১০ ডিসেম্বর ২০১৯

কাশ্মির আসাম ও রাখাইন নিয়ে জাতিসঙ্ঘের বক্তব্য

কাশ্মির আসাম ও রাখাইন নিয়ে জাতিসঙ্ঘের বক্তব্য - ছবি : সংগৃহীত

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচিলেট ভারতের কাশ্মির ও আসাম এবং মিয়ানমারের রাখাইনসহ অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে আলাপ করা, আসামের নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের আপিল যথাযথভাবে নিষ্পত্তি ও রাষ্ট্রহীনতা থেকে রক্ষা করা এবং মিয়ানমারে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেনেভায় গতকাল সোমবার জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪২তম অধিবেশনের উদ্বোধনীতে মিশেল ব্যাচিলেট এই অভিমত ব্যক্ত করেন। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জাতিসঙ্ঘের গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কাঠামোর (আইআইএম) প্রধান নিকোলাস কোমজিয়ান এই অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক আইনজীবী নিকোলাস কোমজিয়ানকে গত এপ্রিলে আইআইএমের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেয় জাতিসঙ্ঘ।

মিশেল ব্যাচিলেট বলেন, কাশ্মিরে স্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার, সমাবেশে বাধা ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়াসহ ভারত সরকারের নেয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মানবাধিকারের ওপর প্রভাব নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে আমি ভারত ও পাকিস্তানÑ উভয় দেশকেই আহ্বান জানাচ্ছি। মানুষের মৌলিক সেবাগুলো পাওয়ার জন্য কারফিউ প্রত্যাহারসহ কাশ্মিরের অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এমন যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে আলাপ করে নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আসামের নাগরিকপঞ্জি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া এসব মানুষের আপিল যথাযথভাবে নিষ্পত্তি ও রাষ্ট্রহীনতা থেকে রক্ষা করতে ভারত সরকারের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি।

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের হাইকমিশনার বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতা এবং তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। রাখাইন রাজ্যে এখন আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সঙ্ঘাত চলছে। এটি নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন কঠিন করে তুলেছে। কাচিন ও শান রাজ্যে সঙ্ঘাত মানুষের কষ্ট বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন মানবাধিকার পরিষদের চলতি অধিবেশনে প্রতিবেদন দেবে। এ প্রতিবেদন বিশ্বকে এসব সঙ্কট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।

সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধের জবাবদিহিতা অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের স্বাধীন তদন্ত কাঠামো প্রধানের বক্তব্য : নিকোলাস কোমজিয়ান বলেন, বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে মিয়ানমারে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। চলতি মাস থেকে মিয়ানমারের তথ্যানুসন্ধান দলের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছি। এই উপাত্তগুলো আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপনযোগ্য করার মানদণ্ড নিশ্চিত করা আমাদের কাজ। সুষ্ঠু ও স্বাধীন বিচারকাজে সহায়তা দেয়া আইআইএমের উদ্দেশ্য। ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ নিয়ে কাজ করা আইআইএমের ম্যান্ডেট, যার ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। তিনি বলেন, জাতি, গোত্র, বর্ণ, ধর্ম বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা আমরা করব। তবে প্রতিটি অপরাধ তদন্ত করার সক্ষমতা আমাদের নেই। উল্লেখযোগ্য অপরাধগুলোর প্রতি আমাদের নজর থাকবে। আমাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ, নাগরিক সমাজ ও ভিকটিমদের অবহিত করা হবে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর আইআইএমের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে উল্লেখ করে নিকোলাস কোমজিয়ান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মিয়ানমারে প্রবেশাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একাধিকবার এ জন্য মিয়ানমারের সহযোগিতা চেয়েছি। আঞ্চলিক সহযোগিতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ভ্রমণ করে সরকার ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনা ও ভিকটিমদের সাথে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা আমার রয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘে মিয়ানমারবিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি ও জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদন উত্থাপন করবে।

 


আরো সংবাদ