২১ নভেম্বর ২০১৯

স্বা স্থ ্য ত থ্য

-

বার্ধক্য প্রতিরোধে জিন প্রযুক্তি

বার্ধক্য প্রতিরোধের চেষ্টায় বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই। সম্প্রতি ইতালির একদল বিজ্ঞানী ইঁদুরের দেহে এমন একটি জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা এর জীবনচক্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক। এ থেকে বার্ধক্য ও মৃত্যুর জিনগত কারণ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। মানবদেহে এ রকম জিনের প্রভাব সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা না গেলেও গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের দেহে এই জিনের সন্ধান পাওয়াকে একটি মাইলস্টোন বলে অভিহিত করেছেন। তাদের ধারণা, এই জিন থেকে একদিন এমন ওষুধ আবিষ্কার হবে, যা মানবদেহে বার্ধক্য প্রতিরোধ করবে। সন্ধান পাওয়া এই জিন এমন একটি প্রোটিন তৈরি করে, যার মাধ্যমে বার্ধক্য প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এই জিনের সন্ধান পেয়েছেন মিলানের ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব অনকোলজির বিজ্ঞানী পিয়ের গিউসিপ্পি পেলিসি। তার সাথে রয়েছেন ইতালির পিরুজিয়ার ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি এবং নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোরান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারের বিজ্ঞানীগণ।
স্মৃতিশক্তি হ্রাসের কারণ

বুদ্ধি কখনোই বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয় না, তাহলে তো আইনস্টাইনের বংশধর হতেন দ্বিতীয় আইনস্টাইন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বুদ্ধির বিকাশ ঘটে পরিবেশের সহায়তায়। বুদ্ধির সাথে স্মৃতিশক্তির সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ। স্মৃতি বাড়লে যেমন বুদ্ধি বাড়ে, ঠিক তেমনি কমলে বুদ্ধি কমে। ব্যাপারটি অনেকটা এ রকম যে, কোনো কিছু পড়ে, দেখে ও শুনে শিখলে তা স্মৃতির ভাণ্ডারে জমা হয়। এরপর যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে ওই শিক্ষা কাজে লাগে, কিন্তু এ জন্য প্রয়োজন স্মৃতি। স্মৃতিশক্তি কমে গেলে তাই বুদ্ধিও কমে যায়। অনেক অসুখের ফলে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। এ রকম অনেক ভিটামিনের অভাবেও হতে পারে।
স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধি কমে যাওয়ার কিছু কারণ : হাইপোথাইরয়েডিজম, মিক্সিডিমা, ক্রেটিনিজম, বার্ধক্য, অতিপরিশ্রম, রক্তস্বল্পতা, কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের পরবর্তী সময়, মাদক ব্যবহার, ভিটামিন বি-১২-এর অভাব, মস্তিষ্কের সংক্রমণজনিত অসুখ, ভাইরাল ইনফেকশন, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বা ফুসফুসের অসুখ থাকলে স্মৃতি কমতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের কারণেও স্মৃতিশক্তি কমতে পারে।
মাইগ্রেন সমস্যা

মাইগ্রেন হচ্ছে একধরনের অসহ্য মাথাব্যথা। এ মাথাব্যথা এত তীব্র যে, রোগী আলো ও শব্দ পর্যন্ত সহ্য করতে পারে না। এতে রোগীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। রোগী হতাশায় ভোগে। এ ধরনের মাথাব্যথা হ্রাস করতে অ্যাসপ্রিস ডিসপ্রিন খুব কার্যকর নয়।
মাইগ্রেন যেকোনো বয়সে হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হয়। আবার অনেকের ৫০ বছর পর হলে আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। কারো কারো মাসে দু-তিনবার এটি হয়। আমাদের দেশে ৭৫ শতাংশ মহিলার মাইগ্রেন দেখা যায়। মাইগ্রেনের কারণ আজো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে অনুমান করা হয়, বিভিন্ন পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার চাপে রোগীর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে যে প্রতিক্রিয়া হয়, তার ফলে মাইগ্রেন হয়। তবে রোগীদের ইতিহাস থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ মাইগ্রেন রোগী এই রোগ তাদের পিতামাতা বা বংশ থেকে পায়।
মাইগ্রেনের লক্ষণ : মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশ থেকে শুরু হয়। পরে সারা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখ লাল হয়ে যায়। মাথা দপদপ করে। বমিবমি ভাব, কখনো বমি হতেও পারে। বমির পর মাথাব্যথা কিছুটা হ্রাস পায়। মাথাব্যথা এক থেকে দু’ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কারো কারো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। আবার অনেকের কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। হাত-পায়ে ঠাণ্ডা অনুভূত হতে পারে। শরীর ঘেমে উঠতে পারে। কিন্তু এই ব্যথা যে মাইগ্রেন, তা নিশ্চিত হতে বিভিন্ন প্রকার টেস্ট করাতে হয়। অন্যথায় ভুল চিকিৎসা হতে পারে।
মাইগ্রেনের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করতে হলে বলতে হয় প্রোফাইলেকটিক ও অ্যাবোটিভ চিকিৎসার কথা। যেমন, রোগী যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয় তবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। তীব্র ব্যথা হলে সোমাটিপটিন ইঞ্জেকশন বা ট্যাবলেট দিলে ভালো কাজ করে। ব্যথা বারবার হলে প্রোফাইলেকটিক বা এমিট্রিপটাইলিন দেয়া হয়। বস্তুত মাইগ্রেন চিকিৎসায় এখন অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মস্তিষ্কের খাবার

আপনার মস্তিষ্ক সচল রাখতে অবিরাম জ্বালানি প্রয়োজন। আর এ জন্য দিনে দু’বার বা তিনবার বড় ধরনের খাবারের বদলে বারবার অল্প করে খাবার খাবেন। বেছে নেবেন পুষ্টকর খাদ্য। যেমনÑ তাজা ফলমূল, শাকসবজি, খাদ্যশস্য, শিম, মুরগির গোশত এবং মাছ-ভাত। পানি পান করবেন প্রচুর পরিমাণে। আপনার মস্তিষ্কের কাজের জন্য প্রচুর পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। মানসিক চাপে আপনার মস্তিষ্ক পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই যখনই আপনি ক্লান্ত থাকবেন, দুশ্চিন্তায় থাকবেন কিংবা চাপের মধ্যে থাকবেন তখন অতিরিক্ত পানি পান করবেন। কফি ও কোলা সীমিত পরিমাণ গ্রহণ করবেন। কারণ এসব পানীয়তে ক্যাফিন থাকে, যা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবারে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি। আপনার স্নায়ু ও মস্তিষ্কের দৈনন্দিন কাজ চালাতেও প্রয়োজন হরেক রকম পুষ্টি। আর এ কারণে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করতে হবে। পুষ্টির জন্য খাদ্যই হলো চমৎকার উৎস। ওষুধ নয়, খাদ্যকেই অগ্রাধিকার দেবেন। প্রয়োজনে পরামর্শ নেবেন চিকিৎসকের।
ষ ডা: রুমানা চৌধুরী

 


আরো সংবাদ