১৯ অক্টোবর ২০১৯

দেশ উন্নত হতে হবে শিক্ষার ভিত্তিতে : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী - সংগৃহীত

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, দেশের উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত শিক্ষা খাতের। কিন্তু অনেক দিন ধরে তা হচ্ছে না। বাজেটে শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি বলেন, শ্রমের ভিত্তিতে নয় শিক্ষার উন্নতির মাধ্যমেই দেশকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। আর শিক্ষার উন্নতির জন্য, শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সবার আগে দরকার ভালো মানের শিক্ষক। আর ভালো মানের শিক্ষক ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে সর্বস্তরের শিক্ষকদের আর্থিক সমস্যার সমাধান করা এবং সর্বক্ষেত্রে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর এমিরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী শনিবার টেলিফোনে দৈনিক নয়া দিগন্তকে এসব কথা বলেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা খাতের গুরুত্ব এবং এ খাতের সমস্যা দূরীকরণ বিষয়ে এ শিক্ষাবিদ বলেন, জাতীয়করণ ছাড়া এ খাতের শিক্ষার উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও কলেজগুলো জাতীয়করণ করা দরকার। তাহলে মেধাবীরা শিক্ষকতায় এগিয়ে আসবেন। এ খাতের শিক্ষার উন্নতি হবে এবং সমস্যাও দূর হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি আর্থিক সমস্যায় ভোগেন, তারা যদি বেতনভাতা না পান তাহলে তারা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাবেন কিভাবে আর শিক্ষার মানই বা বাড়বে কেমন করে? তাই শিক্ষার মান বাড়াতে হলে শিক্ষকদের সমস্যা দূর করতে হবে। 

দেশের উচ্চ শিক্ষার সমস্যা, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেশের নামকরা অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের অবনতি, শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশিষ্ট এ শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাই হওয়া উচিত যোগ্যতার মাপকাঠি। অন্য কিছু বিবেচনায় আনা উচিত নয়। যোগ্য আর মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে না পারলে উচ্চশিক্ষা কেন কোনো ক্ষেত্রেই শিক্ষার মান বাড়ানো যাবে না। 

সার্বিক শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয় না। যা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। দেশের উন্নয়নের জন্য বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া দরকার। বাজেটের কমপক্ষে ২০ ভাগ বরাদ্দ রাখা উচিত শিক্ষা খাতে। 

চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ তিন ভাগ। অনেক বছর ধরেই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। 

প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই মেধাবীদের শিক্ষকতায় আসার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক স্তর হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যাদের টাকা পয়সা আছে তারা তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করাতে চান না। এ সমস্যা দূর করা উচিত। তবে বর্তমানে রাজধানীর অনেক এলাকায় সরকারি কোনো প্রাইমারি স্কুল নেই। অনেকে চাইলেও সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে পারেন না তাদের সন্তানদের। অনেকে বাধ্য হন বিপুল অর্থ ব্যয়ে বেসরকারি স্কুলে পড়াতে। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বিষয়ে প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জাতীয়করণ করা মানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদমই থাকবে না তা নয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে। আর আর্থিক সমস্যা দূর করার জন্য সরকার যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে শিক্ষানুরাগীরা এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক মনোভাব নয়; শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবিক উন্নয়ন। 

পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতির পুনর্গঠনের প্রস্তাব বিষয়ে প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আমাদের মনোযোগ দেয়া উচিত শিক্ষার মানোন্নয়নে। শিক্ষকদের মানোন্নয়নে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা দূর করার বিষয়ে। এসব হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

গ্রেডিং পদ্ধতি দিয়ে শিক্ষার মান বাড়ে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বরং অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গ্রেডিং পদ্ধতি যখন চালু করা হয়েছিল তখন যেভাবে এটা করা হয়েছিল সেটা ঠিক হয়নি। দশমিক পর্যন্ত ব্যবহার করে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। সেটা যদি দূর করা যায় তবে ভালো।


আরো সংবাদ