২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আদর্শ মহামানব মহানবী সা:

-

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের তাঁর খলিফা হিসেবে অত্যন্ত ভালোবেসে তাঁরই ইবাদত ও বন্দেগি করার জন্য এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আমরা কিভাবে এই ইবাদত-বন্দেগি করব তার জন্য তিনি যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে রাহমাতুল্লিল আলামিন, সরওয়ারে কায়েনাত এবং সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হলেন সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবনে রয়েছে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। পুত্র দেখতে পাবে তাঁর মাঝে মাতৃ-পিতৃভক্ত আদর্শ পুত্রের সর্বোত্তম চরিত্র। পিতা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে ক্ষমতাশীল কর্তব্যপরায়ণ আদর্শ পিতার চরিত্র। স্বামী দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে স্ত্রী-অনুরাগী আদর্শ স্বামীর চরিত্র। ব্যবসায়ী দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে সত্যবাদী আদর্শ ব্যবসায়ীর চরিত্র। যোদ্ধারা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে আদর্শ যোদ্ধার চরিত্র। সেনাপতিরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে রণকৌশল, স্থির মস্তিষ্ক ও বীর সেনাপতির চরিত্র। জনসেবকেরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে আদর্শ জনসেবকের চরিত্র। বিচারকেরা দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে ন্যায়-নিরপেক্ষ বিচারকের চরিত্র। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহামানব বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা:-এর অনুপম আদর্শ বিদ্যমান।
মহানবী সা: যখন এ ধরায় শুভাগমন করেন সেই যুগ ছিল আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ। সে সময়ে গোটা জাতির ওপর অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার, অস্থিরতা, নৈরাজ্য, স্থবিরতা জেঁকে বসেছিল। আরব দেশে বিরাজ করছিল অসংখ্য সঙ্কট ও সমস্যা। যুদ্ধ-সঙ্ঘাত, রক্তপাত ছিল তখন নিত্যদিনের ঘটনা। সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়, মিথ্যা, অসত্য, কুসংস্কার, কুপ্রথা, বিভ্রান্তি, নারী জাতির অবমাননা, শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, ধর্মের নামে অধর্ম প্রভৃতি এমন কোনো দিক ছিল না যেখানে অবক্ষয় ও সঙ্কট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি। এমনই এক পরিবেশের মধ্যে শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের পয়গাম নিয়ে তিনি আগমন করেছিলেন। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সা:-এর মাধ্যমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রদত্ত দ্বীন ইসলামের পূর্ণতা বিধান করেছেন। বিশ্বনবী সা: তাঁর ২৩ বছরের সাধনায় নির্মাণ করেছিলেন জুলুম, শোষণ ও অবিচারমুক্ত একটি খেলাফতি রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাঁর খেলাফতি রাষ্ট্রব্যবস্থা গোটা মানবজাতির জন্য আদর্শ হয়ে আছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম বিশ্ব মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। মহানবী সা:-এর জীবনাদর্শ গ্রহণ ব্যতীত ইহ ও পরকালে মুক্তি অর্জন সম্ভবপর নয়। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সা:-এর জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ (সূরা আহজাব : ৩৩/২১)। আল্লাহ তায়ালা আরো এরশাদ করেন, আপনি অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী (সূরা কালাম : ৪০)। অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, হে নবী আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাতে আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপ মাফ করবেন (সূরা নূর : ৫৪)। যারা নবী সা:-এর বিরোধিতা করবে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, যারা নবী সা:-এর আদর্শের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের স্পর্শ করবে, যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে (সূরা নূর : ৬৩)। নবী সা:-এর চরিত্র সম্পর্কে হজরত আয়েশা রা: বলেন, স্বয়ং কুরআনই রাসূল সা:-এর চরিত্র। অর্থাৎ কুরআন কারিমে যেসব উত্তম কাজকর্ম ও মহৎ চরিত্র শিক্ষা দেয় সেসবের বাস্তব নমুনা।

লেখক : প্রিন্সিপাল, শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুল, মৌলভীবাজার


আরো সংবাদ