২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ

ডিফেন্ডারদের ভুলে পাঁচ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ

ডিফেন্ডারদের ভুলে পাঁচ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ - ছবি : নয়া দিগন্ত

গোল মিসের খেসারত। আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারের নেপথ্য এটি হলেই বিদেশী ফুটবলার কমানোর দাবী উঠে। তা বেশ জোরালো ভাবেই। ক্লাব ফুটবলে সব বিদেশী স্ট্রাইকার, তাই স্থানীয় স্ট্রাইকারদের খেলার সুযোগ হয় না, জাতীয় দলে এই বাংলাদেশী ফরোয়ার্ডদের গোল না পাওয়াটা এ জন্যই। কিন্তু বিদেশীদের উপস্থিতি যে দেশী ডিফেন্ডারও তৈরী হতে দিচ্ছে না তা এক প্রকার আড়ালেই থেকে যায়। এই রক্ষণকর্মীদের ভুলে ক্রমাগত হারের মিছিলে বাংলাদেশ।

এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশের জালে পাঁচ বার বল জালে গেছে। প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ০-২ গোলে আর সেমিফাইনালে বুরুন্ডির কাছে ০-৩ গোলে হারের প্রতিটিকেই ডিফেন্ডারদের ভুলে। দেশে নেই মানসম্পন্ন স্ট্রাইকারের মতো নির্ভরযোগ্য স্টপার ব্যাকও। এ ক্ষেত্রেও বিদেশী উপস্থিতি। চার/পাঁচ বিদেশীর সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সব ক্লাবই ফরোয়ার্ড লাইনের মতো স্টপার ব্যাক পজিশনেও খেলাচ্ছেন বিদেশীকে। যা দেশে আস্থাশীল রক্ষনকর্মী উঠে আসার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভুটানের কাছে বাংলাদেশের লজ্জ্বাজনক হারের পেছনেও ছিল রক্ষনকর্মীদের ভুল। ডিফেন্ডার মামুন মিয়া দু’দফা মারাত্মক ভুল করায় সে ম্যাচে ভুটানীদের গোল উৎসব। সাথে যোগ হয় গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানার ব্যর্থতাও। এবারের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে প্রথম ম্যাচেই ফিলিস্তিনের কাছে দুই গোলে হার জেমি ডে বাহিনীর। কাউন্টার অ্যাটাকে মধ্য প্রাচ্যের দেশটির প্রথম গোল। রাইট ব্যাক পজিশনে সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা। জামাল বাহিনী তখন ছিল আক্রমনে। রায়হানের থ্রো বিপক্ষ বক্সে ক্লিয়ার হয়ে কাউন্টার হয়ে চলে আসে বাংলাদেশ সীমানায়। এই কাউন্টার অ্যাটাকের সময় ডিফেন্স লাইন যেভাবে সতর্ক থাকার কথা তা ছিল না। দ্বিতীয় গোলটিতো ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান ও রায়হান হাসানের সম্মিলিত ভুলে। প্রথমে ইয়াসিন ক্রস থেকে আসা বলের ফ্লাইট মিস করেন। এরপর রায়হান পারেননি ফিলিস্তিনি গোলদাতাকে মার্কি করতে। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম এই রক্ষণকর্মীদের হাস্যকর ভুলে।

ফলে শ্রীলংকার বিপক্ষে রায়হানকে বাদ দেয়া হয়। আর ইয়াসিন আক্রান্ত হন জ্বরে। তাই এই দুই রক্ষণকর্মীকে বাইরে রেখেই বাংলাদেশের ৩-০কে লংকা জয়। সে ম্যাচে তপু বর্মনের লাল কার্ড সেমিতে ফের রায়হানকে একাদশে নিয়ে আসে। এবার রাইট ব্যাক পজিশনের বদলে স্টপার ব্যাক। এতেও ব্যর্থ ঢাকা আবাহনীর এই খেলোয়াড়। সারা ম্যাচে বাংলাদেশ একচেটিয়া খেলেও এই রায়হানের ভুলে প্রথম দুই গোল খাওয়া। তৃতীয় গোলটি অবশ্য রক্ষনভাগ আর গোলরক্ষক রানার অবহেলায়।

অবশ্য দূর্ভাগ্যও ভর করে লাল সবুজদের উপর । দলের তিন স্টপার ব্যাক একে একে ম্যাচ খেলার যোগ্যতা হারান। জ্বরের জন্য প্রথমে ক্যাম্প ছাড়েন টুটুল হোসেন বাদশা। পরে এই কাতারে ইয়াসিন খান। সাথে যোগ হয় ভুটানী রেফারীর ভুলে তপুর লাল কার্ড। স্কোয়াডের পাঁচ স্টপার ব্যাকের মধ্য তিনই ম্যাচের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়লে কি বা করার থাকে কোচের। এরপরও কোচ বড় আশা নিয়ে বুরুন্ডির মতো তীহ্ম আক্রমনভাগ সম্মৃদ্ধ দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞ রায়হানকে স্টপার ব্যাকে সুযোগ দেন। অতীতে তিনি ক্লাব এবং জাতীয় দলে স্টপার হিসেবে খেলেছিলেন বিকল্প হিসেবে। তবে এবার তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। জেমি ডে অবশ্য আরেক স্টপার ব্যাক মনজুরুর রহমান মানিকের উপর ভরসা রাখতে পারেননি। মানিকের যে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এখন মনে হচ্ছে রায়হানের বদলে এই মানিককে সুযোগ দিলে খারাপ করতেন না। যেমনটা শ্রীলংকার বিপক্ষে অভিষেকে দারুন খেলেছিলেন মিডফিল্ডার মানিক হোসেন মোল্লা।

বুরুন্ডির সাংবাদিক জ্যাকব তথ্য দেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা আফ্রিকান দেশ সেনেগালে বিদেশী ফুটবলার নিষিদ্ধ। সেনেগাল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় খেলায়াড়াদের সুযোগ দেয় স্থানীয় লিগে। এই ফুটবলাররাই পরে আফ্রিকার অন্য দেশ সহ ইউরোপের জায়গা করে নেয়।’ এশিয়ার দেশ উত্তর কোরিয়ার ঘরোয়া লিগেও বিদেশী ফুটবলার ও কোচ নিষিদ্ধ। বিদেশী নিষিদ্ধ না হোক বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের স্বার্থে কমানো উচিত বিদেশী। এই অভিমত সবারই।


আরো সংবাদ