২১ অক্টোবর ২০১৯

পাইলস রোগ কিভাবে বুঝবেন

-

পাইলস বা অর্শ একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। পঞ্চাশ বছর বয়সী লোকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই মলেদ্বারে খোসপাঁচড়ার মতো চুলকানো, অস্বস্তি ও রক্তপাত হয় যা পাইলসের প্রাথমিক উপস্থিতি বোঝায়। পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলদ্বারের নিচে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত ধমনী, মলত্যাগের সময় কষা হলে অথবা গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্ত ধমনীর ওপর চাপ বেড়ে গেলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়। পাইলস অতি পরিচিত একটি রোগ। এটাকে বলা হয় সভ্যতার রোগ। অর্থাৎ, এই রোগটি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শহরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত লোকদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। তার প্রধান কারণÑ তাদের জীবন-যাপন পদ্ধতি যেমনÑ কম পানি, কম শাক-সবজি, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো মলত্যাগ না করা।
উপরে উল্লিখিত জীবন-যাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত প্রেসার দিতে হয়। ফলে মলদ্বারের চারদিকে রক্তনালী ও মাংসপেশি ফুলে গিয়ে পাইলস সৃষ্টি করে।
অর্শ বা পাইলস হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয় : মলত্যাগের সময় ব্যথাহীন রক্তপাত, পায়ুপথ চুলকানো অথবা অস্বস্তিকর জ্বালাপোড়া, ব্যথা, পায়ুপথ থেকে বাইরের দিকে ফোলা ও ব্যথা লাগা, পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করা ও ব্যথা লাগা ।
শল্যচিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আর কোনো চিকিৎসা আছে কি
শল্যচিকিৎসা ছাড়া পাইলসের আরো যেসব চিকিৎসা আছে সেগুলো হলোÑ রাবার ব্যান্ড লাইগেশন, ইনজেকশন কোয়াগুলেশন (ইনফ্রারেড, লেজার, বাইপোলার)। এ ছাড়াও বর্তমানে সারা বিশ্বে হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে এ রোগের সফল চিকিৎসা হয়ে থাকে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
উপরোক্ত লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ামাত্র যেমনÑ পায়খানার রঙ কালো বা লালচে হলে ও পায়খানার সাথে রক্ত গেলে এবং পায়ুপথের মুখে পায়খানার সময় বা পরে চাকা অনুভব করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে
আঙুল দিয়ে পায়ুপথের পরীক্ষা বা রেক্টাল এক্সামিন করা হয়। এ ছাড়া সম্পূর্ণ মলনালীর পরীক্ষা করার জন্য পকালোনোস্কোপি করতে হয়।
পাইলসের নানা রকম চিকিৎসা আছে। যেমনÑ ওষুধ ব্যবহার, মিনিমাল ইনভেসিভ চিকিৎসা, শল্যচিকিৎসা, জীবন-যাপন পদ্ধতি, ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত মলম বা ক্রিম লাগাতে হবে, পায়ুপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, কুসুম গরম পানিতে দিনে কয়েকবার বসতে হবে, ফোলা কমানোর জন্য আক্রান্ত স্থানে বরফ ঘষতে হবে, ব্যথা কমানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।
পাইলস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়
উচ্চ আশযুক্ত খাবার, ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে, প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস পানি এবং তরল জাতীয় দ্রব্য পান করতে হবে, মলত্যাগের সময় কষা হলে বেশি চাপ প্রয়োগ করা যাবে না, পায়খানা চেপে রাখা যাবে না, ব্যায়াম করলে তা পায়খানার কষাভাব দূর করতে সাহায্য করবে, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা যাবে না।
কী কী কারণে পাইলস হয়
নিচের কারণগুলোর জন্য পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে:
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা, পায়খানায় বেশি সময় ধরে বসে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া অথবা আমাশয়, পায়খানা কষার সমস্যা দেখা দিলে, অস্বাভাবিক রকম মোটা হলে, গর্ভবতী অবস্থায় ইত্যাদি।
অর্শ বা পাইলস হলে কী ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে
অর্শ বা পাইলস হলে বিভিন্ন রকম জটিলতা যেমনÑ দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ের জন্য রক্তশূন্যতা হতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী আলসার, অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

লেখক : বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, (অব:) কলোরেকটাল সার্জারি বিভাগ,
বিএসএমএমইউ, ঢাকা।
চেম্বার : ইডেন মাল্টি-কেয়ার হসপিটাল, ৭৫৩, সাতমসজিদ রোড, (স্টার কাবাব সংলগ্ন) ধানমন্ডি, ঢাকা।
ফোন : ০১৭৫৫৬৯৭১৭৩-৬


আরো সংবাদ