আমিন, গোলরক্ষক মামুন খান, জিয়াউর রহমান, মিডফিল্ডার ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, ওমর ফারুক বাবু, ফজলে রাব্বী, জাভেদ খান এবার খেলবেন সাবেক লিগ চ্যাম্পিয়ন দলে। দলের পাঁচ বিদেশী হলেন সলোমন কিং, ইউসুকে কাতো, বাল্লো ফামোসা, ওসেগি মানডে এবং পা ওমর জাবো।


আরো সংবাদ