২০ আগস্ট ২০১৯

বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা এক দশকে সর্বনিম্ন : অ্যামনেস্টি

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমেছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০১৭ সালের তুলনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার গতবছর ৩১ ভাগ কমেছে।

বিশ্বের ২০টি দেশের তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন বলছে, ২০১৮ সালে ঐ দেশগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ছিল ৬৯০, যা ২০১৭ সালে ছিল কমপক্ষে ৯৯৩টি।

শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আইনজীবী চিয়ারা সানগিওরগিও।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, চীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা সম্ভব না হলেও দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া ৬৯০টি মৃত্যুদণ্ডের ৭৮ ভাগ ঘটেছে ইরান, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও ইরাকে।

এদিকে, যে দেশগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হার লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে সেগুলো হলো ইরান, ইরাক, পাকিস্তান ও সোমালিয়া। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৭ সালে ইরানে মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা ছিল ৫০৭, যা ২০১৮ সালে ৫০ ভাগ কমে ২৫৩ তে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ইরাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার কমেছে শতকরা ৫০ ভাগের বেশি, পাকিস্তানে কমেছে শতকরা ৭৫ ভাগ ও সোমালিয়াতে কমেছে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ।

২০১৮ সালের পরিসংখ্যানে সংস্থাটি বাহরাইন, বাংলাদেশ, জর্ডান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ফিলিস্তিন ও আরব আমিরাতকে যুক্ত করতে পারেনি, যদিও ২০১৭ সালে তারা এ দেশগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করেছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, বতসোয়ানা, সুদান, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ড গত বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান আবারো চালু করেছে।

মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত ডিসম্বরে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত বিষয়ক এক প্রস্তাবে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১২১টি সদস্যরাষ্ট্র সম্মতিসূচক ভোট প্রদান করে। ৩৫টি দেশ এ বিষয়ক প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে আর ৩২টি দেশ এ বিষয়ে ভোট দানে বিরত থেকেছে।

তবে পুরো বিষয়টিকে মৃত্যুদণ্ড বাতিল বিষয়ক প্রচারণার সফলতা হিসেবে দেখছে এটি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আইনজীবী সানগিওরগিও বলেন, প্রতিবেদনটির মূল বার্তা হচ্ছে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা কমে আসছে।

 

আরো পড়ুন : সমালোচকদের জন্য মিসর উন্মুক্ত কারাগার : অ্যামনেস্টি
আলজাজিরা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে মিসর কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সাথে যে আইনের দ্বারা মিসরের নাগরিকদের বাকস্বাধীনতাকে কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে সে আইনটিকেও বিলুপ্ত করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিসর, সমালোচকদের জন্য এক উন্মুক্ত কারাগার’ নামে একটি প্রচারণা শুরু করে। সংস্থাটি বলেছে, মিসরবাসী এখন অভূতপূর্ব কঠোরতার মধ্যে তাদের দিন অতিবাহিত করছেন। পুরো দেশে এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চেপে ধরা হয়েছে। 

অ্যামনেস্টি জানায়, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি ও দেশটির সাধারণ মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১১১ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রচারণা পরিচালক নাজিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন মিসরে সরকারের সমালোচনা করা অনেক বেশি বিপজ্জনক। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সিসির শাসনামলে দেশটির নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ করতে চাইলে তাদেরকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তিনি মিসরের নিরাপত্তাবাহিনীকে নিষ্ঠুর বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তারা নির্মমভাবে স্বাধীন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জায়গাগুলোতে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের ৩০ বছরের দমনমূলক শাসনকালের চেয়েও এ পদপেগুলো অনেক কঠোর, যা সমালোচকদের জন্য মিসরকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে।’ মিসর সরকার অ্যামনেস্টির এই বিবৃতির ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কায়রো সব সময় অপেশাদারি আচরণ ও শত্রুপক্ষের হাতের পুতুল হিসেবে কাজ করার জন্য অ্যামনেস্টি বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অভিযুক্ত করে থাকে।


আরো সংবাদ