২০ আগস্ট ২০১৯

কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা!

বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও। উদ্দেশ্য পূরণে যে অর্থ দরকার তা অনেক ক্ষেত্রেই পায় না সংস্থাটি। কিন্তু তাতে কর্মকর্তাদের বিলাসিতার ঘাটতি হয় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতে তারা নিয়ম ভেঙ্গে উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করেন, শেষ মুহূর্তে চড়া দামের টিকেট কেনেন, এমনকি ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়ার যথাযথ প্রক্রিয়াও অনুসরণ করেন না। ২০১৭ সালের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ডাব্লিউএইচও-র কর্মকর্তারা ভ্রমণ বাবদ মোট ১৯ দশমিক দুই কোটি ডলার বা প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

এ নিয়ে ডাব্লিউএইচও-র পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, খরচের ৫৫ ভাগই ব্যয় হয়েছে সংস্থার বাহিরের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন দেশের আবাসিক প্রতিনিধিদের পেছনে। উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দিতে আসার কারণে এই খরচ করতে হয়েছে। তবে ভ্রমণ খরচ কমানোর জন্য গত বছর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মোট বাজেট প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই সদস্য দেশগুলোর সরকারের দেয়া সহায়তা থেকেই আসে। চলতি সপ্তাহে সংস্থাটির বার্ষিক সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সেখানে দাতাসংস্থা ও সদস্য দেশগুলোর কাছে ইবোলাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় আরো বড় অঙ্কের অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে তারা।

শুধু ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই ৫ কোটি ডলার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও। ঠিক এই সময়ে কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের হিসাব ফাঁস হওয়ায় এই টাকা পাওয়াটা এখন কঠিন হতে পারে।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোফি হারম্যান বলেন, তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রায় খরচ কমাতে না পারায় তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে নতুন করে অর্থ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে। ‘‘ইবোলার জন্য আমাদের আরো অর্থ প্রয়োজন– এটি বলার আগে ডাব্লিউএইচওকে নিজেদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে,'' বলেন হারম্যান। ডয়েচে ভেলে।


আরো সংবাদ