২১ নভেম্বর ২০১৯

ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা

-


আমাদের শরীরে সর্বদাই স্বাভাবিক নিয়মে নতুন নতুন কোষ সৃষ্টি হয় প্রয়োজন মোতাবেক। স্তনও এর বাহিরে নয়। যদি কোনো কারণে অপ্রোজনীয়ভাবে ব্রেস্টে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়, আর স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি ঘটতে থাকে এবং চাকা অথবা পিণ্ড আকার ধারণ করতে থাকে তবে একে স্তন টিউমার বলা হয়। এ টিউমারটি যদি স্বাভাবিক কোষ ধারা হয়ে থাকে তবে তাকে অক্ষতিকারক বা বিনাইন টিউমার বলে। যা ক্যান্সার নয়। আর যদি অস্বাভাবিক কোষ ধারা তৈরি হয়ে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে থাকে তবেই তাকে ক্যান্সার বা ম্যালিগন্যান্ট বলা হয়। এর সূত্রপাত কোষে হয়ে গ্ল্যানডিউলার টিস্যুসহ স্তনের সবক’টি লোবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ডাক্টস এবং লবিউলসে।
স্তন ক্যান্সার কোন কোন কারণে হতে পারে : স্তন ক্যান্সারের এবং যেকোনো ক্যান্সারেরই প্রকৃত কারণ কারো জানা নেই। তবে কিছু কিছু ফ্যাক্টরকে জোরালোভাবে দায়ী করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যেমন ৪০ ঊর্ধ্বে বেশি বয়সে এর ঝুঁকিটা বেশি দেখা যায় বা হয়ে থাকে।
বংশানুক্রমে : এই মাত্র উপরে যা পড়লেন, দু’টি মেয়ের কথা, তাদের পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে দেখা গেল একজনের মায়ের বর্তমানে ক্যান্সার আছে, অন্যজনের বংশেও আছে।
ফ্যামিলিয়াল বা জেনিটিক : ব্রেস্ট ক্যান্সার জিন বিআরসিএ-১ বা বিআরসিএ-২ যেকোনোটা বহন করলে ঝুঁকি থাকে।
মা হওয়ার বয়স : ৩০ বছরের বেশি বয়সে, যদি কেউ মা হয় তবে তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে।
মদ্য পান : মদ্য পান স্তন ক্যান্সারসহ, মুখ, গলাসহ অন্যান্য অর্গানের ক্যান্সার ঝুঁকি বাড়ায়।
ধূমপান : যেসব মা ধূমপানের সাথে জড়িত বা যাদের ঘরে ধূমপায়ী আছে তাদের থেকেও আক্রান্ত হতে পারেন।
সাদা, জর্দ্দা, পান মশলা : এক গবেষণায় দেখা গেছে সুপারি তা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর ধূমপানের চেয়ে সাদা, জর্দ্দা বেশি ক্ষতি করতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন : যাদের শারীরিক ওজন বেশি থাকে, শরীরে মেদের পরিমাণ বেশি থাকে।
অতিরিক্ত ফেটি খাবার : যাদের অভ্যাস আছে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাওয়া, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্য বেশি খাওয়া, যারা শাকজাতীয় খাবার কম খায়, গোশতজাতীয় খাবার বেশি খায়।
অতিরিক্ত রেডিয়েশন : যাদের শরীরে খুব বেশি এক্স-রে করা হয়েছে, যারা খুব বেশি রেডিয়েশন চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের এ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে অন্যদের তুলনায়।
ওষুধের অপব্যবহার : কিছু কিছু ওষুধ ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এ কথাটা শুনলেই অনেকে মনে করেন যে এলোপ্যাথিক ওষুধেই তা করে থাকে, তা ঠিক নয়।
মেনোপজ : দেরিতে মেনোপজ হলেও ঝুঁকি আছে। আবার কেউ মনে করে মেনোপজ আসা মানে যৌন জীবনের পরিসমাপ্তি।
স্তন সিস্ট বা চাকা : দীর্ঘদিন স্তনে সিস্ট থাকলে, যদি বড় হয়ে যায় সাথে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। স্তনের চাকা বা বিনাইন টিউমার যদি এমনি বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং পাশাপাশি অস্বাভাবিক থাকে।
আপনি যেভাবে বুঝবেন স্তন ক্যান্সার হয়েছে : যেকোনো স্তনে প্রথমে এক বা একাধিক ছোট আকারে টিউমার বা চাকা বা ছোট গোটা আকারে দেখা দেয়।
স্তন ক্যান্সার নির্ণয় : আপনি নিজেই আপনার স্তন পরীক্ষা করে দেখেন কোনো রকম অসাধারণতা পরিলক্ষিত হয় কিনা এবং আজকের লিখিত উপসর্গের কোনোটা উপস্থিত আছে কিনা। শুধু টিউমার হলেই ক্যান্সার নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এ ব্যাপারে।
চিকিৎসা : প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে হোমিওপ্যাথিতে সম্পূর্ণ এবং সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। হোমিওপ্যাথিতে বর্তমানে অনেক আরোগ্য দানকারী মেডিসিন রয়েছে যেগুলোর শর্ত হলো প্রাথমিক পর্যায় রোগ নির্ণয়, সঠিক এনামনসিস এবং পাওয়ার, সেবন পদ্ধতি ও নির্বাচন সঠিক হলে ইনশাআল্লাহ ভালো হবেন। প্রয়োজনে সার্জেক্যাল চিকিৎসা নিতে হবে। ক্যামোথেরাপি, রেডিওথ্যারাপি সাহায্য করতে পারে।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় : ১. যত তাড়াতাড়ি আপনার রোগ ধরা পড়বে তত তাড়াতাড়ি সুচিকিৎসা সম্ভব।
২. স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। ৩. অতি লজ্জা চেপে যাওয়া থেকে বিরত হয়ে গার্ডিয়ান/চিকিৎসককে বিস্তারিত জানাতে হবে। ৪. বয়ঃসন্ধি কাল শুরু থেকে নিয়মিত নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করতে হবে। ৫. প্রতি বছর চিকিৎসক দ্বারা আলট্রাসনোগ্রাম/মেমোগ্রাফি করানো উচিত।
লেখক : অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ। চেম্বার : দি সিটি হোমিও ইন্টারন্যাশনাল, ২৩ জয়কালী মন্দির রোড, ঢাকা।
ফোন : ০১৯১২৮৪২৫৮৮।

 


আরো সংবাদ