১৫ নভেম্বর ২০১৯

ওষুধের মাধ্যমে পাইলস রোগের চিকিৎসা

-

অর্শ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আছে। এর যথেষ্ট কারণও আছে। এ রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা, কুসংস্কার, অপপ্রচার ও অপচিকিৎসা আরো বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ চায় সুষ্ঠু স্বাভাবিক কষ্টমুক্ত সুন্দর চিকিৎসা। চিকিৎসক নন অথচ অনেকেই পাইলসের বিশেষজ্ঞ। আশ্চর্য যে, এদের মধ্যে কেউ কেউ অর্ধশিক্ষিত; আবার চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। এদের ভুল চিকিৎসা অনেক সময় রোগীর জীবনে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসক রোগ আরোগ্য করতে না পারলেও রোগীর ক্ষতি সাধন করার কোনো অধিকার রাখেন না।
অর্শ রোগের সাথে অনেকেই কমবেশি পরিচিত। মলদ্বারের ভেতর বা বাইরে মাংসপেশির মধ্যে অস্বাভাবিক জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তন দ্বারা সৃষ্ট অতিরিক্ত মাংশপিত্ত বিশেষÑ যাকে আমরা চরষবং বা অর্শ বলে থাকি। এতে মলদ্বারে ব্যথা ফোলা, জ্বালা-যন্ত্রণা, টানাটানি, অস্বস্তি, কোমরে ব্যথা, খাদ্যে অরুচি ও অনিদ্রা দেখা দেয়। আর কোষ্ঠকাঠিন্য এ রোগের কষ্টদায়ক যন্ত্রণাকে আরো তীব্রতর করে তোলে। আবার কখনো মলদ্বারের ভেতর হেমোরয়েড নামক রক্তনালীতে স্ফীতি ঘটে। যাকে ঐধবসড়ৎৎযড়রফবং বা রক্তার্শ বলা হয়। মলত্যাগের সময় চাপ প্রয়োগে যা ফেটে যায়। এতে মলদ্বার দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা অথবা ফিনকি দিয়ে রক্তপাত হয়। বাহ্যকষা হলে রক্তপাত এবং জ্বালা-যন্ত্রণা বাড়ে। আবার অধিক রক্তপাত হলে রোগী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। এ অবস্থায় তখন দেহে রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
অর্শ রোগের কারণগুলো জানা দরকার। অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, অধিক গুরুপাক, ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ, মদ্যপান, বদ্যাভ্যাস যেমনÑ মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মল পরিষ্কারের চেষ্টা করা, গর্ভকালীন মলাশয়ে অধিক চাপ, বিশেষত : কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়, গুঁড়াকৃমি, যকৃতের গোলযোগ, পাক-আন্তিক গোলযোগ এবং মলদ্বারের মাংসপেশির দুর্বলতা। তা ছাড়া, বংশগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে।
অর্শ রোগ যেকোনো বয়সের লোকেরই হতে পারে। তবে বয়স্কদের মধ্যে এ রোগের বিস্তার অধিক। আবার শিশু বয়সে চৎড়ষধঢ়ংব ড়ভ জবপঃঁস বেশি দেখা যায়। আর মহিলা অপেক্ষা পুরুষের ফিশটুলা বা ভগন্দর রোগ বেশি। তবে ইদানীং মেয়েদের প্রসব উত্তর জবপঃড়-টধমরহধষ ঋরংঃঁষধ রোগ বাড়ছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
সাধারণত মানুষ মলদ্বারের রোগ বলতে কেবল অর্শ রোগকেই বোঝেন। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। মলদ্বারের এক ইঞ্চি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়। যেমন- চরষবং (অর্শ), ঐধবসড়ৎৎযড়রফং (রক্তার্শ), ঋরংঃঁষধ (ভগন্দ বা নালীযুক্ত ক্ষত), ঋরংংঁৎব (মলদ্বার বিদারণ ), চৎড়পঃরঃরং (মলদ্বারের প্রদাহ), ঝঃবহড়ংরং ড়ভ জবপঃঁস (মলনালীর সঙ্কীর্ণতা), চৎঁৎরঃঁং অহর (মলদ্বারে চুলকানি), চৎড়ষধঢ়ংব ড়ভ জবপঃঁস (মলনালীর স্থানচ্যুতি), চৎড়পঃধষ ঈধৎপরহড়সধ (মলাশয়ের ক্যান্সার), রোগীর অজ্ঞতা ও অসাবধনতা এবং কখনো চিকিৎসার ক্রটির কারণে এ সব রোগের জটিলতা বাড়ে।
অর্শ রোগের প্রাথমিক অবস্থায় কেবল পরামর্শ দিয়েও উপশম হতে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি পরিবর্তন করুন। গুরুপাক খাবার, অতিরিক্ত তৈল, ঝাল, ভাজা-পোড়া এবং এলার্জি সৃষ্টিকারী খাবার পরিহার করুন। বিশেষত যাদের বংশে পাইলস ফিশটুলা রোগ আছে, তারা গরুর মাংস খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিন। এ রোগে সাইকেল চালনা ক্ষতিকর। রক্তপাত অবস্থায় দীর্ঘপথ ভ্রমণ, অধিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা করা উচিত নয়। বিশ্রামে থাকুন এবং লঘুপাচ্য খাবার খান। সবসময় কোষ্ঠকাঠিন্যমুক্ত থাকতে হবে। তা না হলে রোগের যন্ত্রণা কমবে না। এ জন্য শাকসবজি বেশি করে খাবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করার অভ্যাস করুন। রাতে শয়নকালে ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি এক গ্লাস গরম দুধ অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খাবেন। মনে রাখবেন; সঠিক পথ গ্রহণ রোগ আরগ্যের জন্য বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
যথাযথ রোগ নির্ণয় এবং সঠিক কারণ নির্ধারণ করে আরামদায়ক ও নিরাপদ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। কারণ এটি একটি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাপদ্ধতি। তবে এ ক্ষেত্রে মলদ্বারে সরাসরি ঈড়ৎৎড়ংরাব ফৎঁম প্রয়োগ যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এতে জবপঃধষ ংঢ়যরহপঃবৎ এবং ঘবৎাড়ঁং চষবীঁং বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লেখক : সাবেক সহকারী অধ্যাপক, হাকীম হাবিবুর রহমান ইউনানী মেডিক্যাল কলেজ
ফোন : ০১৭১৫৩৪০৯৫৩


আরো সংবাদ

রোহিঙ্গা গণহত্যা : তদন্তের অনুমতি দিলো আইসিসি আগুন নেভাতে সাহসী ভূমিকা রাখা ১৬ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিলো হোটেল কস্তুরি ঘুষ সন্ত্রাস মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশ-নেপাল যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর পরামর্শ রাষ্ট্রপতির মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই... সর্বদা আল্লাহর জিকিরে থাকতে হবে : আল্লামা শফী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, তাকে জামিনে মুক্তি দিন রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত ৩০ বছর পর সগিরা হত্যার রহস্য উদঘাটন : চার আসামি গ্রেফতার ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে সরকার খতিয়ে দেখবে : প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর পরিবারের আয়কর ৭ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা

সকল