২৩ আগস্ট ২০১৯

ব্লাড প্রেসারের ওষুধে আবারো ক্যান্সার সৃষ্টির উপাদান

ব্লাড প্রেসারের ওষুধে আবারো ক্যান্সার সৃষ্টির উপাদান - ছবি : সংগৃহীত

ব্লাড প্রেসারের (উচ্চরক্তচাপ) ওষুধে ইউএস এফডিএ চার নম্বর কার্সিনোজেন (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান) পাওয়া গেছে। ফলে গত গ্রীষ্মের পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় হার্টের ওষুধে তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে যখন জানা গেল কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন যে হার্টের ওষুধ খাচ্ছে তাতে রয়েছে ক্যান্সার সৃষ্টির উপাদান। উল্লেখ্য, যেসব ওষুধে কার্সিনোজেন পাওয়া গেছে এগুলো চীন ও ভারতে তৈরী। চীন ও ভারতের কোম্পানিগুলো সারা বিশ্বে দুই-তৃতীয়াংশ ওষুধের উপাদান সরবরাহ করে। গত বছরের জুলাই মাসে কোয়ালিটি কনট্রোল টেস্টে কয়েক লাখ মানুষের মধ্যে এসব কার্সিনোজেন প্রকাশ পেয়েছে। এরপর একটি অনলাইন ফার্মেসি নিরাপদ ঘোষিত আরেকটি ব্লাড প্রেসারের ওষুধে কার্সিনোজেন পেয়েছে। 

কমপক্ষে ১০ লাখ আমেরিকান ও ১০ লাখ ইউরোপিয়ান এ ওষুধটি দৈনিক খায়। চীন ও ইন্ডিয়ার যেসব কারখানা এ ওষুধের রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে সেখানেই কোয়ালিটি কনট্রোলে তা ধরা পড়ে প্রথম। ধারণা করা হয়, এই দুই দেশই ওষুধের উপাদান তৈরি করে সস্তায় এবং দক্ষতার সাথে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মেসি থেকে সরকারি কর্মকর্তারা এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির লোকেরা বাধ্যতামূলকভাবে ওই ওষুধটি তুলে নিয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্টটি ডেইলি মেইল অনলাইনে ছাপা হয় গত ১৮ জুন।

ব্লাড প্রেসারের ওষুধে কিভাবে ক্যান্সার সৃষ্টির রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেল তা জানিয়েছে এফডিএ। হার্ট ফেইলুর ও হাইপারটেনশনের ওষুধ তৈরির সময় কিছু অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট একসাথে মিশানো হলে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকটি তৈরি হয় বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে। এফডিআই বলছে, ওষুধটি ‘রেসেপি’ অনুসারে সতর্কতার সাথে তৈরি করা হলে ওই ক্ষতিকর বাইপ্রোডাক্টটি তৈরির ঝুঁকি থাকত না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিনহাই, চায়না, ঝেজিয়াং হোয়াহাই ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধ তৈরির পর সঠিক উপায়ে পরিষ্কার না করায় এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। 

নোভার্টিসের মতো শীর্ষ সরবরাহকারী কোম্পানির ভালসারটানে ওই ক্ষতিকর রাসায়নিকটি পাওয়া গেছে অনলাইন ফার্মেসি ‘ভেলিসুর’র পরীক্ষায়। গত সপ্তাহে ভেলিসুর তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষাটি এফডিএর কাছে পাঠিয়েছে। ওষুধের বিশ্ব কর্তৃপক্ষ ব্লাড প্রেসারের কিছু ওষুধ বিক্রিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে প্রায় এক বছর। যে ওষুধগুলো বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এগুলো হলো চীন ও ভারতে উৎপাদিত ভালসারটান, লোসারটানে মিশ্রিত হওয়া কার্সিনোজেন এন-নাইট্রোসোডিথিলামিন (এনডিইএ) এবং এন-নাইট্রোসোডিমেথিলামিন (এনডিএমএ)।

ইউরোপিয়ান ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালে প্রথম এসব ওষুধে দূষণের সন্ধান পায় এবং সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। এফডিএ ২০১৮ সালের জুনের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেয়। পরে শরতে জেনেরিক উৎপাদনকারী মিলান, তেভা ফার্মাসিউক্যালস এবং নোভার্টিসের সেন্ডোজ মার্কেট থেকে তাদের এপিআই প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর গত জানুয়ারি মাসে এফডিএ ইন্ডিয়ার উৎপাদিত লোসারটান পটাশিয়ামের ৮৭ প্রকার ওষুধে বিষাক্ত রাসায়নিক এন-নাইট্রো-এন-মিথাইল-৪-অ্যামিনোবিউট্রায়িক এসিড (এনএমবিএ) শনাক্ত করে। এই উপাদানটি আরেকটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জটিল ব্যাপার। এগুলো চলে আসে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বাইপ্রোডাক্টে হিসেবে যদিও এটা পরিষ্কার নয় কোন উপাদানটি তৈরি হয় বাইপ্রোডাক্টে। এটাও পরিষ্কার নয় যে এফডিএ কী করতে চায় নতুন রিপোর্টের আলোকে। এটা হতে পারে যে এফডিএ মানুষকে বলবে, জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধটি সেবন করে যেতে হবে কারণ ওষুধে এনডিইএ, এনএমডিএ এবং এনএমবিএর লেবেল খুবই কম। তবে ‘চায়না আরএক্স : এক্সপোজিং দ্য রিস্ক অব অ্যামেরিকাস ডিপেন্ডেন্স অন চায়না ফর মেডিসিন’ বইয়ের লেখক রোজমেরি জিবসন ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘চীনের তৈরি প্রতিটি ট্যাবলেট গ্রহণসীমার ২০০ শতাংশের বেশি গ্রহণযোগ্য। এটা যেসব ওষুধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে তার গ্রহণসীমার চেয়ে বেশি।’


আরো সংবাদ